মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ৮ জানুয়ারী ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯
দ্বিতীয় দফা শৈত্যপ্রবাহ শুরু, উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীত
স্টাফ রিপোর্টার ॥ টানা ৮ দিন পর দেশে আবার শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। দ্বিতীয়বারের মতো শীতে কাহিল হয়ে পড়ছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। গত ৩১ ডিসেম্বর সারাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া শৈত্যপ্রবাহ অনেকটাই থেমে গিয়েছিল। প্রতিদিনই ঝলমলে রোদের দেখা মিলেছে। ফলে শীত এ এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ছিল না বললেই চলে। কিন্তু সোমবার থেকে হঠাৎ করেই শুরু হয়েছে তীব্রশীত।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে বর্তমানে রংপুর ও শ্রীমঙ্গলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে সোমবার আকাশ প্রায় সারাদিন মেঘলা ছিল। সঙ্গে ঘন কুয়াশা থাকার কারণে সূর্যের মুখ প্রায় দেখা যায়নি। ফলে কিছুটা শীতের অনুভূতি ছিল। তবে ঢাকায় তীব্র শীতের অনুভূতি না থাকলেও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা পুনরায় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নতুন করে আবার তীব্র শীত অনুভূত হতে পারে।
এদিকে সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। উত্তরাঞ্চলের জেলা রংপুরে এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া এ অঞ্চলের আট জেলার মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস, পঞ্চগড়ে ৬.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস, নীলফামারীতে ৭.১ ডিগ্রী সেলসিয়াস, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে ৭.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস ও গাইবান্ধায় ৮.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট জেলার রিপোর্টার জানান।
নীলফামারী থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, পৌষের শেষ সপ্তাহে এসে উত্তরাঞ্চলে দ্বিতীয় দফা শুরু হয়েছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে কনকনে শীতের সাঁড়াশী আক্রমণে হাড় কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়েছে উত্তরের রংপুর বিভাগের আট জেলার কোটি মানুষ। বরফ শীতল উত্তুরে হাওয়া শীতের তীব্রতা কুঁকড়ে দিয়েছে জনজীবন। রবিবার রাত থেকে শুরু হয় উত্তুরে হাওয়ার দমকা ধাক্কা। বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝড়ে মাঠঘাট প্রান্তর ভিজিয়ে দেয়। শীতের তীব্রতায় বয়বৃদ্ধ, শিশু ও অসহায় মানুষজন নিদারুণ কষ্টভোগ করছেন।
গত ২৯ ডিসেম্বরের পর থেকে এ অঞ্চলের শীত একরকম হারিয়ে গিয়েছিল। প্রতিদিনই পাওয়া গেছে ঝলমলে রোদ। এর ৯ দিন পর শীত ফের হানা দিল। ভারতের হিমালয় পর্বত এলাকার দার্জিলিং জেলার সঙ্গে একীভূত বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার মহানন্দা নদীর কোলঘেষা বাংলাবান্ধা, তীরনই, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি, তিস্তা নদীর ডিমলা উপজেলার ৫ ইউনিয়ন, জলঢাকা উপজেলার ৫ ইউনিয়ন, লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, বুড়িমারী, আঙ্গরপোতা-দাহগ্রাম, কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা, দুধকুমাড়, বহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত মানুষ শীতের তীব্রতায় জর্জরিত। এসব এলাকার হিমাঙ্কের কাটা ৩ ডিগ্রীর নিচে এসেছে বলে অনেকে মনে করছেন।
স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম থেকে জানান, দিনে ও রাতে কনকনে ঠা-া হিম হাওয়ায় জেলায় নতুন করে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহের কারণে ২৪ ঘণ্টায় সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২ শিশু। এরা হলো মুক্তি (১১) মাস ও নিউ বেবী (৪ দিন)। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. নজরুল ইসলাম জানান, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও ৩৬ জন শিশু। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার কারণে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। কনকনে ঠা-ার কারণে খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
নিজস্ব সংবাদদাতা ঠাকুরগাঁও থেকে জানান, আর এক দফা শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার আগে থেকেই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে সকল এলাকা। সোমবার সারাদিন সূর্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় সকল বয়সের ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ কাহিল হয়ে পড়ে। গত ৩ দিন ধরে এখানে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। সন্ধ্যা থেকেই চারদিক কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। তার ওপর শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীত জেঁকে বসেছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। প্রচ- ঠা-ার কারণে আদিবাসী, ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষেরা কাজে যেতে পারছে না। ফলে সন্তান পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছে। প্রচ- ঠা-ায় হাড় কাঁপুনি শীতে নিম্নআয়ের মানুষজন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ঠা-ার কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের মাঝে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে শিশু রোগীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।