মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ৭ ফাল্গুন ১৪১৯
প্রজন্ম চত্বরে অবস্থানের ১৪ দিনে ॥ শোকের কালো রং
০ প্রজন্মসেনা শহীদ রাজীব স্মরণে শাহবাগসহ সারাদেশে একযোগে উঠল কালো পতাকা, সবার বুকে কালো ব্যাজ
০ তারকা ও বিজ্ঞাপনদাতাদের দিগন্ত টিভি বর্জন
০ পাড়ায় পাড়ায় ব্রিগেড, শাহবাগে প্রজন্ম স্তম্ভ
রাজন ভট্টাচার্য ॥ জামায়াতের ডাকা হরতালে প্রত্যাখ্যানে ও যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে ক্ষোভে-বিক্ষোভে উত্তাল ছিল শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর। যোগ দিয়েছেন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ। প্রজন্ম সেনা রাজীব স্মরণে সকাল ১১টায় গণজাগরণ মঞ্চসহ দেশব্যাপী একযোগে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচী পালন করা হয়। এ সময় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সমবেতরা। বাসা-বাড়ি-অফিস-আদালত-দোকান সবখানেই কালোয় কালোয় প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশপ্রেমিক মানুষ। সংহতি প্রকাশ করে দিগন্ত টিভি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন অর্ধশতাধিক তারকা অভিনয় শিল্পী, পরিচালক ও প্রযোজক। রাজাকার ও তাদের সমর্থকদের দেশ ছাড়ার দাবি জানিয়েছেন সকলেই। আন্দোলনের ফাঁকে ফাঁকে চলে হরতালবিরোধী স্লোগান। হরতাল বর্জন করে সর্বস্তরের মানুষকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান তরুণযোদ্ধারা। রাত নয়টার পর নতুন কর্মসূচী ঘোষণার কথা রয়েছে প্রজন্ম চত্বর থেকে।
শাহবাগে স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী প্রজন্ম স্তম্ভ। সংহতি প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, দেশে রাজাকারদের কোন ঠাঁই নেই। রবিবার হরতাল প্রত্যাখ্যান করতে জাগরণ মঞ্চ থেকে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হরতাল প্রত্যাখ্যান করে রাস্তায় নামেন সর্বস্তরের জনতা। খোলা ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দোকানপাট ও শপিং মল। মালিক সমিতির ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকার রাস্তায় গণপরিবহনও চলাচল করেছে প্রচুর। হরতাল মানি না/মানবো না/জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি/ আইন করে বন্ধ কর এসব স্লোগান দেন প্রজন্মযোদ্ধারা। এসেছে সময় এবার/বাংলাদেশ জেগেছে আবার/হবেই-হবেই-হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এই গানে আন্দোলনকারীদের সবাইকে মাতিয়ে রাখে তরুণ শিল্পী সাগর।
দিগন্ত টিভি বর্জনের আহ্বান তারকাদের ॥ জনজাগরণের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় দিগন্ত টেলিভিশন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন অভিনয় শিল্পীরা। বিকেলে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে এসে তারা এ ঘোষণা দেন। এর আগে জাতীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে একই ঘোষণা দেয়া হয়। সমাবেশ শেষে অর্ধশতাধিক শিল্পী-কলাকুশলীর দলটি শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।
যুদ্ধাপরাধীর মালিকানায় চলা এই টিভি চ্যানেলটির আর কোন অনুষ্ঠান প্রযোজনা, পরিচালনা বা নাটকে অভিনয় করবেন না বলেও তারা জানান। শহীদ মিনারে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, অভিনয় শিল্পী সংঘ, ডিরেক্টরস গিল্ড এই তিনটি সংগঠনের ব্যানারে শিল্পীরা সংহতি প্রকাশ করেন। এ সময় পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন জেমি বলেন, আমরা ঠিক করেছি এখন থেকে জামায়াতের যে কোন মিডিয়ায় কাজ করা বন্ধ করে দেব। ইতোমধ্যে তিনি দিগন্ত টেলিভিশনে চলচ্চিত্রবিষয়ক একটি ধারাবাহিক অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানান।
জামায়াতের মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন না দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশন এ্যান্ড ফিল্ম এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ঝুনা চৌধুরী, সুবর্ণা মুস্তাফা, বদরুল আনাম সৌদ, অভিনেতা ওয়াহিদা মল্লিক জলি, গাজী রাকায়েত, জয়া আহসান, কুসুম শিকদার, আজিজুল হাকিম, শম্পা রেজা, তারিক আনাম খান, রোকেয়া প্রাচী, হাসান মাসুদ, নাদের চৌধুরী, চঞ্চল চৌধুরী, কচি খন্দকার, অরণ্য আনোয়ার, কেএস ফিরোজ, আফরোজা বানু, সাবেরী আলম, রওনক হাসান, শান্তা ইসলাম, জ্যোতিকা জ্যোতি, হাসান মাসুদ, বৃন্দাবন দাস, শাহনাজ খুশি, তারেক মাহমুদ, আনজাম মাসুদ, গোলাম ফরিদা ছন্দা, বিন্দু, মনিরা মিথু, ইমরান হোসেন ইমু, অহনা, হিল্লোল, চিত্রলেখা গুহ, নওশীন, অদ্বিতীয়া কোয়েল প্রমুখ।
