ড. অনুপম সেন
বাংলাদেশ এক মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে আজ প্রায় চার দশক হয়ে গেল। এই মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, ত্রিশ লাখ লোক আত্মবিসর্জন দিয়েছিলেন, কয়েক লাখ নারী চরম মূল্য দিয়েছিলেন; এত বড় ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন, মুক্তি অর্জন, সারাবিশ্বে খুব কমই হয়েছে। দুঃখের ব্যাপার, আজকের নতুন প্রজন্ম যথার্থভাবে জানে না, কেন আমাদের এ রকম একটি ভয়াবহ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে হয়েছিল। সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ ছিল। কোন কোন ইউরোপীয় পাঠকের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ ছিল। এই সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে দু'টি ঔপনিবেশিক শাসনের বিশাল গ্লানি বহন করতে হয়েছে। ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ দীর্ঘ ১৯০ বছর বাংলাদেশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের জগদ্দল ভার বহন করতে হয়েছে; এই দুই শতকে প্রত্য ও পরো লুণ্ঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নিঃস্ব, হৃতসর্বস্ব করা হয়েছে। অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম কয়েক দশক বাংলাদেশ ছিল শিল্পসমৃদ্ধ। এদেশের বস্ত্র শিল্পের খ্যাতি ছিল বিশ্বজোড়া। এখান থেকে ইউরোপে বস্ত্র রফতানি করার জন্য বিভিন্ন ইউরোপীয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলাদেশজুড়ে আড়ং খুলেছিল। ইংল্যান্ডে যে বিশ্বের প্রথম শিল্প বিপ্লব ১৭৬০-এর দশকে শুরু হয়, সেই বিপ্লবে বাংলাদেশ থেকে আহৃত পুঁজি একটা বড় ভূমিকা রেখেছিল। ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব হওয়ার পরে, যে শিল্প বিপ্লবের ভিত্তি ছিল ম্যানচেস্টার ও ল্যান্্কাশায়ারের বস্ত্রশিল্প, বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পকে ধ্বংস করা হয় রাষ্ট্র কর্তৃক এই শিল্পের ওপর অতিবৃহৎ শুল্কভার আরোপ করে। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি মোটামুটি শিল্পসমৃদ্ধ দেশ থেকে একটি কৃষিনির্ভর দেশে পরিণত হয়।
১৯৪৭ সালে দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বেড়াজাল ছিন্ন করে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সূচনা হয়_ ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের জন্মে বাংলাদেশের বাঙালীর ভূমিকাই ছিল সর্বাগ্রগণ্য। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয, জন্মলগ্ন থেকে পাকিস্তানে পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশকে একটি উপনিবেশে পরিণত করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের বা বাংলাদেশের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকচক্রের ঔপনিবেশিক শোষণের তীব্রতা ও ব্যাপ্তি অনেক েেত্র ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকেও নির্মম ছিল।
আজকের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা সংগ্রামের পেছনের এই মর্মন্তুদ ইতিহাস জানে না। জানে না কেন ২৩ বছরের পাকিস্তানী শাসনের মাথায় এমন একটি সর্বগ্রাসী মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজন হয়েছিল। পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শোষণের স্বরূপ তাদের অনেকেরই অজানা। এখানে অতি সংেেপ সেই শোষণের গ্লানিচিত্রটি তুলে ধরা হচ্ছে আজকের তরুণ প্রজন্মের এবং যাঁরা বিষয়টি ভুলে থাকতে চান, তাঁদের ল্য করে।
১৯৪৭ সারে দ্বিজাতিতত্তের ভিত্তিতে যে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল তাতে পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণের বিশেষত মুসলিম কৃষক ও পেশাজীবী শ্রেণীর সায় ছিল এ কারণে, তাঁরা ভেবেছিলেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে তাঁরা অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করবেন। কিন্তু অতি অচিরেই তাঁরা বুঝতে পারলেন এক ঔপনিবেশিক শৃঙ্কলের বদলে আরেক ঔপনিবেশিক শৃক্মখল বাংলাদেশকে নিষ্ঠুরতর এক বন্ধন পাশে বেঁধে ফেলেছে।
জন্মলগ্নে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের (বর্তমান পাকিস্তান) মধ্যে বার্ষিক উৎপাদন ও মাথাপিছু আয়ের তেমন বিশেষ কোন তারতম্য বা পার্থক্য ছিল না। ১৯৪৯-৫০ আর্থিক বছরে পূর্ব পাকিস্তানের বার্ষিক উৎপাদন ছিল ১২৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ১২০৯ কোটি ১০ লাখ টাকা অর্থাৎ বাংলাদেশের জিডিপি বা উৎপাদন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ২৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা বেশি ছিল। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশে জনসংখ্যা ছিল পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সামান্য কিছু বেশি। তাই পূর্ব পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রায় ১৭ শতাংশ কম ছিল। ১৯৬৯-৭০ সালে মাথাপিছু আয়ের এই পার্থক্য বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। পূর্ব পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় যখন দু'দশকে ১৯৪৯-৫০ থেকে ১৯৬৯-৭০, ২৯৩ থেকে ৩২১ টাকায় উন্নীত হয় তখন পশ্চিম পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় ৩৪২ টাকা থেকে ৫৪৬ টাকায় উন্নীত হয়েছিল। অর্থাৎ সেখানে মাথাপিছু আয় প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বেড়ে যায়। বাংলাদেশ বা পূর্ব পাকিস্তানের সার্বিক উৎপাদন বা জিডিপি ১৯৪৯-৫০ থেকে ১৯৬৯-৭০ এই দু'দশকে ১২৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২২৭১ কোটি ত্রিশ লাখ টাকা। একই সময় পশ্চিম পাকিস্তানের উৎপাদন ১২০৯ কোটি দশ লাখ টাকা থেকে ৩১৫৬ কোটি ত্রিশ লাখ টাকা উন্নীত হয়। পাকিস্তানের এই দুই অংশের মধ্যে উৎপাদন ও মাথাপিছু উৎপাদনের এই যে বৈষম্য দিন দিন বেড়েছে তার কারণ এই নয় যে, পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশের সম্পদ ছিল অপ্রতুল। এই বৈষম্যের মুখ্য কারণ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকচক্রের নিষ্ঠুর ঔপনিবেশিক শাসন; বস্তুত এই দুই দশকে পূর্ব পাকিস্তানকে আদিম পুঁজি সঞ্চয়নের (রেধবর্ধধশণ উটযর্ধটফ ইডডলবলফর্টধমভ) কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেই পশ্চিম পাকিস্তানে এক ধরনের শিল্পায়ন ও কৃষি সমৃদ্ধি ঘটেছিল।
প্রথমেই যদি আমরা সরকারী ও বেসরকারী বিনিয়োগের দিকে দৃষ্টি দেই তাহলে দেখি, পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানের মোট লোকসংখ্যা ৫৫ শতাংশ বাস করলেও বাংলাদেশ বা পূর্ব পাকিস্তানকে প্রথম থেকেই বিনিয়োগের েেত্র অতি নগ্নভাবে বঞ্চিত করা হয়। প্রাক-পরিকল্পনা পর্বে অর্থাৎ ১৯৫০-৫৫ পর্বে পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশের) জন্য উন্নয়ন বরাদ্দের মাত্র ২০ শতাংশ দেয়া হয়। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের তীব্র প্রতিবাদের ফলে এই বরাদ্দ দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কিছুটা বেড়ে যথাক্রমে ২৬, ৩২, ও ৩৬ শতাংশে দাঁড়ায়, কোন সময়েই তা ৪০ শতাংশ অতিক্রম করেনি। রাজস্ব খাতেও বাংলাদেশ থেকে যে আয় হতো, অর্থাৎ যে রাজস্ব আদায় করা হতো, তার বেশ একটা বড় অংশ নির্ধারিত থাকত কেন্দ্রের ব্যয়ের জন্য। কেন্দ্র বা রাজধানী যেহেতু প্রথমে করাচী পরে রাওয়ালপিন্ডি ও সর্বশেষে ইসলামাবাদ ছিল, কাজেই ব্যয়ের প্রায় পুরোটাই পশ্চিম পাকিস্তানে করা হতো। ১৯৬০-৭০ দশকে পরিকল্পনাবহিভর্ূত যে বিপুল অঙ্কের সম্পদ বিনিয়োগ করা হয়েছিল, তারও সিংহভাগই ব্যয় করা হয় সিন্ধুনদের জলসম্পদকে ব্যবহার করে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে গতিসঞ্চার করতে, শিল্পের জন্য বিদু্যতের উৎপাদন বহুগুণ বাড়াতে এবং কৃষির জন্য বিরাট অঞ্চলে জলের জোগান নিশ্চিত করতে। উন্নয়ন ও উন্নয়নবহিভর্ূত রাজস্ব খাতে এই বিশাল বিনিয়োগের ফলে পশ্চিম পাকিস্তানের বিদু্যত শক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, রেলপথ ইত্যাদি ভৌত অবকাঠামোর যে বিশাল অগ্রগতি সাধিত হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পায়নের পথ সুগম হয়। পশ্চিম পাকিস্তানে দ্রুত শিল্পায়নের জন্য পাকিস্তান শিল্পঋণ ও বিনিয়োগ করপোরেশন ও পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন ব্যাংক নামে দুটো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৬১-৬৭ কালপর্বে প্রথম করপোরেশনটির বিনিয়োগ ছিল পূর্ব পাকিস্তানে ও পশ্চিম পাকিস্তানে যথাক্রমে ১৯ কোটি ৯০ লাখ ও ৬৯ কোটি ৭ লাখ টাকা, অর্থাৎ পশ্চিম পাকিস্তানে এই প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের তিনগুণ বেশি। তুলনামূলকভাবে, পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্ব পাকিস্তানে বিনিয়োগ ভাল ছিল। এখানে তাদের বিনিয়োগ ৬৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা, পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা কম। বৈদেশিক সাহায্য বা ঋণের েেত্রও পূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্তি বা বরাদ্দ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ। ১৯৫০-৭০ এই দুই দশকে যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের খরচ করা হয় ১৯৪.২ কোটি ডলার, সেখানে পশ্চিম পাকিস্তান পেয়েছিল ৪৫৫.৮ কোটি ডলার।
পূর্ব পাকিস্তান বা আজকের বাংলাদেশের বঞ্চনা কেবল বিনিয়োগের েেত্রই সীমাবদ্ধ ছিল না, নিজের অর্জিত সম্পদের ব্যবহার থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হয়। সেই সময় পাকিস্তানের প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট এবং পাটজাত দ্রব্য। পাট উৎপাদিত হতো পূর্ব পাকিস্তানে। বহির্বিশ্বে বাংলার এই তন্তুটি তখন 'সোনালি অাঁশ' বা গোল্ডেন ফাইবার নামে খ্যাত ছিল। তখনও কৃত্রিম তন্তু আবিষ্কৃত হয়নি। এই তন্তু থেকে উৎপন্ন ব্যাগ, চট ইত্যাদি ছিল বৃহৎ মালামাল পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম। ১৯৫০-৫১ সালে কোরিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার ফলে পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা হঠাৎ করে এতই বেড়ে গিয়েছিল যে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ৭৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। এই অর্থ আজকের মানদন্ডে খুব বেশি মনে না হলেও এই সম্পদ স্বাভাবিক পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রবৃদ্ধির নিয়মে ১৯৬৯-৭০-এ প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সম্পদে পরিণত হতো যা আজকের দ্রব্যমূল্যে, সোনার দামকে মানদন্ড, ধরলে (ভরি তখন প্রায় ১২৫ টাকা ছিল) কমপ েদশ লাখ কোটি টাকা। এটি কেবল এক বছরের হিসেব। এই অর্থ যদি বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানির মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের শিল্পায়নে ব্যবহার করা হতো, তাহলে পূর্ব পাকিস্তানের শিল্পায়নে যে একটা বড় ধরনের গতিবেগের সঞ্চার হতো, তাতে কোন সন্দেহ নেই। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত এই দুই দশকে পাকিস্তানের বার্ষিক রফতানি আয়ের প্রায় ৬০ ভাগ, এমনকি কোন কোন বছর ৭০ ভাগও আয় করেছে পূর্ব পাকিস্তান। কিন্তু তার বার্ষিক গড় আমদানি পাকিস্তানের বার্ষিক আমদানির ৩০ শতাংশেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই দুই দশকে বাংলাদেশে বা পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে বহির্বিশ্বের যে বাণিজ্য ছিল, তাতে কেবল ১৯৬৩-৬৪, ১৯৬৪-৬৫ এই দু'বছর ছাড়া প্রতিবছর বিপুল উদ্বৃত্ত থাকত। এই উদ্বৃত্ত দিয়েই বহির্বিশ্বের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানের বাণিজ্যে যে বিপুল ঘাটতি হতো, তা মেটানো হতো। এই দু'দশকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মোট উদ্বৃত্ত ৫০৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, এটিও সেকালের প্রোপটে একটি বিরাট অঙ্ক, তা আর বলার অপো রাখে না। এই অর্থ পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ হলে আজ যে কি বিপুল অঙ্কের সম্পদে পরিণত হতো, তা বোঝা যাবে এ কথাটি মনে রাখলেই, 'প্রতি ছয় থেকে সাত বছরে স্বাভাবিক পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়ায় এক শ' টাকার সম্পদ বেড়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ দু'শ' টাকার সম্পদে পরিণত হয়, আরও ছয় বছর পর এ সম্পদ পরিণত হয় চার শ' টাকার প্রকৃত সম্পদে অর্থাৎ স্থির মূল্যে (স্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতি ধরলে এ অঙ্কটি আরও অনেক বড়)। (চলবে)
লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক, সমাজবিজ্ঞানী