মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ৭ ফাল্গুন ১৪১৯
বিশ্বব্যাংক প্রধানের সঙ্গে ওয়াশিংটনে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক ২৭ ফেব্রুয়ারি
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অবশেষে বিশ্বব্যাংকের প্রধানের সাক্ষাত পাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে অবস্থিত সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিশ্রুত অর্থ অন্য প্রকল্পে ব্যবহার করা যায় কিনা সে বিষয়ে তাকে অনুরোধ করা হতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি রওনা দেবে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে এ দলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শাহরিয়ার কাদের।
দীর্ঘদিন থেকে প্রচেষ্টার পর অবশেষে বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রেসিডেন্ট জিম ইয়াং কিমের সাক্ষাতের সময় পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না নেয়ার সিদ্ধান্তের পর জাতীয় সংসদে দেয়া অর্থমন্ত্রীর বিবৃতিটির ইংরেজী ভার্সন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের কাছে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বিষয়ে আল্টিমেটামের শেষ দিনেই বিশ্বব্যাংককে গত ৩১ জানুয়ারি টাকা না নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা সাফ জানিয়ে দেয় সরকার। পদ্মা সেতু প্রকল্পে সংস্থাটির ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব প্রত্যাহার করে ওই দিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক ই-মেইল বার্তায় বিশ্বব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে বিশ্বব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য প্রকাশ করে। এ প্রেক্ষিতে ওই দিনই সন্ধ্যায় সরকারী এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্বাচনী অঙ্গীকার পরিপূরণের জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। প্রয়োজনে প্রকল্পের ব্যয় কমানোর জন্য শুধু সড়ক সংযোগ সেতু নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদেরও এ তথ্য সরবরাহ করে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের বিষয়টি জানুয়ারির মধ্যে নিশ্চিত করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এর মধ্যে কোন সাড়া না পাওয়ায় এ প্রকল্পে সংস্থাটির ফিরে আসার বিষয়ে আশা হারিয়ে ফেলে সরকার। উল্টো পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের গত ৩০ জানুয়ারির মন্তব্য সরকারকে পুরোপুরি হতাশ করে। ওই দিন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়াং কিম ওয়াশিংটনের এক সেমিনারে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত শর্ত মেনে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ সুষ্ঠুভাবে তদন্ত না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এ প্রকল্পে অর্থায়নের কথা চিন্তা করতে পারে না বিশ্বব্যাংক। এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা জরুরী বৈঠক করে। এতে পদ্মা সেতুর ঋণ চুক্তি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু অর্থায়নের বিষয়টির সঙ্গে উর্ধতন সরকারী ব্যক্তিবর্গ ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সরকারকে একাধিকবার তুলে ধরার পরও সরকারের কাছ থেকে যথাযথ সাড়া না পাওয়ার অভিযোগে বিশ্বব্যাংক ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি গত ২৯ জুন বাতিল করে। এর পরবর্তীতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় ও গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে সরকার কিছু বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
এসব বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়াং কিমের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।