মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ৭ ফাল্গুন ১৪১৯
যুদ্ধাপরাধীর বিচারে যুক্তরাজ্যের সমর্থন রয়েছে
সফররত ব্রিটিশ মন্ত্রী
কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য ন্যায়বিচার দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন সফররত যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ব্যারোনেস সাইয়েদা হুসেইন ওয়ার্সি। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ মন্ত্রী এ কথা বলেন।
এদিকে যুক্তরাজ্য ভিসা সেন্টারে নতুন ভিসা প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ মন্ত্রী শাহবাগের গণজাগরণের বিষয়ে কোন মন্তব্য না করলেও বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারকার্যে যুক্তরাজ্যের সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্সির বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সফররত মন্ত্রী যুদ্ধপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য ন্যায়বিচার দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা ওয়ার্সিকে বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সবচেয়ে উদার। অন্যান্য দেশের আইনে আপীল করার সুযোগ না থাকলেও বাংলাদেশের আইনে তা আছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যই তা করা হয়েছে।
ওয়ার্সিকে জানানো হয়, একাত্তরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সহযোগী হয়ে নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতার সাজার রায় হয়েছে ট্রাইব্যুনালে। এ ছাড়া জামায়াতের আরও আট নেতা ও বিএনপির দুইজনের বিচার চলছে।
এ ছাড়াও বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমান সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার পর্যায়ে হয়ে যাওয়া প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার নির্বাচনের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নির্বাচনই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। কোন নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও শক্তিশালী। নির্বাচনের সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কমিশনের অধীনেই থাকে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে সরকারের কোন হস্তক্ষেপ থাকবে না।
ব্রিটিশ মন্ত্রী ওয়ার্সি বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের গণমুখী এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের জন্যই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। তার সরকার নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির অনুরোধ করেন। এ ব্যাপারে তিনি বিশেষ করে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন উপস্থিত ছিলেন।
একই দিনে ব্রিটিশ মন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও সাক্ষাত করেন। আজ সোমবার বেলা ১১ টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে তিনি সাক্ষাত করবেন।
এদিকে সোমবার রাজধানীর গুলশান-১-এ যুক্তরাজ্য ভিসা সেন্টারে নতুন ভিসা প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় ওয়ার্সি বলেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে যে বিচার চলছে তাতে যুক্তরাজ্যের সমর্থন রয়েছে। যুক্তরাজ্য চায় এ বিচার চলুক। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য সব সময় মৃত্যুদ-ের বিরুদ্ধে। আমরা চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন স্বচ্ছ, ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। তা না হলে এ বিচার নিয়ে জনগণের মধ্য আস্থাহীনতা তৈরি হবে। সেই পরিস্থিতি ভাল হবে না।
হরতালের বিরোধিতা করে ব্যারোনেস ওয়ার্সি বলেন, প্রতিটি মানুষের প্রতিবাদ করার এবং ধর্মঘট করার অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি মানুষের অধিকার রয়েছে কর্মস্থলে নিরাপদে পৌঁছে পরিবারের জন্য উপার্জন করা।
এদিকে আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছিলো। ওই নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছিলো। যুক্তরাজ্য চায় বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনও যেন ওই রকমই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়।
উল্লেখ্য, তিনদিনের সফরে রবিবার ঢাকায় এসেছেন ব্রিটিশ মন্ত্রী।