এছাড়া শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরের গণআন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খোকন, মহাসচিব মুশফিকুর রহমান, অভিনেত্রী রাশেদা চৌধুরীসহ সংগঠনের নেতারা গণজাগরণ চত্বরে এসে সংহতি জানান। শহিদুল ইসলাম খোকন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আগামীতেও তাদের সঙ্গে আন্দোলনে থাকার কথা জানান। উপস্থিত সমবেতদের নিয়ে ‘ওই রাজাকার, তুই রাজাকার’ স্লোগানও দেন শহিদুল ইসলাম খোকন।
খুব ভোরে, এসেছি এখানে-সার্কেলের গান ॥ শাহবাগের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ব্যান্ড দল ‘সার্কেল’ বেঁধেছে গান- ‘খুব ভোরে, এসেছি এখানে জনস্রোতে হারাই’। তরুণ শিল্পীদের ছোট দলটিকে শাহবাগেই দেখা গেছে বার বার। জনস্রোতে হারিয়ে গিয়ে দলের সদস্যরা যেমন স্লোগান তুলেছেন তেমনি গেয়েছেন গান। তাঁদের গানে নতুন সূর্যটাকে নতুন করে দেখার প্রত্যয়। দলের সদস্য সঞ্জয় বিশ্বাস ‘প্রতিশ্রুতি’ শিরোনামে তাদের নতুন গানটি প্রসঙ্গে বলেন, এটি মূলত ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকা। শাহবাগের আন্দোলন হাজার বছরের পরেও বেঁচে থাকবে। তিনি বলেন, সার্কেল একটি ছোট্ট ব্যান্ড দল। এখনও পর্যন্ত আমরা গান করি নিজেদের জন্য। তবে শাহবাগ কারও একার বা নিজেদের বিষয় নয়। এটি সবার। গোটা দেশবাসীর এটি প্রাণের আন্দোলন। তাই এই গানটি করা। ‘খুব ভোরে, এসেছি এখানে/ জনস্রোতে হারাই/এক হয়ে/ নতুন সূর্যটাকে দেখব বলে, নতুন করে আজ এখানে মিশে যাই এক শরীরে/ তোমায় দেয়া কথা রাখব বলে আমার চিৎকার বাতাসে মিশে/ বধির তুমি, শুনতে কি পাও তা?
রাজীব স্মরণে উঠল কালো পতাকা ॥ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে চলমান আন্দোলনে অংশ নিয়ে রাজীবসহ যে তিনজন শহীদ হয়েছেন তাদের ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গণজাগরণ চত্বরে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়। কালো পতাকা উত্তোলন শেষে আন্দোলনকারীরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় প্রতিবাদী সেøাগান ধরেন সবাই। আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না/ রাজীবের রক্ত বৃথা যেতে দেব না/ তোমার আমার ঠিকানা/শাহবাগের মোহনা/ এক রাজীব লোকান্তরে, লক্ষ রাজীব ঘরে ঘরে।
প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনকারীরা শপথ নেন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকরসহ ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবে না। চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আন্দোলনের সঙ্গে দেশপ্রেমিক সকল মানুষকে একাত্ম হতে আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য-স্বাধীনতার ৪২ বছর পর মানুষ আবারও জেগে উঠেছে। সবাই সাম্প্রদায়িকতা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে এক। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই সময়ে সবাইকে জেগে ওঠা উচিত। ’৭১-এর ঘাতক কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে চলমান গণআন্দোলনের ১৪তম দিন ছিল সোমবার। ইতোমধ্যে গণআন্দোলনের ঢেউ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে প্রবাসেও। নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে গণজোয়ারে আসা মানুষের সংখ্যা।
কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদ-ের রায় প্রত্যাখ্যান করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শাহবাগ মোড়ে এ বিক্ষোভের সূচনা করে ব্লগার ও অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম। এরপর বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ আন্দোলনে যোগ দেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় মহাসমাবেশ। ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাগরণ সমাবেশ। উভয় সমাবেশেই যোগ দেন লাখো জনতা। শুক্রবার রাতে ব্লগার রাজীবকে খুন করে জামায়াত-শিবির। এর পরই আন্দোলনের নতুন মাত্রা যোগ হয়। দেশজুড়ে শুরু হয় উত্তাল আন্দোলন। রাজীবের লাশ ছুঁয়ে শপথ নিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে। শনিবার রাতে রাজীবসহ নিহতদের স্মরণে সোমবার সারাদেশে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচী পালন করা হয়। একযোগে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসহ পাড়া-মহল্লায় বাড়ি বাড়ি কালো পতাকা উত্তোলন করতে দেখা গেছে। কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। এদিকে হরতাল উপেক্ষা করে সোমবার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ প্রজন্ম চত্বরে এসে সংহতি প্রকাশ করেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও শিক্ষার্থীরা এসে সংহতি প্রকাশ করেছেন। রবিবার দিনভর বৃষ্টি থাকায় সোমবার মধ্য রাতে প্রজন্ম চত্বরে ত্রিপল দিয়ে শেড নির্মাণ করা হয়েছে। প্রজন্মসেনারা জানিয়েছেন, বৃষ্টির আশঙ্কায় শেড নির্মাণ করা হয়েছে। কারণ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।
