মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ৬ ফাল্গুন ১৪১৯
ঢাকা শহরেই ২১২টি দৈনিক পত্রিকা, ৩০টি টিভি চ্যানেল! ওয়াল্লাহে, তারপরও ‘ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি’?
মহিউদ্দিন আহমদ
বাংলাদেশের কোন্্ শহর জেলা উপজেলা থেকে কি কি ধরনের দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক,পত্রিকা প্রকাশিত হয় তার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের ‘সংবাদপত্র ও সাময়িকীর বার্ষিক প্রতিবেদন’ নামের রিপোর্টটিতে। এই রিপোর্টটিতে প্রতিটি পত্রিকার নাম, সম্পাদক, প্রকাশের নাম, পত্রিকার অফিসের ঠিকানা, পত্রিকাটির সাইজ,ব্রডশীট না ট্যাবলয়েড,পত্রিকার ভাষা,বাংলা না ইংরেজী, পত্রিকাটির প্রথম প্রকাশের তারিখ এবং সবশেষে পত্রিকার প্রতি কপির দামÑ এসব তথ্যের বর্ণনা থাকে। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের দায়িত্ব, প্রতিবছর এই ‘বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা। কিন্তু অধিদফতরটি তা করে উঠতে পারে না। অন্যান্য কারণের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ পত্রিকাগুলোর কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরকে সব পত্রিকা কর্তৃপক্ষ এই তথ্যগুলো যথাসময়ের সরবরাহ করে না। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাই সংবাদপত্র ও সাময়িকীর এই বার্ষিক প্রতিবেদনটি চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে প্রকাশ করে থাকে। আমার কাছে এই রিপোর্টটির সর্ব সাম্প্রতিক যে কপিটি আছে, আমি গত বছরের জুলাইতে যেটি জোগাড় করতে পেরেছিÑতা ২০১০ ক্যালেন্ডার বছরের।
বাংলায় প্রকাশিত ১০২ পৃষ্ঠার ২০১০ ক্যালেন্ডার বছরের এই রিপোর্টে দেখতে পাচ্ছি, রিপোর্টের শুরুতেই যে সারণিগুলো দেয়া আছে, তার একটিতে দেখা যায় এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৮২০টি বিভিন্ন চেহারা চরিত্রের পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। ১৯৭২ সালে এই সংখ্যাটি ছিল ৩০০। তখন সারাদেশে দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো মাত্র ৩০টি, এখন ৪৬৯টি! এই সারণিতে গত ৪০ বছরের প্রতিবছরের দৈনিক, অর্ধ সাপ্তাহিক,সাপ্তাহিকÑসব ধরনের পত্রিকার সংখ্যাগুলো উল্লেখ করা আছে। এই সারণিটিতে আরও দেখা যায়, প্রতিবছরই এই সংখ্যাগুলো বাড়ছে; যেমন দেখা যায়, ১৯৯১ তে বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রথম ক্ষমতায় আসেন, তখন দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল ১০৭, দ্বিতীয়বার ২০০১-এ যখন আবার ক্ষমতায় আসেন, তখন এই সংখ্যাটি ছিল ৪৫০। শেখ হাসিনা যখন ১৯৯৬-এর জুনে প্রথম ক্ষমতায় আসেন, তখন বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল ২৬২, দ্বিতীয়বার যখন ২০০৯-এর জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসেন, তখনকার সংখ্যাটি হচ্ছে ৪২৬। আর, এখন আবারও বলি, ২০১০ সালে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যাটি হচ্ছে ৪৬৯।
