মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০১২, ১৩ মাঘ ১৪১৮
শেষ হলো নাট্যজন নাট্য উৎসবের ৭ নাটক
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে আয়োজিত নাট্য উৎসবের সমাপনী দিনে মঞ্চস্থ হয় কলকাতার নাট্যদল লোককৃষ্টির নাটক ‘ইহাই সত্য’। এছাড়াও মঞ্চস্থ হয় থিয়েটারের (বেইলি রোড) ‘বারামখানা’, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘গোলাপজান’, প্রাঙ্গণেমোরের ‘শেষের কবিতা’, পদাতিক নাট্য সংসদের ‘বাংলাদেশের সে’, প্রাচ্যনাটের ‘রাজা’, সময়ের ‘শেষ সংলাপ’, লোক নাট্যদলের (সিদ্ধেশ্বরী) ‘লীলাবতী আখ্যান’ ও নাট্যজনের নাটক ‘ভুবনের ঘাটে’।
এ উৎসব থেকে নাট্যামোদীদের মতে নিঃসন্দেহে উচ্চারণ করা যায়, মঞ্চনাটক আমাদের ¯^াধীনতা অর্জনের অন্যতম সেরা ফসল সেরা হাতিয়ার।
¯^াধীনতার ৪০ বছর পেরিয়ে ৪১ বছরে পা দিয়ে মঞ্চ নাটকের অর্জনের দিকে তাকিয়ে সামনের দিকে এগুলে মঞ্চনাটকের হালচাল আশাব্যঞ্জক। স্বাধীনতার মতো দীপ্ত একটি শব্দের জন্য আমাদের নাট্য অভিপ্রায়কে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে মঞ্চনাটক এখন নিয়মিতভাবে চর্চিত একটি শিল্প মাধ্যম। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী তিনটি মিলনায়তনে একযোগে চলে এ উৎসবটি। প্রতিটি নাটকই ছিল বাস্তববাদী, চেতনাদায়ী যার মধ্যে ছিল মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষাজীবন, ভাব জীবন ও পুরনো দিনের কুসংস্কার কিভাবে দূরে সরিয়ে দিতে হবে তার জ্বলন্ত প্রমাণ। দর্শক প্রাণখুলে এ উৎসবের প্রতিটি নাটকই উপভোগ করে।
যেমন ঢাকাগামীর নাটক ‘ছায়াবৃক্ষ’ রচনা তানভীর আহাম্মেদ সিডনি নির্দেশনা ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু, আর নাটকের সারসংক্ষেপ চা বাগানের কুলিরা প্রতিবছর আয়োজন করে টুসু পূজার। কিন্তু এ বছর পূজাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় সঙ্কট। আর এ সঙ্কট সমাধানে এগিয়ে আসেন চা বাগানের ম্যানেজার। পূজার মূর্তি ম্যানেজারই তৈরি করে দেবেন এমনটাই ঠিক হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারে না শ্রমিকরা। এই টানাপোড়েনের ভেতর উঠে আসে নাটকের আরেকটি চরিত্র তুলি। সে খুঁজতে থাকে এমন একজনকে যে তাদের জীবনে নিয়ে আসবে সব আশার প্রদীপ। কিন্তু জীবনের নানা সমস্যায় জড়িয়ে হারিয়ে যায় আশার প্রদীপ তুলি। অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এভাবেই এগিয়ে চলে নাটকটি। নাটকটি কথা নাট্যের আদলে রচিত।
শিল্পকলা একাডেমীর স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয় নাটকটি। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে ম আবু হারুন টিটো, আবদুল আহাদ বাবু, সাফী, বন্ধন, রমন, হামিদ, মিতু, সানি প্রমুখ। একই উৎসবের প্রাচ্যনাটের নাটক ‘রাজা’ পরী¶ণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হলো আজাদ আবুল কালামের নির্দেশনায়। প্রাচ্যনাট প্রযোজিত নাটক রীবন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রাজা’। বাংলা সাহিত্য ও শিল্প অঙ্গনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার নিজের সংশ্লিষ্ট ভাবনাগুলো বিশ্লেষণের, সংমিশ্রণে আজকের বিশ্বকে দেখানোর প্রয়াস নাটক ‘রাজা’ গণতন্ত্র। সন্ত্রাস দমন, মানবতাবাদ ইত্যাদির দোহাই দিয়ে সমগ্র বিশ্বকে সামাজিক, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক দিয়ে আমেরিকার কব্জায় নিয়ে আসার অপকৌশল এ নাটকে কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছে।
