মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ৭ ফাল্গুন ১৪১৯
জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে বিল আনুন
যুদ্ধাপরাধীর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সঙ্কোচনে সংবিধান সংশোধন করতে হবে ॥ সংসদে মহাজোট সদস্যগণ
সংসদ রিপোর্টার ॥ অবিলম্বে জাতীয় সংসদে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে বিল আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন মহাজোটের সিনিয়র নেতারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোন রাষ্ট্রপতি যুদ্ধাপরাধীদের দ- মওকুফ বা ক্ষমা করতে না পারেন সেজন্য সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনার দাবি জানিয়ে তাঁরা বলেন, সবসময় মহাজোট সরকার ক্ষমতায় নাও থাকতে পারে। ভবিষ্যতে এ সুযোগ নিয়ে যুদ্ধাপরাধীরা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে দ- মওকুফ নিয়ে বেরিয়ে আসলে কিছু করার থাকবে না। তাই যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সঙ্কুচিত করতে হবে।
ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অব) শওকত আলীর সভাপতিত্বে সোমবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন পরিকল্পনামন্ত্রী একে খন্দকার, তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, সরকারি দলের আবদুল মান্নান, এ কে এম রহমতউল্লাহ, জুনায়েদ আহমেদ পলক, জাহানারা বেগম, ফরিদা আখতার, মোঃ শাহাবুদ্দিন ও জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু।
পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) একে খন্দকার বীরউত্তম রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে গত চার বছরে সরকারের সাফল্যগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে বলেন, সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মডেল। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে গণজাগরণ সৃষ্টি করায় তিনি তরুণ প্রজন্মকে ধন্যবাদ জানান।
মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ গত চার বছরে তাঁর মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চে আন্দোলনরত তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে সারাদেশের তরুণ সমাজ আজ গর্জে উঠেছে। তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলন অবশ্যই বিজয়ী হবে। কেননা জনগণ যখন একতাবদ্ধ হয় তখন বিজয় ছিনিয়ে আনে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই হবে।
সরকারী দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করতে অবিলম্বে সংসদে বিল আনার জন্য সরকারের হাইকমান্ডের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, স্বাধীন দেশে আর জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। দলটি নিষিদ্ধের দাবিতে আজ সারাদেশে জাতীয় ঐকমত্যের সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার এখনই সময়। তাই আর কালক্ষেপণ না করে সংসদে বিল আনুন, সকলে মিলে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাসের মাধ্যমে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশকে আবর্জনা থেকে মুক্ত করি।
জেনারেল জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান কোনোভাবেই একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেন না। বরং তিনি যে যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানের গুপ্তচর হয়ে কাজ করেছেন তা জাতির সামনে প্রমাণ হয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধা হলে জিয়া কোনোভাবেই একজন কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী, গণহত্যাকারী আলিমকে মন্ত্রী বানাতে পারতেন না, যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করতেন না। একজন মানুষের কাজের মধ্যে দিয়েই তার প্রকৃত আদর্শ ফুটে উঠে। বিএনপিতে আজ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষ নিয়ে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। একদিন বিএনপিতে থাকা মুক্তিযোদ্ধাসহ পক্ষের নেতাকর্মীরা হয় স্বাধীনতার পক্ষের আওয়ামী লীগে আসতে হবে, নতুবা খালেদা জিয়া ও জামায়াতকে ত্যাগ করে আরেকটি বিএনপি গঠন করবে।
জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, মানবতাবিরোধী ও গণহত্যাজনিত অপরাধে জড়িতদের দ- মওকুফ বা ক্ষমা করার বিষয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংকুচিত করতে হবে। আমরা যদি সত্যিই তরুণ প্রজন্মের গণদাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করি, তবে যুদ্ধাপরাধীদের দন্ড যাতে কোনো রাষ্ট্রপতি মওকুফ বা ক্ষমা করতে না পারে সেজন্য সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনতে হবে। কেননা মহাজোট সরকার সবসময় ক্ষমতায় থাকবে না। এ সুযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে যুদ্ধাপরাধীদের দন্ড মওকুফ করা হয় তখন কিছুই করার থাকবে না। তিনি আইন সংশোধন করে হরতালের যথেচ্ছ অপব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা মহাজোটে আছি কিন্তু কোনই মূল্যায়ন নেই। আগামী নির্বাচনে মহাজোটে জাতীয় পার্টি না থাকলে কি হবে, তা ভেবে দেখে এখনই সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদকে মূল্যায়ণ করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, তরুণ প্রজন্ম রাজীবের রক্ত বৃথা যায়নি। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শামসুজ্জোহা রক্ত দিয়ে আইয়ুব খানের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তেমনি আজ রাজীবের রক্ত জামায়াতের ভিত নাড়িয়েছে। একাত্তরের পিশাচ, নরঘাতক জামায়াতে ইসলামীর হরতাল প্রত্যাখ্যান করে জনগণ সেই জবাব দিয়েছে। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে সোচ্চার, অথচ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আজ যুদ্ধাপরাধীদের রাজবন্দী আখ্যায়িত করে তাদের মুক্তি চেয়েছেন। পলক বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের প্রত্যাখান করার পাশাপাশি আমরা যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশয়দাতাদেরও প্রত্যাখ্যান করব।