আর এক ঢাকাতেই চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের তালিকা মোতাবেক প্রকাশিত হচ্ছে ২১২টি দৈনিক! এই তালিকার প্রথম পত্রিকাটির নাম ‘বাংলাদেশ অবজারভার’, আর ২১২ নম্বরটির নাম ‘হক কথা।’ ‘বাংলাদেশ অবজার’-এর সম্পাদক হিসেবে এই রিপোর্টে নাম ছাপা আছে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর, প্রকাশক : নার্গিস রহমান। বাংলা দৈনিক ‘হক কথা’র সম্পাদক এবং প্রকাশক হিসাবে একই লোকের নামÑ গোলাম মোস্তফা। এ তো গেল শুধু দৈনিক পত্রিকার কথা, যেগুলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে। তারপর আছে আমাদের ৩০টির মতো টিভি চ্যানেল এবং ডজনখানেক এফএম রেডিও। দুনিয়ার আর কোন শহরে, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, দিল্লী, প্যারিস, ব্রাসেলস, কলকাতা, সিঙ্গাপুর, টোকিওÑআর কোন শহরে এত দৈনিক পত্রিকা, এত টিভি চ্যানেল আছে? নিউইয়র্কে মাত্র দুটি ব্রডশীটÑ নিউইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল; ওয়াশিংটনে দুটিÑ ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ওয়াশিংটন টাইমস; লন্ডনে, গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফ, টাইমস, একপ্রেস, ইন্ডিপেন্ডেন্টÑ এই কয়টি ব্রডশীট এবং আর কয়েকটি ট্যাবলয়েড।

॥ দুই ॥

এই ব্যাকগ্রাউন্ডে গত কয়েকদিন বিএনপির এক অঙ্গ সংগঠন নামে বহুল পরিচিত দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকাটির কয়েকটি শিরোনাম এখন উল্লেখ করি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার দৈনিক ‘আমার দেশ’-এ ৭ কলামের লাল বড় বড় হরফে এই শিরোনামটি ছিল, ‘শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি।’ তার নিচে ছোট কালো হরফে এই সাবহেডিংগুলো, ‘গৃহযুদ্ধের উস্কানি বক্তাদের, গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিষোদগার, আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের রণহুঙ্কার।’ লক্ষ্য করুন এই শিরোনামগুলো প্রকাশিত হয়, শাহবাগ স্কয়ারে ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ছোট আকারে, কাদের মোল্লাকে ফাঁসির আদেশ না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়ার প্রতিবাদে, গণজমায়েতের মাত্র ৪ দিন পর। “ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি”র এই প্রথম শিরোনামের পর, পরদিন ১০ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ‘আমার দেশ’-এ ফ্যাসিবাদের পদধ্বনির কথা আরও বড় আকারে প্রকাশিত হয়। ১০ ফব্রুয়ারি ‘আমার দেশ’-এ ৮ কলামের লাল হরফের বড় শিরোনাম ছিল, ফ্যাসিবাদ ‘আক্রান্ত আমার দেশ’। তার নিচে ছোট হরফে এই শিরোনামগুলোও ছিল, ‘শাহবাগ ক্রমেই আওয়ামী নিয়ন্ত্রণে, বক্তৃতা দিয়েছেন মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ব্যবস্থাপনায় ছাত্র লীগ সভাপতি-সম্পাদক।’ তারপর ১৩ ফেব্রুয়ারিতে এই শিরোনামÑ ‘ফ্যাসিবাদী আক্রমণের কবলে ভিন্নমত’, তারপর লাল হরফে দুই লাইনের শিরোনাম-‘নয়া দিগন্ত অফিস প্রেসে আগুন, আমার দেশ-এ হামলার হুমকি। এই সিরিজে, গতকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘আমার দেশ’-এর প্রথম পৃষ্ঠায় তৃতীয় শিরোনাম দুই কলামে ‘প্রেসক্লাবের সামনে ৩ ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে সাংবাদিকদের সমাবেশ, গণমাধ্যমে আগুন ও বন্ধের হুমকিদাতাদের গ্রেফতারে আলটিমেটাম।’