কিছু প্রতীকী চরিত্রের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন এ নাটকে কেটেছেঁটে দেয়া হয়েছে অনেকটাই। নাট্যামোদীদের মতে, এ নাটকের আলোক প্র¶েপণে ছিল নিপুণ হাতের ছোঁয়া। আবহসংগীত মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেছে দর্শক-শ্রোতারা। কোরিওগ্রাফি আরও বোধগম্য করা যেত। যেহেতু মঞ্চ সবাই দেখে না, নাট্যবোদ্ধারাই নাটকের সিংহভাগ দর্শক সেহেতু নৃত্য আরও আকর্ষণীয় করা যেত। মাঝে মাঝে রবীন্দ্র নাটক থেকে নৃত্য ছিটকে পড়েছে। লাঠিয়ালের দৃশ্যটায় নাসির উদ্দিন মাহমুদ সম্রাট সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। নেপথ্যে কলাকুশলীদের মধ্যে রাজা নাটকে যাদের সাফল্যের কথা উল্লেখ না করলেই নয়Ñতাঁরা কার্তিক, প্রীতি, বাকার, বকুল ও জাহাঙ্গীর, আফসানা মিমি, রুবাইয়া মঞ্জুর, সানজিদা আনোয়ার নজরকাড়া অভিনয় করেছেন। ঠাকুর দার চরিত্রে সাখাওয়াত হোসেন রিজবীর সংলাপ প্র¶েপণ দর্শক শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁতে পারেনি। যদিও সংলাপগুলো হৃদয় ছোঁয়ার মতো। নাটক শেষে মূল ফটকে দেখা টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর সিরাজকান্দী বাগানবড়ি ও সারপলিশার উদীয়মান নাটক পাগল আব্দুল হাই সরকার ও আব্দুল মমিন সরকারের সাথে। বলেন, আফসানা মিমির সংলাপে অন্ধকার এবং লজ্জা উচ্চারণ সঠিক হয়নি। তাই মনে কষ্ট পেয়েছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান। আরও বলেন যে কোন নাটক সফল মঞ্চায়নের নিয়মিত মহড়ার বিকল্প নেই।
আজ শেষ হচ্ছে রংপুরে ভাওয়াইয়া উৎসব
২৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া তিনদিন ব্যাপি ভাওয়াইয়া উৎসব আজ শেষ হচ্ছে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে ভাওয়াইয়া অঙ্গন। আমাদের দেশের ঐতিহ্য ভাওয়াইয়া গান। ভাওয়াইয়া গানের বিস্মৃতি থেকে র¶ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু পদ¶েপ। ভাওয়াইয়া গানের সংগ্রহ,সংর¶ণ,গবেষণা এবং শি¶া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনেকদিন ধরে রংপুরবাসী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের ইঞ্জিনিয়ার পাড়ায় একই স্থানে ভাওয়াইয়া গানের স্কুল উদ্বোধন হয়। এবং ভাওয়াইয়া গানের আসর আয়োজন করা হয়। আয়োজনে গান গাইবেন খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়া, সৈয়দ আবু ইউনুস বাদশা,অরুন কুমার মুখার্জি, তমাল কান্তি লাহিড়ী, ফারুক আজিজ শাহীন, মিলন কুমার ভট্টাচার্যসহ আরও অনেক শিল্পী।
য় খন্দকার এনামুল হক মুকুল
শসঁশঁষঢ়ৎবংং@মসধরষ.পড়স