রাজাকার সমর্থকদের দেশ ছাড়ার
দাবি ॥ শুধু যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি নয়, রাজাকার সমর্থকদের বাংলাদেশে বসবাসও নিষিদ্ধ করতে হবে। শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ এ অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শাহবাগের গণজাগরণ নতুন কোন বিষয় নয়। ৪১ বছরের যে অমীমাংসিত কাজ রয়ে গেছে তা সমাধান করে দেশকে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত করতে হবে। আমরা চাই দেশ থেকে রাজাকাররা চলে যাক। কারণ তারা বাংলাদেশ ও স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না।
আজিজুল হাকিম যা বললেন ॥ প্রজন্ম চত্বরে সংহতি জানাতে এসেছিলেন অভিনেতা আজিজুল হাকিম। এ সময় তিনি বলেন, তরুণরা দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ শাণিত করছে। ’৭১ সালেও তরুণরা মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। আজও সেই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে প্রজন্ম চত্বরের তরুণদের মধ্যে। আমরা অনেক আগে থেকেই চেয়েছিলাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক। এ ধরনের আন্দোলন আরও আগেই শুরু হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তরুণরা নিজ উদ্যোগে এ আন্দোলন শুরু করায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
চির বিদায় নিলেন শান্ত ॥ শাহবাগের আন্দোলনে টানা অংশগ্রহণ করে অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন কার্টুনিস্ট ও ছড়াকার তরিকুল ইসলাম শান্ত। সোমবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সাইবারযোদ্ধা ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আমরা তিন সহকর্মীকে হারিয়েছি। আমরা তাদের ত্যাগ কখনও ভুলব না। এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আমরা আন্দোলনকে কাজে লাগাব। শান্তর মৃত্যুর ঘটনায় বিকেল ৫টা ৫৯ মিনিট থেকে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শান্ত বিকেলে সংস্কৃতি কর্মীদের সঙ্গে মিছিল নিয়ে শাহবাগে যান। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হলে ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দেশে রাজাকারদের কোন ঠাঁই নেই অর্থমন্ত্রী ॥ দেশে রাজাকার, আলবদরদের কোন ঠাঁই নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সোমবার বিকেলে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, এর আগে তরুণ প্রজন্ম বিকৃত ইতিহাস জেনেছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এতই শক্তিশালী যে, তরুণ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস আবার ফিরিয়ে এনেছে। তরুণরা জেগেছেন। তাদের থামিয়ে রাখা যাবে না। তারা এগিয়ে যাবেন।
পাড়ায় পাড়ায় ব্রিগেড ॥ শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের জাগরণ পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। বলা হয়েছিল ব্রিগেড গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে মাঠে নামার। আন্দোলনকারীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে পাড়া-মহল্লায় শুরু হয়েছে আন্দোলন। চলছে নানা কর্মসূচী। রাজধানীর পুরান ঢাকার বাহাদুরশাহ পার্কে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে স্বাধীনতা প্রজন্ম মঞ্চের ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পুরান ঢাকার সুশীল সমাজ এই আয়োজন করেছে।
এদিকে, শাহবাগে গণজাগরণ চত্বরের আহ্বানে পুরান ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কালো পতাকা ও কালো ব্যাজ ধারণ করেছে শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংহতি জানিয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের সঙ্গে একাত্ম হয়ে স্বাধীনতা মঞ্চ যতদিন প্রয়োজন এই আন্দোলন চালিয়ে যাবে। জুবিলী স্কুল, সেন্ট গ্রেগরি স্কুল, সরকারী কবি নজরুল কলেজ, সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ, মহানগর মহিলা কলেজ, বাংলাবাজার স্কুলসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।