আমার দেশ-এ এইসব আক্রোসসূত, ‘স্ক্রিমিং’ শিরোনামগুলো ছাড়াও পত্রিকার বিভিন্ন পাতায় কিছু দিন ধরে নানান কিসিমের বিকৃত,উস্কানিমূলক খবর,সম্পাদকীয় উপসম্পাদকীয়ও থাকছে। পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, আমাদের সুপ্রীমকোর্টর বর্ণনায় তিনি একজন ‘বাইচান্স’ এডিটরÑতিনিও নিজের নামে লেখা কিছু প্রবন্ধে তাঁর রাগ ক্ষোভ, আক্রোশ প্রকাশ করে যাচ্ছেন। লন্ডনে গিয়ে এখন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ‘আমাদের দেশ’-এর এক ‘স্টার’ (!) রিপোর্টার অলিউল্লাহ নোমানের পৃণ্ঠাব্যাপী বড় এক আবর্জনাও দেখলাম গতকাল, বৃহস্পতিবার আমার দেশ’-এ। নিয়মিত কলামিস্ট,ইতিহাস বিকৃতিতে আর এক ‘স্টার’, বিবিসির এক সাবেক সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের বঙ্গবন্ধু বিদ্বেষী, শেখ হাসিনা বিদ্বেষী আবর্জনাও নিয়মিতই থাকছে।
এ সব কিছুরই টার্গেট, শাহবাগের ‘প্রজন্ম একাত্তর স্কয়ার।’ ওখানে দৈনিক নয়া দিগন্ত, দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক ইনকিলাব,দৈনিক সংগ্রাম দৈনিক দিনকাল এবং দিগন্ত টেলিভিশন বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে, কয়েকটি পত্রিকার কপিতে আগুনও দেয়া হয়েছে। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের কতগুলো জায়গায় এই পত্রিকাগুলোর বর্জন চলছেও; কোথাও কোথাও নয়া দিগন্ত টিভির প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে ‘কেবল অপারেটররা’।
এমন বর্জনের আহ্বান তো নতুন নয়। ১৯৯৭-এর এপ্রিল মাসে দেশের চারজন শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী, বেগম সুফিয়া কামাল, প্রফেসর শওকত ওসমান, প্রফেসর কবীর চৌধুরী এবং কবি শামসুর রাহমান দৈনিক ইনকিলাব বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলেন দেশবাসীকে। এই আহ্বানটির শিরোনামটি ছিল, ‘দৈনিক ইনকিলাব বর্জনের জন্য একটি আবেদন। (তাঁদের সই করা মূল আবেদনটি এখনও আমি সংরক্ষণ করে চলেছি)। লক্ষ্য করুন, এই চারজন বুদ্ধিজীবীর সকলেই আমাদের দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয়-পুরস্কার, ‘স্বাধীনতা পুরস্কারে‘ ভূষিত। তাঁরা অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ ছিলেন। কিন্তু ছিলেন না কোন দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এই দীর্ঘ আবেদনে বিএনপিরই কিছু নেতা, যেমন জাতীয় সংসদে তখনকার বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির জেনারেল-সেক্রেটারি আবদুল মান্নান ভুঁইয়া,বিএনপির বারও শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা, কর্নেল অলি আহমেদ, কর্নেল আকবর হোসেন, মেজর আখতারুজ্জামন কিভাবে ইনকিলাবের খবর, সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়তে বার বার আক্রান্ত হচ্ছিলেন, তারও উল্লেখ এই আবেদনে । বস্তুত তাঁরা তাঁদের এই আবেদনে বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যে কোন লোক, আওয়ামী লীগ, বিএনপি-যে দলেরই হোক না কেন, তাকে আক্রমণ করেছে ইনকিলাব। বিএনপিও তখন বাধ্য হয়েছিল ইনকিলাবের বিরুদ্ধে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
এই ইনকিলাবের বিরুদ্ধে বিএনপিও নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল ২০০০ সালের এপ্রিলে। ২০০০-এর ১০ এপ্রিল তারিখে মান্নান মালানার দৈনিক পত্রিকা ইনকিলাব নামের মৌলবাদী তালেবানী সংগঠনটিতে দুই কলামের এই শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়, ‘দলের অভ্যন্তরে তিনটি নজিরবিহীন ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তোলপাড়’। এই রিপোর্টের ‘ম্যানুফ্যাকচারার’ হিসেবে এলাহী নেওয়াজ খান নামের এক ইনকিলাবীর নাম ছাপা হয়। এই ইনকিলাবী এলাহী নেওয়াজ খান এখন ইনকিলাব থেকেও বিতাড়িত। গত বৃহস্পতিবার দিগন্ত টেলিভিশন-এর ‘নিউজ অব দি ডে’ অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে তাকে দেখলাম। ইনকিলাব যেহেতু এখন আওয়ামী লীগের পক্ষে চলে গেছে, এলাহী নেওয়াজ খানরাও এখন নতুন ভরসাস্থণ পেয়েছে দৈনিক আমার দেশ, নয়া দিগন্ত বা দিগন্ত টিভিতে। ইনকিলাব থেকে বিতাড়িত ‘জাতীয়তা বাদদের কবি শ্রেষ্ঠ’ আবদুল হাই শিকদার আশ্রয় নিয়েছে দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকায়।
