মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ৮ জানুয়ারী ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯
রিজার্ভ ১৩শ’ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, সর্বকালের রেকর্ড
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিশ্রুত বৈদেশিক ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের আগেই শুধু রেমিটেন্স রফতানি নির্ভর হয়েই বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেল। বাংলাদেশ ব্যাংক গবর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এএফএম আসাদুজ্জামান সোমবার জনকণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, দিন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৩.০৫৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান জানান, বৈদেশিক মুদ্রার এ পরিমাণ মজুদ দেশের ইতিহাসে প্রথম এবং এটি সর্বকালের রেকর্ডও বটে। রেমিটেন্সের পাশাপাশি প্রতিশ্রুত বৈদেশিক সাহায্য আসা, রফতানি আয় বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে।
গবর্নর বলেন, এই বিপুল পরিমাণ রিজার্ভ দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে। আমদানি দায় হিসাবে এ পরিমাণ মজুদ দিয়ে ৫ মাসের ব্যয় মেটানো সম্ভব।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মজুদ সক্ষমতা বাড়ায় সর্বক্ষণিক বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ স্থিতি (রিজার্ভ) পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আকু পেমেন্টের পরও ১২ বিলিয়ন ডলার ধরে রাখতে সক্ষম হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমনটিই দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন গবর্নর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এটি বাস্তবায়ন করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দেশে এটিও হবে সর্বকালের সেরা আরও একটি নতুন রেকর্ড।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী গত নবেম্বরের প্রথম দিকে এ মজুদ ১২শ’ ২ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারে স্পর্শ করে। এর আগে গত ১২ অক্টোবর বৈদেশিক মদ্রার রিজার্ভ অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে ১ হাজার ১৫৩ কোটি (১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়ায়। এরও আগে রেকর্ড গড়েই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ১১ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। যা ডিসেম্বর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়ে ১২.৭৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। আর নতুন বছরের শুরুতেই ওই রিজার্ভ আরও বেড়ে ১৩.০৫৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। মূলত রিজার্ভ বৃদ্ধিতে রেমিটেন্স প্রবাহ ব্যাপক অবদান রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতবছর দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স এসেছে ১৪ বিলিয়ন ডলার।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই-নবেম্বর সময়ে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে রফতানি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আর গত বছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে আমদানি ব্যয় কমেছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অথচ আগের বছরের একই সময়ে এই ব্যয় ২৩ দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়েছিল।
ওদিকে ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম মাসের হিসাবে (জুলাই-নবেম্বর) বিদেশী সাহায্যের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এ সময়ে ৯৫ কোটি ডলারের মতো ছাড় করেছে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থা। ২০১১ সালে এই সময়ে এসেছিল ৪৫ কোটি ডলারের মতো। অথচ একটা সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে ১১ বিলিয়নে স্পর্শ করাই ছিল দুর্লভ। অন্যদিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশী এবং বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিদেশী পাসপোর্টধারী নাগরিকের দেশে রেমিটেন্স পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত নানমুখী পদক্ষেপের ফলে সম্প্রতি বৈধ চ্যানেলে অন্তর্মুখী রেমিটেন্স প্রবাহে উর্ধমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত (২০১১-১২) অর্থবছরে দেশের অর্জিত রেমিটেন্স প্রবাহ সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে প্রায় ১২.৮৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এ রেকর্ড পরিমাণ অর্জিত রেমিটেন্স বিগত অর্থবছরের তুলনায় ১০.২৪ শতাংশ বেশি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী গত বছর শেষে এর পরিমাণ ১৪শ’ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
রেমিটেন্স প্রবাহের বৃদ্ধি প্রসঙ্গে গবর্নর জানান, গত চার বছরে সরকার আশাব্যঞ্জকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও রেমিটেন্স আহরণকারী দেশগুলোতে সেবাসার্ভিস বাড়ানোর ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রত্যাবশনে ব্যাংকগুলোর ই-ব্যাংকিং, টেলিব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় দেশে রেমিটেন্স নিয়ে আসার তৎপরতা বাড়ছে। আবার সরকারী-বেসরকারী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা, ডাকঘর ও অন্য সেবাসার্ভিসগুলোকেও ব্যাংকের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এসব ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে রেমিটেন্স আহরণে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে।