মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ৭ ফাল্গুন ১৪১৯
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাঙালীর গৌরবের মাস ফেব্রুয়ারি। মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় এ মাসে ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি জুড়ে ছিল উত্তেজনা। এ সময় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রস্তুতি নেয় ছাত্র-জনতা। ১৪৪ ধারা জারি করেও তাদের দমিয়ে রাখা যায়নি।
২১ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা থেকেই তৎপর ছিল আন্দোলনকারীরা। ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রছাত্রীরা দু’একজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জমায়েত হচ্ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছিল উপস্থিতির সংখ্যা। ফলে দেখতে দেখতে আমতলা (বর্তমান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি বিভাগের সামনের মাঠ) মুখরিত হয়ে ওঠে। ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকায় এমন বর্ণনা পাওয়া যায়।
ভাষা আন্দোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন লেখা থেকে জানা যায়, সকাল ১১টায় আমতলায় ছাত্র-যুবকদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব পরিকল্পনা মতো এম আর আখতার মুকুলের প্রস্তাবনায় ছাত্রনেতা গাজীউল হক সভায় সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য রাখেন শামসুল হক, মোহাম্মদ তোয়াহা, কাজী গোলাম মাহবুব, খালেক নেওয়াজ, আবদুল মতিন প্রমুখ। ঘণ্টাখানেক সভা চলার পর সভাপতির বক্তব্য রাখেন গাজীউল হক। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে মত দেন তিনি। জানান, এভাবেই তাঁরা নুরুল আমীন সরকারের চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করতে চান। গাজীউল হক কর্তৃক ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় সমবেত ছাত্ররা সেøাগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানায়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১০ জনের গ্রুপ করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হবে। প্রথম দশ জনের গ্রুপের নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র আলী আজমল। তিনি প্রথম গ্রেফতার বরণ করেন (সূত্র দৈনিক আজাদ : ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ এবং সাপ্তাহিক সৈনিক : ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২)। পরে একে একে আরও অনেক ছাত্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রতিবারের মতো এবারও ভাষা আন্দোলনের দিনের কথা স্মরণ করছে বীর শহীদদের উত্তরসূরিরা। সর্বত্রই চলছে নানা অনুষ্ঠান উৎসব। বায়ান্নর স্মৃতি জাগানিয়া অমর একুশে বইমেলায় মুখরিত বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণ। তবে এ বছর বাংলা একাডেমী ও শাহবাগ প্রাঙ্গণ এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে এখন সোচ্চার লাখো জনতা।
সোমবার অমর একুশে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান’ শীর্ষক আলোচনাসভা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রফিকউল্লাহ খান। কবি আসাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, খোন্দকার আশরাফ হোসেন ও বিশ্বজিৎ ঘোষ। সন্ধ্যায় আয়োজন ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।