এলাহী নেওয়াজ খানের রিপোর্টটির অংশ বিশেষ এখন নিচে উদ্ধৃত করছি : বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ প্রথমবারের মতো বিএনপির ক্ষুদ্র বাম গ্রুপটি একটি জাতীয় দৈনিকের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করে জঘন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত ঢাকার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের বৈঠক শেষে ঐ ক্ষুদ্র গ্রুপটি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক দৈনিক ইনকিলাবের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবটি নেয়।

ইনকিলাব যে বিএনপির পত্রিকা নয়, তা দেখা গিয়েছিল ২০০০ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর দিনেও। এ দিন এ উপলক্ষে ঢাকার দশ বারোটি পত্রিকায় বিএনপি বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। কিন্তু ইনকিলাবকে এই ক্রোড়পত্র প্রকাশ করতে দেয়নি বিএনপি। বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা অংশটিকে ইনকিলাব ঘৃণা করেছে বার বার।
তো ইনকিলাবের অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে বিএনপি এবং তার প্রচারবিহীন দৈনিক পত্রিকা ‘দিনকাল’ যদি এমনভাবে প্রতিবাদ করতে পারে, তাহলে আজ এই ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক নয়া দিগন্ত, দিগন্ত টিভি, ইনকিলাব, দিনকালÑএসব প্রচার মাধ্যমের বিরুদ্ধে শাহবাগের ‘প্রজন্ম একাত্তর’ অবস্থান গ্রহণ করতে পারবে না কেন? কই, শাহবাগ স্কয়ার থেকে এনটিভি চ্যানেল বর্জনের আহ্বান, তো জানানো হয়নি। এনটিভি তো মোসাদ্দেক আলী ফালুর মালিকাধীন একটি গণমাধ্যম। ফালু যে বেগম খালেদা জিয়ার একজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা তা তো এ দেশের বালক,বালিকা-কিশোর-কিশোরীরাও জানে। এই মোসাদ্দেক আলী ফালুর এক ভাই হচ্ছেন হাসমত আলী। তিনি হচ্ছেন ‘আমার দেশ’ এর প্রকাশক। তবে ‘আমার দেশ’ এর মালিকানা কিনে নিয়েছে ‘জেহাদী’ বাইচান্স এডিটর মাহমুদুর রহমান। তিনিও বেগম খালেদা জিয়ার একজন উপদেষ্টা। এ দুই উপদেষ্টার দুই গণমাধ্যম; একটিকে, মাহমুদূর রহমানের ‘আমার দেশ’ বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে শাহবাগের তরুণ-তরুণীরা। কিন্তু মোসাদ্দেক আলী ফালুর এনটিভি নিয়ে তো প্রজন্ম স্কয়ারের কারও কোন অভিযোগ, ক্ষোভ নেই। অভিযোগ ক্ষোভ নেই কেন তা যদি মাহমুদুর রহমান তার এখন কার প্রচ- অবসরে এনটিভির খবর প্রতিবেদনগুলো দেখতেন তাহলে তার ‘কমনসেন্স’ হয়ত ফিরে আসত। ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি কিন্তু এনটিভিতে কিন্তু নেই। তারপর খুবই প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন, মাহমুদুর রহমান প্রথমে কি একজন “পলিটিক্যাল এনটিভি দেখছেনা,যেমন দেখছে আমার নাকি একজন“সাংবাদিক? তাঁর কথাবার্তা লেখালেখি আচরণে তো তাঁকে একজন সাংবাদিক মনে হয় না। তাহলে তিনি সাংবাদিক সম্পাদক রহমান মর্যাদা চাইছেন কেন?


