মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ৩০ মাঘ ১৪১৯
নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সাঈদীর ছেলে গ্রেফতার
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের মামলায় বিচারাধীন জামায়েতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দ্বিতীয় ছেলে শামীম বিন সাঈদসহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর থেকে আটক করা হয়েছে তাদের। সাঈদীর ছেলে শামীম বিন সাঈদীর অপর ৩ সহযোগী হচ্ছে মোশারফ হোসেন, আবদুর রশিদ ও হাবিবুর রহমান। পুলিশ তাদের বহনকারী গাড়ি চালককে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিয়েছে। শামীম বিন সাঈদীসহ তার সহযোগীদের আটকের পর মিন্টো রোডের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অফিসে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা পুলিশের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, উত্তরা এলাকা থেকে দুপুর বারোটায় সাঈদীর ছেলে শামীমসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাশকতার ষড়যন্ত্র করছিল এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর মিন্টো রোডের কার্যালয়ে এনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সাঈদীর বিরুদ্ধে যে কোন দিন রায় ঘোষণা হতে পারে। রায় সাঈদীর বিরুদ্ধে গেলে তারা রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা পুলিশ এসব ব্যাপারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেছেন, সাঈদীর ছেলে শামীমসহ চারজনকে আটক করার পর ডিবি পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে কি তথ্য পাওয়া গেছে এই ব্যাপারে তিনি কিছুই বলেননি।
ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) গোবিন্দ চন্দ্রের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সোমবার সকাল থেকেই শামীমকে বহনকারী একটি মাইক্রোবাসকে অনুসরণ করে। এরপর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টর নন্দন সুপারশপের সামনে থেকে পুলিশ আটক করার পর তাদের গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে আনা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ জানান, শামীমের সঙ্গে আটক মোশাররফ হোসেন রাজধানীর একটি ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষক। আবদুর রশিদ কলম্বিয়া ট্যুর এ্যান্ড ট্র্যাভেল এজেন্সি নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালান। হাবিবুর রহমান বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত মারিয়ামে শিক্ষকতা করেন।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের মামলায় কারাগারে রয়েছেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে তাঁর মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, শামীমসহ চারজনকে আটকের পর মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতের হরতালে ভাংচুর ও নাশকতার ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাঈদীর যে কোন দিন রায় ঘোষণা হলে তারা নাশকতাসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল বলে গোপন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা পুলিশ এসব ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ বিন সাঈদী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, রাজধানীর উত্তরার নিজ গাড়ি থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তার ভাই শামীমকে আটক করেছে। তবে গাড়ির ড্রাইভারকে ছেড়ে দিয়েছে। সাঈদীর তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। সাঈদীর দ্বিতীয় ছেলে হচ্ছে গ্রেফতারকৃত শামীম।