মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ৩০ মাঘ ১৪১৯
চকরিয়ায় ব্রিজের রেলিং ভেঙ্গে পিকনিকের বাস নদীতে, হত ১৯
রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৩ র‌্যাব সদস্য
ঢামেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে
নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্সবাজার ও চকরিয়া ॥ সোমবার সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরাকান সড়কের চকরিয়ার চিরিঙ্গা এলাকায় পিকনিকের যাত্রীবাহী একটি বাস মাতামুহুরী ব্রিজের রেলিং ভেঙ্গে খাদে পড়ে গেলে নারী-শিশু-পুরুষসহ ১৯ জন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরও ২৫ জন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ সুপার সার্ভিস পরিবহন (নম্বর টাঙ্গাইল জ-১১-০০৮০) নামে একটি বাস কক্সবাজার যাওয়ার সময় ব্রিজের রেলিং ভেঙ্গে মাতামুহুরী নদীতে বালুচরে উল্টে পড়ে যায়। চালক-হেলপারসহ ওই বাসটিতে ৪৫ জন যাত্রী ছিল। তারা সকলেই গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা। শনিবার তারা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মইনুদ্দীন আহমদের উরশ মাহফিলে যোগদান করেন। গাজীপুর থেকে ফটিকছড়ি মাইজভা-ার হয়ে কক্সবাজার পর্যটন শহরে যাওয়ার পথে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাতামুহুরী ব্রিজের রেলিং ভেঙ্গে নদীর ভরাট হয়ে যাওয়া বালুচরে উল্টে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় ছয় মহিলাসহ ১৭ জন। পরে চমেক হাসপাতালে একজন এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে অন্যজনের মৃত্যু ঘটে। সূর্যোদয়ের আগে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মুসল্লিসহ শ’ শ’ মানুষ। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় চকরিয়া থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে

হাসপাতালে নিয়ে যায়। জানা গেছে, গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর পৌর এলাকার ৪৫ জনের একদল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পরিবার পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভা-ার দরবারে অনুষ্ঠিত বার্ষিক উরস মাহফিলে এসেছিলেন। উরস মাহফিল শেষে ড্রাইভার ও ২ জন হেলপারসহ ৪৫ জনের এই দলটি রবিবার রাত ১টায় বেড়ানোর জন্য কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়। নিরাপদ সুপার সার্ভিস নামে বাসটি ভোর ৬টায় চকরিয়া মাতামুহুরী ব্রিজের উপর পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙ্গে আনুমানিক ৩০ ফুট নিচে নদীতে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আহত যাত্রীরা জানিয়েছেন, বাসটি ব্রিজের মাঝামাঝি স্থানে পৌঁছার পর ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রেলিং ভেঙ্গে নিচে পড়ে গেলে গাড়ির ভিতর আটকা পড়ে সকলে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত চকরিয়া থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিশেষ উদ্ধারকারী টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কর্মকা- শুরু করে। বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যাওয়ায় বিশেষ ক্রেনের মাধ্যমে বাসের ভেতর থেকে নিহতদের লাশ ও আহতদের টেনে বের করা হয়। সকাল ১০টায় উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ১৮ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে ৮ বছরের এক শিশু। উল্লেখ্য, মাতামুহুরী নদীর উপর অবস্থিত ওই ব্রিজটি বেশ কয়েক বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ রুহুল আমিন, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জয়নাল আবেদীন, চকরিয়া সদর সার্কেলের এএসপি মোঃ খালেদুজ্জামান, পৌরসভার মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার, ওসি রণজিত কুমার বড়ুয়াসহ পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
নিহতদের পরিচয় ॥ পৃথক তিনটি হাসপাতালে ভর্তি থাকা ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন, শিল্পী বেগম (৩০), তার স্বামী আবুল শামা (৪০), মেহের আলীর পুত্র লাল মিয়া (৬০), মোহাম্মদ মোস্তফার পুত্র মোঃ তুহিন (১৬), আইনুল হকের পুত্র মোঃ হালিম (৫০), আবদুর রহিমের পুত্র মোঃ সবুজ (২৫), হাফিজ উদ্দিনের পুত্র হাবিব উদ্দিন (৫০), সুরুজ মিয়ার পুত্র রমিজ উদ্দিন (৩০), হারুন আলীর পুত্র আবদুর রব (৪০), জালালউদ্দিনের পুত্র নুরুল ইসলাম (৫০), সুরজ আলীর পুত্র মোহাম্মদ আজমত (৪০), গিয়াস উদ্দিনের পুত্র বাহার উদ্দিন (৩২), আবদুল জব্বারের পুত্র আবদুল কুদ্দুস (৫৫), মোঃ ইদ্রিসের স্ত্রী হেনুআরা বেগম (৫০), রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র আবদুর রহমান (৫০), কালু শেখের পুত্র সাইদুজ্জামান (৪০), নুরুল হকের কন্যা নুরসাত জাহান (৮) ও চল্লিশ বছর বয়সী আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহতদের মধ্যে আরও ৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার জানান, রাজশাহীতে ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত চার র‌্যাবের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ইনটেনসিভ কেয়ারে (আইসি) রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনকে সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে তাদের রাজশাহী থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। আহতরা হচ্ছেন, র‌্যাব-৫ এর পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মিজানুর রহমান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) তোয়ায়েল আহমেদ, কনস্টেবল মাকসুদ ও কনস্টেবল আবদুল লতিফ। তবে আইসিউতে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় কনস্টেবল মাকসুদকে হলিফ্যামিলি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।