॥ তিন ॥

ইনকিলাবে তখন ২০০১-এর ১৫ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবসের ঠিক আগের দিন, ‘আমাদের জাতীয় দিবস’ শিরোনামের এক লেখায় ওবেইদ জায়গীরদার নামের এক ইনকিলাবী দুর্বৃত্ত বাংলাদেশের জাতীয় দিবসকে পরিবর্তন করে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস, ১৪ আগস্ট তারিখে আনার উদ্ধত্যও দেখিয়েছিল। এই দুর্বৃত্ত এখন ঢাকায় কিউবার অনারারি কনসাল। ইনকিলাবের এক কলামিস্ট ওবেইদ জায়গীরদার হিসেবে বাংলাদেশের আকাশ বাতাসকে সাংঘাতিকভাবে দূষিত করে তুলেছিল ।
১৪ আগস্টকে জাতীয় দিবস হিসাবে উদযাপন করার পক্ষে কি কি যুক্তি দিয়েছিল তার ইনকিলাবে প্রকাশিত উল্লেখিত আবর্জনার নিচের উদ্ধৃত অংশে তা দেখা যেতে পারে।
“১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এদেশ শত্রুমুক্ত হয়েছিল সে বক্তব্য সঠিক নয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীও আমাদের শত্রু, সে প্রমাণ আমরা ১৯৪৭ সালে পেয়েছিলাম, গত ৩০ বছর ধরেও পাচ্ছি। তারা ১৬ ডিসেম্বর এদেশ ত্যাগ করেনি। এবং বিনা প্রতিবাদেও বাংলাদেশ ছাড়েনি। সুতরাং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় দিবস হতে পারে না। আমরা প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন করেছি ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট। তাই ১৪ আগস্ট আমাদের স্বাধীনতা দিবস হওয়া উচিত।
তা না হলে আমরা সেই তারিখটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ধরতে পারি যে দিন বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতীয় বাহিনীর শেষ সৈন্যটিও বিতাড়িত হয়। পাকিস্তানের প্রতি ক্ষোভবশত ১৪ আগস্টকে জাতীয় দিবস হিসাবে গ্রহণ করা না হলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কবলমুক্ত হওয়ার দিনটিকে জাতীয় দিবস করাটা হবে যুক্তিসঙ্গত। জাতীয় দিবস হওয়ার ক্ষেত্রে ১৪ আগস্ট ছাড়া সেদিনটির দাবিই সবচেয়ে বেশি”।
এই ওবেইদ জায়গীরদারকে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের পাশেই অবস্থিত ঢাকা ক্লাব ‘লিভিং লিজন্ড’ হিসাবে বর্ণনা করে আরও কয়েকজনের সঙ্গে বছর তিনেক বছর আগে ‘সম্মাননা’ দেয়। ঢাকা ক্লাবের এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে যাঁরা সেদিন ছিলেন, তাঁদের কয়েকজনকে প্রজন্ম স্কয়ারেও গত কয়েকদিন আমি দেখেছি।
ঢাকা ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি সাদত সেলিমকে আমি তক্ষুনি চিঠি লিখে ওবেইদ জায়গীরদারকে এই লিভিং লিজেন্ড পুরস্কার দেয়ার প্রতিবাদ করেছিলাম। সাদত সেলিম একজন ভূমি ব্যবসায়ী। আমার চিঠির উত্তর দেয়া তো দূরে থাক, প্রাপ্তি স্বীকারও করেনি। শুনেছি পরে অন্য কারণে তাকে ঢাকা ক্লাব থেকেই বহিষ্কার করা হয়েছে। তারপর ইনকিলাবী দুর্বৃত্তরা তো আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের প্যারোডিও প্রকাশ করেছে ২০০০ সালের ২০ অক্টোবরের ইনকিলাবে। এমন সব জঘন্য, ঘৃণ্য অপরাধের জন্যও কি ইনকিলাব বর্জনের আহ্বান জানানো যাবে না?
