মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ৩০ মাঘ ১৪১৯
১১ মার্চ গণমাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি
সাংবাদিক মহাসমাবেশ
থেকে ঘোষণা ॥
সাগর-রুনীসহ সব
সাংবাদিক হত্যার
বিচার দাবি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকা-ের বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ১১ মার্চ গণমাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। ওই দিন সকাল ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত গণমাধ্যমে এ কর্মসূচী পালিত হবে। সাগর-রুনী হত্যাকা-ের বছরপূর্তির দিন সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সাংবাদিক মহাসমাবেশ থেকে এ কর্মসূচীর ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলেছেন, সাগর-রুনীসহ স্বাধীনতার পর সব সাংবাদিক হত্যার বিচার, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই কর্মবিরতি পালন করা হবে। দেশের সকল সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদ সংস্থা, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ও রেডিওতে সংবাদ প্রচার-প্রকাশ বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে এ মহাসমাবেশ থেকে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মহাসমাবেশে কর্মসূচী ঘোষণা করেন মহাসমাবেশের সভাপতি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী। যৌথভাবে এ সাংবাদিক মহাসমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। মহাসমাবেশে যোগ দেন ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে আসা সাংবাদিকরা। এ আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের আঞ্চলিক ও বিটভিত্তিক সংগঠনগুলোও ব্যানার নিয়ে যোগ দেয় মহাসমাবেশে। গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের নিজ বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টিভির বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনী। এ হত্যাকা-ের পর থেকেই সাংবাদিক সংগঠনগুলো বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। গত এক বছর ধরে সাংবাদিক সমাজ হত্যার বিচার চেয়ে আন্দোলন করে এলেও এখন পর্যন্ত খুনীদের বিচারের মুখোমুখি করতে না পারায় সাংবাদিক সমাজ ক্ষুব্ধ। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার আয়োজিত মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র অপর অংশের সভাপতি রুহূল আমিন গাজী, একাংশের মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, অপর অংশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক আবদাল আহমেদ, ডিইউজে’র একাংশের সভাপতি ওমর ফারুক, অপর অংশের সভাপতি আব্দুস শহিদ, ডিআরইউ’র সভাপতি শাহেদ চৌধুরী, ডিইউজে’র একাংশের সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ। ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান মহাসমাবেশ পরিচালনা করেন। সভাপতির বক্তব্যে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, আগামী এক মাস আমরা দেশের গণমাধ্যম সম্পাদক, মালিকপক্ষ এবং সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে আলোচনা অব্যাহত রাখব। সাংবাদিক হত্যার বিচার হবে না, এমন রাষ্ট্র আমরা চাই না। সাগর-রুনীর হত্যার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করলে তিনি আমাদের বলেছিলেন, খুনী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আজ আমরা জানতে চাই, সেই ব্যক্তিটি কে যাকে এখনও আইনের আওতায় আনা গেল না। র‌্যাব যদি তাদের তদন্ত শেষ করতে না পারে, তবে তাদের একদিন আমাদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, সাগর-রুনী হত্যার তদন্ত নিয়ে আপনি যে নাটক শুরু করেছেন তা সাংবাদিক সমাজ প্রত্যাখ্যান করেছে। এমন একদিন আসবে, যেদিন সাংবাদিকরা আপনার অপসারণ দাবি করবে। শাহবাগের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে পুরো জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। সেখানে কোন সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেবেন না। মুক্ত স্বাধীনতায় ভিন্ন মত থাকতেই পারে। নব্বইয়ে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে ও গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে যেভাবে সংবাদ মাধ্যম বন্ধ রাখা হয়েছিল, সাংবাদিক হত্যাকারীদের বিচারের জন্য আমরা সেভাবেই সংবাদ মাধ্যম বন্ধ রাখার কঠিন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।