মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৫ আশ্বিন ১৪১৯
বিদ্যুতের দাম পাইকারি ১৮ আর খুচরা ১৬ ভাগ বাড়ছে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একই সঙ্গে পাইকারি এবং খুচরা উভয় ধরনের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ বিকেলে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার জন্য কমিশন সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছে। পাইকারি গড়ে ১৮ ভাগ আর খুচরাতে গড়ে ১৬ ভাগ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হবে। আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের সø্যাব হচ্ছে ছয়টি। সকল সø্যাবের সুবিধা পাবে গ্রাহক। বর্তমান সরকারের সময় আর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হবে না।
বুধবার বিকেলে সরকারের শীর্ষ পর্যায়কে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে কমিশন অবহিত করে। বিইআরসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিশনের তিন সদস্য মোঃ ইমদাদুল হক, ড. সেলিম মাহমুদ এবং দেলোয়ার হোসেন ওই বৈঠকে অংশ নেন। তবে ওই বৈঠক সম্পর্কে কমিশনের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
বিইআরসি চেয়ারম্যান বুধবার বিকেলে জনকণ্ঠকে বলেন, বৃহস্পতিবার দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়া হতে পারে। দাম বৃদ্ধির ঘোষণার জন্য কমিশনের আরও কাজ বাকি রয়েছে। তবে গ্রাহক যাতে কোনভাবে বিড়ম্বনায় না পড়ে কমিশন বিষয়টি বিবেচনা করছে।
বিইআরসির এক সদস্য প্রতিবেদককে বুধবার সন্ধ্যায় এক ক্ষুদে বার্তায় জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেবে কমিশন। পরে রাতে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি কমিশন থেকে নিশ্চিত করা হয়।
এবার দাম বৃদ্ধির সময় আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুত বিল ছয়টি সø্যাবে নির্ধারণ করা হবে। নতুন এই সø্যাবগুলো হচ্ছে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট। ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট এবং ৬০১-এর উর্ধে।
বিইআরসি সূত্র জানায়, এবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কমিশনকে সব থেকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য নির্ধারণের জন্য পিডিবি প্রথমে ৫০ ভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। পরে সংশোধিত প্রস্তাবে তারা ৩৫ ভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। কমিশন হিসেবে করে দেখে এতটা বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই, এছাড়া এক সঙ্গে এতটা বৃদ্ধি জনগণের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে পিডিবি এবং বিদ্যুত বিভাগের তরফ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ দাম বৃদ্ধির জন্য কমিশনকে চাপ দেয়া হয়।
গত ২৪ জুন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৫৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুত বিতরণের দায়িত্বে থাকা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। এরপরের দিন পিডিবি তাদের বিতরণ এলাকার গ্রাহকদের জন্য ৫৫ থেকে ৫৭ ভাগ এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডও (আরইবি) ৫০ শতাংশের ওপরে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির দেয়।
পিডিবির ৫০ ভাগ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় গড়ে ইউনিট প্রতি সাড়ে ছয় টাকার মতো আর বিক্রি করা হয় গড়ে ৪ টাকা ০২ পয়সা। যদি ৫০ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ে, তার পরও পিডিবির এ বছরে আর্থিক ক্ষতি হবে ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ১ জুলাই থেকে এ দাম কার্যকরের সুপারিশ করেছে পিডিবি।
পিডিবি প্রস্তাবে বলে, নতুন দাম বৃদ্ধি না করা হলে আগামী অর্থবছরে ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে। আর কার্যকর হলে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার মতো লাগবে। যদিও চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৪০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে এ খাতের জন্য ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকার ভর্তুকি রাখা হয়েছে।
কমিশন সূত্র জানায়, পিডিবি প্রথমে ৮০ ভাগ প্লান্ট ফ্যাক্টরে বিদ্যুত কেন্দ্র চালানো হবে বলে কমিশনকে জানায়। কিন্তু ৮০ ভাগ প্লান্ট ফ্যাক্টরে বিদ্যুত কেন্দ্র চালানো অসম্ভব উল্লেখ করে সমালোচনার ঝড় উঠলে পিডিবি তেলভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্রর প্লান্ট ফ্যাক্টর ৩৭ ভাগে নামিয়ে আনে। যাতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রর জন্য ৫৪ ভাগ এবং ডিজেল কেন্দ্রর জন্য ২০ ভাগ প্লান্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া সকল বিদ্যুত কেন্দ্রর গ্যাসসহ প্লান্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করা হয় ৫৭ ভাগ।
বর্তমানে আবাসিক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ টাকা থেকে ৭ দশমিক ৮৯ টাকা। শিল্পের ক্ষেত্রে গড়ে ৬ টাকা থেকে ১০ টাকা।
পাইকারি পর্যায়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৫ দফা বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বিইআরসি। ২ টাকা ৩৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ২ পয়সা করা হয়েছে। একইভাবে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে সাড়ে ২৭ শতাংশ বেড়ে ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা ২ পয়সা হয়েছে । সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ পাইকারি ও খুচরা দাম যথাক্রমে প্রতি ইউনিট গড়ে ২৮ পয়সা ও ৩১ পয়সা বাড়ানো হয়। পহেলা মার্চ থেকে কার্যকর হয়।
পিডিবি একক ক্রেতা হিসেবে ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি), ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র, ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (ইজিসিবি) ও আশুগঞ্জ বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুত কেনে। এই বিদ্যুত পাইকারি গ্রাহক ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও আরইবির কাছে ও নিজস্ব বিতরণ অঞ্চলে খুচরা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে।