মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ৩০ মাঘ ১৪১৯
প্রকম্পিত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে জনসমুদ্র
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ‘ফাঁসি চাই-ফাঁসি চাই, যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই’ এ সেøাগানে প্রকম্পিত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণের গণজাগরণ মঞ্চ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এখানে এসে একাকার হয়েছে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী নির্বিশেষে সকল শ্রেণীপেশার মানুষ। সবার মুখে এক কথাÑ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবেন না। সোমবার চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চে এসে সংহতি প্রকাশ করেছেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক কামাল লোহানী। তরুণদের এ জাগরণে অভিভূত হয়ে তিনি স্বাধীনতার চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সোমবারও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে দুপুরের আগ থেকেই জড়ো হতে শুরু করে তরুণরা। যোগ দেয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও। যারা সাধারণত রাজনৈতিক মিছিলে যান না তাঁরা শামিল হয়েছেন এ কর্মসূচীতে। বিকেল গড়াবার সঙ্গে সঙ্গে জনসমাবেশের আকারও বড় হতে শুরু করে। একপর্যায়ে কানায় কানায় ভরে যায় জামাল খান সড়ক। এক টানা চলতে থাকে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিবাদী সঙ্গীত ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে সেøাগান।
‘ফাঁসি চাই ফাঁসি চাইÑযুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই, আর কোন দাবি নাইÑযুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই, ধর রাজাকার মার রাজাকার, বাঁশের লাঠি তৈরি করÑরাজাকারদের খতম কর’Ñএমন ধরনের বিরামহীন সেøাগানে প্রকম্পিত হয় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বর। সড়ক জুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় আয়োজন। শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের হাতে জাতীয় পতাকা, আর মাথায় বাঁধা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি সংবলিত কাপড়। হাজার হাজার মানুষের ঢল জামালখান সড়ক অভিমুখে। মিছিলের গর্জন, প্রতিবাদী সঙ্গীত আর যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাঙ্গচিত্র সহকারে নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতীসহ সর্বস্তরের মানুষ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে এক মোহনায় মিলেছে স্বাধীনতার পক্ষের সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী সংগঠন।
সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী তরুণ উদ্যোগের ব্যানারে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে ৭ দিন আগে এ আয়োজন শুরু হলেও এখন এর নামকরণ হয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। যথারীতি প্রতিবাদী সঙ্গীত ও পথ নাটক পরিবেশন করে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। কর্মসূচীতে সংহতি প্রকাশ করে ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, আবৃত্তি সংগঠন বোধন, প্রজন্ম একাত্তর, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং বিভিন্ন প্রগতিশীল সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। দু’দিন ধরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পরিকল্পিত শোডাউন বেশ লক্ষণীয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই সামনের স্থানগুলো দখলে রাখার চেষ্টা দেখা যায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে। সোমবারও যোগ দিয়েছে সকল সংগঠন। তবে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি ছাড়া ছিল না দলীয় সেøাগান। অবস্থান কর্মসূচী সঞ্চালন করেন সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার, আবৃত্তিকার রাশেদ হাসান, উদীচী সাধারণ সম্পাদক সুনীল ধর, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী তরুণ উদ্যোগের শরীফ চৌহানসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।