মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ৭ ফাল্গুন ১৪১৯
ধিক্কার ও গণরোষ থেকে বাঁচতে জামায়াতের কৌশল বদল
নানান ব্যানারে পীর মাশায়েখদের নাম ব্যবহার করে মাঠে নামছে
শংকর কুমার দে ॥ ‘তুই রাজাকার’, ঘৃণাভরা গালির মতোই এখন মানুষের মুখে মুখে। বিক্ষুব্ধ জনতার রুদ্ররোষ থেকে বাঁচতে জামায়াত-শিবির কৌশল পাল্টেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ‘মুসাফিরিন উলামায়ে কেরাম’, ‘পীর মাশায়েখ ও জনতার মঞ্চ’ ও ‘আলেম মাশায়েখ’ ইত্যাদি নামে মাঠে নেমেছে তারা। নতুন প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে জামায়াত-শিবিরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠার পর আলেম মাশায়েখদের নাম ও ধর্ম বিক্রি করে বাঁচার জন্য এটা তাদের নতুন কৌশল।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়া জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে আলেম মাশায়েখ নামের ব্যানারে আন্দোলন গড়ে তুলতে কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ইতোমধ্যেই এই ধরনের নামের ব্যানারে কর্মসূচী ঘোষণার ব্যাপারে প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে জামায়াত। এমনকি স্বাধীনতা প্রজন্ম চত্বরে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চ থেকে নাকি আলেম মাশায়েখদের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার চালানো হচ্ছে বলে জামায়াত-শিবির ভিন্ন ভিন্ন ব্যানারে অভিযোগ করেছে। জামায়াত-শিবিরের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা প্রচার মাধ্যমে আলেম মাশায়েখ নাম ব্যবহার করে তাদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ এনে খবরও ছাপানো হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এই ধরনের তথ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ইসলামী সমমনা ১২ দলের ব্যানারে জামায়াত-শিবির জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তাসহ রাজধানীর বিভিন্নস্থানে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়িতে আগুন, ভাংচুর, সন্ত্রাসের তা-বলীলা চালানোর কারণে তারাও ক্ষুব্ধ। জামায়াত-শিবির ইসলামী সমমনা ১২ দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে ইসলামী সমমনা ১২ দল ক্ষুব্ধ হয়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মসূচীতে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ইতোমধ্যেই জামায়াতের এই সহিংসতার সঙ্গে নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ না হয়ে বিচার করা হলে ইত্যাদি ধরনের শর্ত দিয়ে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের পক্ষে অভিমত দিচ্ছে বিএনপি। বিএনপির নেতৃবৃন্দ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের তারুণ্যের কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিসহ তাদের দলীয় দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে কৌশলে জামায়াতের পক্ষেই নীরব সমর্থন ও সংহতি জানিয়েছেন। এসব কারণে জামায়াত-শিবির ১৮ দলীয় জোট ও সমর্থকদের কাছ থেকে দূরে ছিটকে গিয়ে বেকায়দায় পড়ে গেছে।
জামায়াত-শিবির হরতালসহ নানা ধরনের কর্মসূচী ঘোষণা করে বিভিন্নস্থানে গণধোলাই খাচ্ছে। জামায়াত-শিবিরের পক্ষাবলম্বী বুদ্ধিজীবীরা অবাঞ্ছিত হচ্ছেন। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা সংবাদ মাধ্যম, ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিকভাবে বয়কট করায় কোনঠাসা হয়ে পড়েছে তারা। প্রজন্ম সেনা রাজীব হায়দার শোভনকে খুন করার পর শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ঘৃণামিশ্রিত ধিক্কার দেয়া শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা সংবাদ মাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই শাহবাগের স্বাধীনতা প্রজন্ম চত্বরের কর্মসূচী ঘোষণা ও পালনসহ নানা ধরনের সফলতার কথা তুলে ধরায় জামায়াত-শিবির এখন ঘৃণা মিশ্রিত এক গালিতে পরিণত হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জামায়াতের বিচারের জন্য সংসদে আইন পাসসহ জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার চিন্তাভাবনার কথা বলা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিত্ব ইতোমধ্যেই জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার জন্য দাবি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনতার দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘মুসাফিরিন উলামায়ে কেরাম’, পীর মাশায়েখ ও জনতার মঞ্চ, আলেম-মাশায়েখ ইত্যাদি নামের ব্যানারে মাঠে নামছে জামায়াত-শিবির।
গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা দৈনিক জনকণ্ঠকে বলেছেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করে চোরাগোপ্তা হামলা, ঝটিকা মিছিল করে পুলিশের ওপর আক্রমণ, গাড়িতে আগুন, ভাংচুর, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য সৃষ্টি করে মানুষজনের আস্থা হারিয়ে ঘৃণিত হয়ে পড়েছে জামায়াত-শিবির। এই ঘৃণাকে ক্ষোভে পরিণত করেছে শাহবাগের স্বাধীনতা প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণের মঞ্চের তারুণ্য। এজন্য তারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার ঠেকাতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ‘মুসাফিরিন উলামায়ে কেরাম, ‘পীর মাশায়েখ ও জনতার মঞ্চ’ ও আলেম-মাশায়েখ নামের ব্যানারে মাঠে নেমেছে বলে উল্লেখ করেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। প্রজন্ম সেনা রাজীবকে খুন করার আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়ার মতো ঘৃণার আর ক্ষোভ একাকার হয়ে গিয়ে রাজাকারের মতোই গালিতে পরিণত হয়েছে এখন জামায়াত-শিবিরের নামটিও।