বিএনপির এক অংশের বিরুদ্ধে তখন ইনকিলাবের অবস্থান। বিএনপি ইনকিলাবের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। আক্রোশে এলাহী নেওয়াজ খান ইনকিলাবের পৃষ্ঠায় খবর রচনা করেছেও। তারপর ইনকিলাবের কপিতে আগুন দেয়া যাবে না? মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নামে এসবও মেনে নিতে হবে? নাউজুবিল্লাহ।
‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা; এই উসিলার শুরু কোথায়, শেষ কোথায়। ১৫ বছর ধরে কলাম লিখছি, প্রায় ১৫শ’ কলাম লেখা হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। দেশের প্রায় সব মূলধারার দৈনিকে কলাম লিখেছিÑ ইনকিলাব, দিনকাল, আমার দেশ, নয়া দিগন্ত বাদে। কিন্তু তারপরও তো বছর চারেক আগে বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরীর জন্ম শতবার্ষিকীর ওপর লেখা আমার একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক লেখা ছাপাল না একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক, যে দৈনিকটিতে আমি কয়েক বছর সাপ্তাহিক কলাম লিখেছি। এখানে তো আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান জানানো হলো না। বিনোদ বিহারী চৌধুরীর ওপর আমার এই লেখাটি কেন ছাপানো হলো না, এর ব্যাখ্যা কোথায় পাব, কার কাছে চাইব? মত প্রকাশের স্বাধীনতা কি শুধু সম্পাদক এবং মালিকের বিবেচনার বিষয়? আমার এই লেখাটির কোন্ অংশটি আপত্তিকর, আমাকে জানানো হল না কেন?

॥ চার ॥

দৈনিক ‘আমার দেশ’ এবং কিছু কট্টর জাতীয়তাবাদী সাংবাদিকের কারণে সাংবাদিকতায় কেমন দুর্বৃত্তায়ন চলছে, এখন সে সম্পর্কে একটু আলোচনা।
কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলোর বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কাদের মোল্লার যে অপরাধগুলোর প্রমাণ পেয়েছে, তার একটি হচ্ছে,Ñ ‘৭১-এ সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেবকে হত্যা। সাংবাদিকদেরই একদল, এই আবু তালেবকে হত্যার অপরাধে কাদের মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে ট্রাইব্যুনাল কোথায় তারা,Ñ এই জাতীয়তাবাদী সাংবাদিকরাÑ এজন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান মহাজোট সরকার এবং ট্রাইব্যুনালকে অভিনন্দন জানাবে, তা না করে রায়ের বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছে তারা! আবার তারা নয়া দিগন্ত অফিসের গাড়িতে আগুন দেয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও তুলছে! পত্রিকার গাড়িতে আগুন, তা-ও রহস্যাবৃত, তা নাকি এক ‘ভয়ঙ্কর’ অপরাধ, তাতে নাকি মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হামলা হয়েছে। তো সাংবাদিক খোন্দকার আবু তালেবকে কাদের মোল্লা যে মেরে ফেলল ’৭১-এ, এটা কি ভয়ঙ্কর অপরাধ নয়? ডাবল স্ট্যান্ডার্ড কাকে কয়! ভ- প্রতারক কারে কয়? এরা নাকি সাংবাদিক, এরা নাকি সমাজের বিবেক!
তারপর আমার দেশ পত্রিকাটির এই ভারপ্রাপ্ত ‘বাইচান্স’ এডিটর মাহমুদুর রহমান একদিকে বিএনপিকে কঠোর আন্দোলনের জন্য রাস্তায় নামতে উস্কাচ্ছেন, আবার নিজে আমার দেশ পত্রিকা অফিসে নিজকে স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ করে রেখে শরবত খাচ্ছেন। এই লোক গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, পহেলা ফাল্গুন “রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিদেশ-নির্ভরতা” শিরোনামের এক প্রকা- গার্বেজের এক জায়গায় এই কথাগুলোও লিখেছেন, “সাহস করে চূড়ান্ত আত্মত্যাগের মানসিকতা নিয়ে প্রতিরোধ সংগ্রামে অবতীর্ণ হলে চরম অত্যাচারী সরকারও যে সাময়িকভাবে হলেও পিছু হটতে বাধ্য হয় তার উদাহরণ সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত-শিবির সৃষ্টি করতে পেরেছে”। একটু পর, ইনকিলাবের সাম্প্রদায়িক, ভারত বিদ্বেষী সাংবাদিকতায় দীক্ষিত এই জেহাদী বাইচান্স এডিটর আরও লিখেছেন, বিএনপির সম্পদশালী নেতৃবৃন্দ তাদের সম্পদের মায়া পরিত্যাগ এবং জেলÑ জুলুম সহ্য করার মতো মানসিকতা পোষণ করেন কিনা তার পরীক্ষা দিতে হবে”।
নিরাপদে ঘরে বসেই প্রচ- সাহস নিয়ে তিনি উস্কানি দিচ্ছেন বিএনপিকে, সমর্থন জানাচ্ছেন প্রকাশ্যেই জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস-তা-বকে। জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস তা-বের সাফল্য তিনি তারিফ করছেন, জামায়াত-শিবিরের এই সন্ত্রাস-তা-বের সাফল্যকে অনুসরণ করে রাস্তায় ভাংচুর চালাতে অগ্নিসংযোগ করতে তিনি বিএনপিকে উস্কাচ্ছেন। এর সবই করছেন তিনি আমার দেশএর অফিসে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে!!! একই সাথে তার স্বআরোপিত অবরুদ্ধ জীবনের জণ্য —-করেছেন!!!
