মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯
সাগর-রুনী হত্যাকান্ডের তদন্ত ঘুরপাক খাচ্ছে ডিএনএ পরীক্ষার মধ্যে
কবে শেষ হবে কেউ জানে না, মোটিভও উদ্ঘাটন হয়নি
শংকর কুমার দে ॥ সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকা-ের তদন্ত এখন কেবল ডিএনএ পরীক্ষার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। খুব শীঘ্রই আরও সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে যুক্তরাষ্ট্রে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে অত্যাধুনিক উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তদন্তে খুনী শনাক্ত করার নির্দেশ কতকাল পরে আলোর মুখ দেখবে তা কেউ-ই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। আগামীকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য মহাসমাবেশ থেকে এই হত্যাকা-ের ব্যাপারে বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা করা হতে পারে।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আমেরিকার ল্যাবে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ টেস্টের মতো আরও অনেক সূত্র ব্যবহার করেও খুনীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু তারা কোন কূলকিনারা করতে পারছে না। এমনকি কোন আশার আলোও দেখাতে পারছে না। শুধু ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করার মধ্যে তদন্ত ঘুরপাক খাচ্ছে।
র‌্যাব দায়িত্ব নিয়ে কবর থেকে লাশ তুলে পুনর্ময়নাতদন্ত এবং নতুন করে তদন্ত শুরু করলে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও পরবর্তী ফল এ পর্যন্ত শূন্য। সাগর-রুনী হত্যাকা-ে জড়িত সন্দেহে ১৩ জনের ডিএনএ নমুনা যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে পাঠানো ছয়জনের নমুনায় কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে আরও সাতজনের নমুনা পাঠানো হয়। এসব নমুনার রিপোর্ট থেকে এ হত্যাকা-ের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন কোন তথ্য মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো নমুনা থেকে দুই ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ বৃত্তান্ত পাওয়া গেছে। কিন্তু এই দুই ব্যক্তির পরিচয় কিংবা তারা কারা তার হদিস মেলেনি। এমনকি এই ঘটনায় যাদের সন্দেহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়েছে তার সঙ্গে কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
শুধু ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার মধ্যে তদন্ত সীমাবদ্ধ থাকায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকারীদের গ্রেফতার পর্বের তদন্ত থমকে গেছে। র‌্যাবের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারেও এই হত্যাকা-ের কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরীক্ষা করা ডিএনএ ও অন্যান্য নমুনার সঙ্গেও এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকা-ের কোন যোগসূত্রের মিল না পাওয়ায় মামলার তদন্ত স্থবির হয়ে পড়েছে। ডিবি ও র‌্যাব দীর্ঘ ১১ মাসে খুনীদের শনাক্ত তো দূরের কথা, খুনের মোটিভও উদ্ঘাটন করতে পারেনি।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি খুনের ঘটনার পর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন খুনীদের গ্রেফতারের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে খুনীদের গ্রেফতার তো দূরের কথা তদন্তকারী সংস্থা ডিবি আদালতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করার পর আদালতের নির্দেশে তদন্তভার তুলে দেয়া হয় র‌্যাবের হাতে। র‌্যাবের হাতে তদন্তভার তুলে দেয়ার পর দীর্ঘদিনেও তদন্তে কোন অগ্রগতি হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর দায়িত্ব নেয়ার পর ১০ অক্টোবরের মধ্যে খুনীদের গ্রেফতার ও তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে জানাবেন বলে ঘোষণা দেন। এর একদিন আগে গত ৯ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে সাতজনকে গ্রেফতারের কথা জানান এবং এক পলাতক আসামিকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে হত্যাকা-ের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্যই পাওয়া যায়নি। বরং উল্টো অভিযোগ উঠেছে, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা এই হত্যাকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোন তথ্য না পাওয়া সত্ত্বেও তাদের আটকে রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেফতার রয়েছে সাতজন।
সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বনানীতে মাছরাঙা টেলিভিশনের সামনে ও কাওরানবাজারে এটিএন বাংলা অফিসের সামনে সাংবাদিকরা মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেসহ সারাদেশের সাংবাদিক সমাজ ১১ মাস ধরে কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে যেন সাংবাদিক সমাজের হুমকি হুঙ্কারের প্রতিবাদের ভাষাও অদৃশ্যে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট র‌্যাবের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খুব শীঘ্রই আরও সাতজনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য যুুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে। তবে খুনীদের শনাক্ত বা গ্রেফতারের ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তদন্তের অগ্রগতি হচ্ছে। হত্যাকা-ের তদন্ত কতদিনে শেষ হবে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা জানান, তদন্তে কতদিন সময় নেবে এটা নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারবে না।
উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারে ৫৮/১/২, ‘রশিদ লজ’ এ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও তাঁর স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।