মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১৩, ২৩ পৌষ ১৪১৯
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও হরতালের অজুহাত ॥ দ্রব্যমূল্য বাড়ছে
এম শাহজাহান ॥ বেড়ে যাচ্ছে দ্রব্যমূল্য। ফের মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে শাক-সবজির দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। কেজিপ্রতি আলুর দাম বেড়েছে ৮-১০ টাকা। শুধু নতুন আলু নয় বেড়েছে পুরনো আলুর দামও। কাঁচা বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৮-৩০ টাকা। মৌসুমে আলুর অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ভোক্তারা হতবাক ও বিস্মিত। কারণ গতবছর এই মৌসুমে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৮-১০ টাকায়।
আর এ জন্য ব্যবসায়ীরা উৎপাদন কম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন। এ ছাড়া হরতালের প্রভাব পড়েছে বাজারে। হরতাল আসছে এ ধরনের আগাম সংবাদ পেলেই দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করে ব্যবসায়ীরা। এবার হরতাল ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দোকানে মজুতকৃত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ডাল, ডিম ব্রয়লার মুরগি এবং মিনিকেট চালের দাম আরেক দফা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কাপ্তানবাজারের জামশেদ স্টোরের ম্যানেজার গনি মিয়া জনকণ্ঠকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পাইকারি বাজারে কিছু পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে যোগ হয়েছে হরতাল। হরতালের সময় রাজধানীতে পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকতে পারে না। এখন হরতালের আগের দিন থেকে যানবাহন চলাচল কমে যায়। ফলে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ে।
এদিকে দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্য বাড়াসহ বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরতালসহ বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মসূচীর খবরে ইতোমধ্যেই খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা বাড়তির দিকে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে এলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশে চাল, ডাল, তেল, ডিম, মুরগি এবং শাক-সবজির মতো নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
এ ছাড়া পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বেশি পাওয়ার আশায় পণ্য মজুদ বাড়ানোর অপচেষ্টা করছে। বিশ্বমন্দা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে এতদিন খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ানো হলেও সম্প্রতি এর সঙ্গে যোগ হয়েছে হরতাল। পাইকারি বাজার হিসেবে খ্যাত রাজধানীর মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হরতালের আগে এবং পড়ে দ্রব্যমূল্য বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। হরতালে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যায় একই সঙ্গে সময়মতো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। ফলে ব্যবসায়ীরা না চাইলেও দাম বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
এ ছাড়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জ্বালানি ইস্যুতে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, বিশ্বমন্দা, ইউরোজোনের ঋণ সঙ্কট এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফিসক্যাল ক্লিফ-এর কারণে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপের মুখে রয়েছে। আর এতে খাদ্যপণ্য, যাতায়াত ভাড়া, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় সবকিছুই বেড়ে যাচ্ছে। অতি প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটাতে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে।
তথ্য মতে, গত ১০ মাসে ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকলেও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করেছে। গত নবেম্বর মাস থেকে ফের মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করেছে।
বিবিএসের তথ্য মতে, সর্বশেষ নবেম্বর মাসে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ হয়েছে। আর শহর এলাকায় নবেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ফের মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে দ্রব্যমূল্য বাড়বে। আর এর প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের উপর। বিশেষ করে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে এরপর যদি আরেক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় তাহলে সামষ্টিক অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করবে। বাড়বে মূল্যস্ফীতি।