এই লোক ইচ্ছা করেই খবর তথ্যবিকৃত করে। একদিকে তিনি স্বীকার করেন, সুপ্রীমকোর্টের আদেশে তিনি বন্ধ করে দেয়া আমার দেশ প্রকাশ করতে পারছেন। আবার এই একই সুপ্রীমকোর্ট কেন তাকে অগ্রিম জামিন দিচ্ছে না, সেজন্য আমাদের উচ্চতর আদালতের বিরুদ্ধে তার প্রকাশ্য আক্রোশ জাহিরও চলছে !! তার কথা,Ñ হাইকোর্ট সুপ্রীমকোর্টকে তাদের সব কথাই শুনতে হবে, রায় সবগুলোই তাদের পক্ষেই হতে হবে।
যে সুপ্রীমকোর্ট তার আমার দেশকে আবার প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে, সেই একই সুপ্রীমকোর্ট তাকে অগ্রিম জামিন দিচ্ছে নাÑ, নিশ্চয়ই তার যথার্থ কারণ আছে। সুপ্রীমকোর্টে, আমাদের সর্বোচ্চ আদালতে, আদালত অবমাননার দায়ে দ-িত এই মাহমুদুর রহমান তো একজন ‘ক্রিমিন্যাল’। আদালত অবমাননাও তো একটি ফৌজদারী অপরাধ। আমার ধারণা, এই কারণেই ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস তাকে গত অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোষ্টন শহরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশীদের এক কনভেনশনে যোগ দিতে ভিসা দেয়নি। আদালতে দোষী প্রমাণিত ক্রিমিন্যালদের মার্কিন সরকার সাধারণত ভিসা দেয় না।
আদালতে আমাদের জাতীয়তাবাদী সাংবাদিকরা, বিচার চায় হরহামেশা। কিন্তু আমাদের সর্বোচ্চ আদালত, আমাদের সুপ্রীম কোর্টে মাহমুদুর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে যে রায় দিয়েছে, তা তারা মানতে চায় না। ওয়াল্লাহে, এরাও সাংবাদিক, এরাও মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা আওড়ায়, সেøাগান দেয়, হুমকি দেয়।
এই সাংবাদিক সাহেবদের আরও স্মরণ করিয়ে দিতে ছেই যে ১.১১.৯৫ এর আগস্ট মাসে দিনাজপুরের বিক্ষুব্ধ মানুষজন দিনাজপুর প্রেসক্লাব এবং দিনাজপুরের দৈনিক “তিস্ত” অফিস পুড়িয়ে দিয়েছিল। দিনাজপুরের কিছু সাংবাদিক তখন পুলিশের ধর্ষন নির্যাতনে নিহত কিশোরী- ইয়াসমীন নামের নিরহী অসহায় মেয়েটিকে ওখানকার পুলিশের প্ররোজনা “পত্রিকা” হিসাবে বর্ণনা করে দৈনিক তক্ষায় খবর ছেপেছিল। তার ২৬ বছর আগে, ১৯৬৯ সালে গণ অভ্যুত্থানের সশয় তখন কার বাঙ্গালী তরুণ নেতা নেত্বরা পাকিস্তান প্রেস ট্রাষ্টের —- দৈনিক বাংলা এবং ইংরাজী দৈনিক “মনিং নিউজ ”ও গুড়িয়ে দিয়েছিল এই দুইটি পত্রিকা তখন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পক্ষ নিয়ে বাঙ্গালী স্বার্থবিরোধী অপপ্রচার চালাচ্ছিল। আমার ধারনা তখনকার এইসব তনুণ নেতাদের মধ্যে আজকের জাতীয়তাবাদীদের খাম্বা মাহবুব উল্ল্যাহ মাহফুজ উল্লারাও ছিলেন
পত্রিকা পড়ানোর এই দুটো ঘটনাই তখন সারা দেশের মানুষ প্রবল ভাবেই সমর্থন তারিফ করেছিল। তারা তো –বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের বিচার মানছেনা । তো তারা কি পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্টের রায় মানবে।

॥ পাঁচ ॥

