মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ ২০১১, ৩ চৈত্র ১৪১৭
নাম্বার ওয়ান শাকিব খান
ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হব। কারণ আমি সাইন্সের ছাত্র ছিলাম। সব সময় বুকে লালন করতাম ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করব। এর বাইরে যে অপশনটি আমার মধ্যে কাজ করত তা হলো ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। খুব পছন্দ ছিল এই পেশাটিও। কিন্তু এইচএসসি পরীৰা শেষ করার পর হঠাৎ করেই যেন ছোটবেলার স্বপ্নগুলো হারিয়ে যেতে থাকল। বলা চলে মনের অজানত্মেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক চলে আসে। এরপর দর্শকের ভালবাসা, বিনোদনের প্রতি নিজের ভাললাগা সব কিছু মিলিয়েই এখন আমি বেশ আনন্দের সঙ্গে অভিনয় চালিয়ে যেতে পারছি।
দর্শকের প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, সাধারণ বলা চলে কেউ যদি শিল্পী হিসেবে নিজেকে দাঁড় করাতে চায় তাহলে তাঁকে অবশ্যই দর্শকের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে। কারণ দর্শক ছাড়া একজন শিল্পীর জীবন একেবারেই শূন্য। যে শূন্যের ভার সারাজীবন নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়। আমি দর্শকশ্রোতার ভালবাসায় সিক্ত। তাঁরা আমাকে ভালবেসেছে এবং ফলস্বরূপ আমি তাদের সম্মানের জায়গা থেকে ভাল ভাল কাজ উপহার দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রথম যখন সিনেমায় আসলেন_ বেশ কয়েক বছর আগে আমি সর্বপ্রথম একটি সিনেমায় পাশর্্ব-হিরোর চরিত্রে অভিনয় করি। তারপর দীর্ঘ বিরতী এবং পরবতর্ী বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করার অফার পাই। মূলত তখন থেকেই আমাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক ছবিতে কাজ করে যাচ্ছি। যতদূর মনে পড়ে 'চাচ্চু' ছবিটি বেশ জনপ্রিয়তা পাই। এবং দর্শকের প্রশংসাও পেয়েছি অনেক। এরপর একে একে বেশ কিছু ছবি দর্শকনন্দিত হয়েছে। আমার প্রাণের প্রিয়া ছবির একটি গান "কি যাদু করেছ বল না" তো গত এক বছর যাবত সুপার হিটের তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়াও নাম্বার ওয়ান শাকিব খান ছবিটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। শাকিব খানের ক্যারিয়ারের শুরম্নর দিকটার বিশেষ কিছু প্রাপ্তিও আছে। যা ছিল একজন নতুন হিরো হিসেবে বাংলাদেশের বড় বড় শিল্পীদের সাথে রাজ্জাক, আলমগীর, ফারম্নক এই গুণীজনদের সাথে অভিনয় করার সময় মনোযোগ দিয়ে দেখতেন তাদের কাজগুলো মনে রাখার চেষ্টা করতেন। হয়তো তাঁরই ফলস্বরূপ তিনি আজ শাকিব খান।
বর্তমান সময়ে তিনি ব্যসত্ম আছেন বেশ কয়েকটি ছবির শূটিং নিয়ে এর মধ্যে 'একবার বল ভালবাসি' অন্যতম। এছাড়াও মনের জ্বালা ছবিটি খুব শীঘ্রই প্রেৰাগৃহে আসবে বলে মনে করেন তিনি। মনের জ্বালা ছবি সম্পর্কে শাকিব খান বলেন, এই ছবিটি নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী। মনে করছি যে মনের জ্বালা ছবি আমার অভিনয় জীবনের সেরা ছবি হবে। ইভেন বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের মধ্যে সবচাইতে বেশি বাজেটের ছবি এটি। ছবিটি আমার চরিত্রে কিছুটা ভেরিয়েশন আনা হয়েছে। যা দেখে দর্শক আনন্দ পাবে বলে মনে করছি।
যা কিছু প্রাপ্তি_
ক্যারিয়ার শুরম্ন করার পর থেকেই শাকিব খান বিরতীহীনভাবে কাজ করে চলছেন। বছরের ৩৬৫ দিনই তিনি শূটিং নিয়ে ব্যসত্ম থাকেন। ব্যসত্ম থাকেন নিজের চরিত্রকে সাবলীলভাবে পর্দায় তুলে ধরার জন্য এরই পরিপ্রেৰিতে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের এই সুপার স্টার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পুরস্কারও নিজের ঝুলিতে তুলেছেন। পেয়েছেন মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার, বিজিএফ চলচ্চিত্র পুরস্কার, সমালোচক পুরস্কার। অভিনয় জীবনে তাঁর যা কিছু অর্জন সবকিছুই তিনি কখনও দর্শকের জন্য উৎসর্গ করেছেন আবার কখনও মা-বাবার প্রতি উৎসর্গ করেছেন।
ঢালিউডে পরিবর্তন_
শাকিব খান মনে করেন আমাদের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে যে সকল ছবি দর্শকের জন্য মুক্তি দেয়া হয় সেখানটাই পরিবর্তন হওয়া উচিত। গতানুগতিক যে ধারা অব্যাহত রয়েছে এই বাইরে নতুন ডাইমেনশান কিভাবে ছবিতে তুলে আনা যায় সেদিকে নজর দেয়ার সময় এসেছে। এখন শুধু সিনেমা মানেই সচরাচর সংলাপ নয়। এমনকি ৪-৫টি গান দিয়েই ভাল মানের ছবি বানানোই শুধু সম্ভব। সেটা দিয়ে দর্শকের বিনোদনের ধারা অব্যাহত রাখা যায় না। তাই এখন থেকেই আমাদের শুরম্ন করতে হবে কিছু নতুন প্যাটার্নের নির্মাণশৈলী। যার ওপর ভর করে বাংলা সিনেমা-বলিউড কিংবা কলকাতার সিনেমার মতো বিশ্ব পর্যায়ে স্থান করে নেবে। এই প্রত্যাশা করছি। তবে আশার কথা হলো এরই মধ্যে আমরা সেভাবে এগোতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা এখন নতুন নতুন লোকেশন নিয়ে শূটিং করছি। এমনকি ছবিতে গানের দৃশ্যে আমেরিকান, রাশিয়ান মেয়েদেরও নৃত্যের কাজে অংশগ্রহণ করিয়ে নতুনভাবে নতুন মাত্রায় ছবিতে অভিনয় করছি। যাতে আমাদের সিনেমাগুলো আনত্মর্জাতিক বাজারে সমৃদ্ধ হতে পারে।
একটি বিষয় উলেস্নখ করে শাকিব খান বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশীয় কমিউনিটির ভূমিকা এখন চরমে পেঁৗছেছে। জাপান, মালয়েশীয়া, চীন, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, নেপাল এমন কোন দেশ নেই যে সেখানে আমাদের কমিউনিটির ঘাটতি আছে, তো অন্যরা পারলে আমরা কেন পারব না। তবে এবারে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে আমি মনে করি।
চলচ্চিত্র একটি বড় মাধ্যম। যার মাধ্যমে একটি দেশের সংস্কৃতি অন্য দেশে সহজেই তুলে ধরা সম্ভব। তাই আশা করছি আমাদের কর্তা ব্যক্তিরা তাঁদের ইতিবাচক দৃষ্টি দিয়ে এই মাধ্যমটিকে বিশ্ব দরবারে সম্মানিত করবে এবং বাংলা চলচ্চিত্র আনত্মর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করবে বলে প্রত্যাশা করছি।
পাইরেসি প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, এটা অনেক বড় একটি সমস্যা যেখান থেকে আমাদের খুব তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসতে হবে। নইলে ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গন। তখন দেখা যাবে ভাল গল্পের ছবি বানিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না। পাশাপাশি আমাদের দেশের সিনেমা হলগুলোরও বেহাল দশা। অবশ্যই উচিত হলগুলো মানসম্মতভাবে তৈরি করা, যাতে দর্শক আরাম করে তাঁদের বিনোদনের মাত্রা অর্জন করতে পারে।
পোশাকপ্রিয় শাকিব
সাকিব খান পোশাকের প্রতি খুব দুর্বল। নিত্য নতুন বা ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক না হলে যেন তাঁর চলেই না। হাতঘড়ি, ব্যাসলেট, জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি যখন যেটা যে পরিবেশে মানানসই সেটাই তিনি পরতে পছন্দ করেন। আর সবকিছুই তিনি নিজে মার্কেটে গিয়ে কিনে থাকেন। কারণ শপিং করা তাঁর নেশা এবং শখ। তাই তো একটু অবসর পেলেই শপিংয়ের জন্য বেরিয়ে পড়েন।
ক্রিকেটপাগল
শাকিব খান এত ব্যসত্মতার মধ্যেও ক্রিকেট খেলা দেখছেন। আবার যখন দেখতে পারছেন না তখন কাছের মানুষের কাছ থেকে আপডেট জেনে নিচ্ছেন। যেন ক্রিকেটার হলেই ভাল হতো তাঁর। এমনকি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ক্রিকেটপ্রেমীদের আনন্দ দেয়ার জন্য গত ২৪ তারিখে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পারফর্মও করেছেন। তিনি ক্রিকেটের একজন ফান। ফান সাকিব আল হাসানের। এক বছর আগে তাঁর ক্রিকেটের বন্ধু সাকিব আল হাসানের সঙ্গে শেরাটন হোটেলের লবিতে প্রথম আলোর উদ্যোগে একটি মোশন করিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, আমি ক্রিকেট খেলা খুব পছন্দ করি। যতটুকু সময় পাচ্ছি খেলা দেখছি। আর বাংলাদেশ দল তো এখন অনেক ভারসাম্যপূর্ণ। যে কোন সময় তাঁরা একটা কিছু করতে পারে। আমি এই দলের কাছে আশা রাখছি। এই বার না হলেও আগামী দুই তিন নাম্বার বিশ্বকাপ আসরেই বাংলাদেশ বিশ্ব ট্রফি ঘরে তুলবে। গুড লাক বাংলাদেশ।