‘ইনকিলাবের অপসাংবাদিকতা’ নামের একটি বই বের করেছিলাম আমরা কয়েকজন ১৯৯৫ এর এপ্রিলে। প্রফেসর কবীর চৌধুরী, প্রফেসর মুনতাসীর মামুন, দৈনিক সংবাদ-এর প্রয়াত সম্পাদক বজলুর রমান, কাজী সাহেদ আহমেদ, সাংবাদিক আবেদ খান, সোহরাব হাসান, আনোয়ারা সৈয়দ হক, আনিসুল হক, আনিসুল হক, মোস্তফা ফিরোজÑ এমন সব বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের লেখায় সমৃদ্ধ ২৩২ পৃষ্ঠার এই বইটির সম্পাদনা করেছিলেন সাপ্তাহিক ‘বাংলা বার্তা’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান। তখন আমাদের এই দলে আরও ছিলেন সাপ্তাহিক ‘আজকের সূর্যোদয়’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক খোন্দকার মোজাম্মেল হক, কাস্টমসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিলন দত্ত, বঙ্গবন্ধুভক্ত এবং শিপিং ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম, দৈনিক ঢাকা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ইউনুস, এখন কানাডা প্রবাসী কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল বাংলা একাডেমীতে এখন একজন কর্মকর্তা মনি হায়দার, ঝিনাইদহের ছাত্রলীগ নেতা অশোক ধর। এই বইটির ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন কবি শামসুর রাহমান।
“ইনকিলাবের অপসাংবাদিকতা” বইটিতে এই প্রথম একটি দৈনিক পত্রিকাকে ‘এক্সপোজ’ উন্মোচন করা হয়েছিল। এখন সময় এসেছে, “আমার দেশ এর নোংরা সাংবাদিকতা” নামের আর একটি বই প্রকাশের, আমার দেশকে উন্মোচন করার।গণমাধ্যম, পত্র পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার হালহকিকত, সাংবাদিকদের মান মর্যাদা গুরুত্ব এর:তার অপব্যবহার, সাংবাদিকতায় বিকিকিনি, ব্ল্যাকমেলিং, ধান্ধাবাজি, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, আসলে কার স্বাধীনতা মালিকের না সম্পাদকের, এসব প্রশ্ন এখন কিছু কিছু আলোচনায় আসছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি, বইমেলায় যে কয়টি বই কিনেছি, তার একটি, টিভি সাংবাদিক তুষার আবদুল্লাহর লেখা ‘গণ মাধ্যম কার মাধ্যম।’
‘আমার দেশ এর নোংরা সাংবাদিকতা’ নামের প্রস্তাবিত বইটির সম্পাদনা করা এখন সহজ হবে। তখন বেশ কঠিন ছিল। তারপরও, এখনকার পরিবেশে এই প্রস্তাবে সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান এবং আমাদের একজন বড় পৃষ্ঠপোষক মিলন দত্তের এবং সব সময়েই পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষ উৎসাহদাতা তাজুল ইসলামের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সুস্থ, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিকাশে এবং প্রকৃত গণতন্ত্রের সাথে এমন বইপত্র লেখালেখি অপরিহার্য।
‘শিউলিতলা’, উত্তরা, ঢাকা; শুক্রবার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
সড়যরঁফফরহধযসবফ ১৯৪৪@ুধযড়ড়.পড়স.