বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৫ আশ্বিন ১৪১৯ 
বিমানে সব অভ্যন্তরীণ রুটে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল
সঙ্কট শীঘ্র কেটে যাবে ॥ মন্ত্রীর আশ্বাস
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকেপড়া যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থায় গন্তব্যে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিমান। এ লক্ষ্যে বেসরকারী এয়ারলাইন্স ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের শ্লট কাজে লাগানোর সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে। সঙ্কট উত্তরণে বিমান অভ্যন্তরীণ রুটেও আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বাতিল করেছে। এদিকে বুধবার বিমানমন্ত্রী ফারুক খান হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করে আটকেপড়া যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্র দেখেন। এ সময় তিনি যাত্রীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা ধৈর্য ধরে শোনেন। তিনি বিমান কর্তপক্ষকে আটকেপড়াদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী ফারুক খান বুধবার সকালে বিমানবন্দরে আকস্মিক হাজির হন। এ সময় তিনি বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদ, পরিচালক সেবা স্কোয়াড্রন লিডার মাজহার চৌধুরী, পরিচালক শাহনেওয়াজ, পরিচালক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান, পরিচালক রাজপতি সরকার, পরিচালক ক্যাপ্টেন ইশরাত ও সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যানের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। তাঁরা মন্ত্রীর কাছে বিমানের সিডিউল বিপর্যয়ের সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরেন। এরপর তিনি দোতলায় বিমান সেলস সেন্টারের সামনে বহির্গমন যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। শতাধিক যাত্রী তাঁদের চরম ভোগান্তির বর্ণনা দেন। যাত্রীদের সবার অভিযোগ ছিল প্রায় একই রকম। সঠিক সময়ে যেতে না পারায় তাঁদের কারোর ভিসার মেয়াদ শেষ হবার পথে। কারোর ছুটি শেষ। তাঁদের হাতে সময় দুয়েকদিন। না যেতে পারলে তারা চাকরি হারাবেন। রিয়াদগামী যাত্রী বাবুল মনির সামনে আকুতিমিনতি করে ফরিয়াদ জানান, আজকের মধ্যেই তাঁকে যেন পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। যাত্রীদের ভোগান্তির কথা শুনে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যাঁদের ভিসা ও ছুটির মেয়াদ শেষ তাদের যেন বাছাই করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় কেন এমন সঙ্কট তৈরি হলো জানতে চাইলে ফারুক খান জনকণ্ঠকে বলেন, ভাড়া করা একটি উড়োজাহাজ চলে যাওয়া ও পাখির সঙ্গে ধাক্কায় অপর বিমান অরুণ আলোর ক্ষতি হয়েছে। তাতে ফ্লাইট সিডিউলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। কারণ এর মধ্যে একটি ডিসি-১০ ও লিজে আনা একটি ৭৬৭ বহরে যোগ দেবে। এ ছাড়াও মাসের শেষ দিকে সিঙ্গাপুরে মেরামতে থাকা এয়ার বাসটিও চলে আসবে। তাতে সঙ্কট মোকাবেলা সম্ভব হবে। এ জন্য তিনি যাত্রীদের ধৈর্য ধরার জন্য বিনীত আবেদন জানান। এ ছাড়াও বেসরকারী ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মাস্কাট ও জেদ্দার শ্লট ভাড়ায় নিয়ে যাত্রী পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট বাতিল সম্পর্কে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) খান মোশাররফ হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্য রুটের ফ্লাইট নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে যে সমস্যা চলছে তা মেটাতেই অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট আপাতত বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
এমডি ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, অভ্যন্তরীণ রুটের সব ডেডিকেটেড ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক রুটের সঙ্গে যৌথ ফ্লাইটগুলো অভ্যন্তুরীণ রুটে চলবে। যেমন ঢাকা চট্টগ্রাম জেদ্দার ফ্লাইট ঠিকই চলবে।
জানা যায়, বিমানের মোট সাতটি অভ্যন্তরীণ রুটের মধ্যে পাঁচটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বেশ কিছুদিন আগেই। বিভিন্ন রুটের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংযোগ ফ্লাইট হিসেবে এতদিন সিলেট ও চট্টগ্রামে অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট চললেও এখন তাও বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ ২৯ নবেম্বর পর্যন্ত সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের কোন ফ্লাইট ওঠানামা করবে না।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই ভাড়ায় আনা একটি বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজ গত ১২ সেপ্টেম্বর চলে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটসূচীতে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। বাতিল করা হয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের ডজনখানেক ফ্লাইট। পর্তুগালের বিমান সংস্থা এয়ার আটলান্টার কাছ থেকে ভাড়ায় আনা এ উড়োজাহাজটির চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ওই সময় পর্যন্ত ৫০৫ সিটের এ উড়োজাহাজটি দিয়ে আরও ৮টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা ছিল। বোয়িং-৭৪৭ উড়োজাহাজটি দিয়ে কুয়ালালামপুর, জেদ্দা, রিয়াদ, মাস্কাটসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল বিমান।
হজযাত্রী পরিবহনে ভাড়ায় আনা একটি বোয়িং ৭৪৭, দুটি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭ এবং একটি ডিসি ১০ উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে বিমান। ফলে উড়োজাহাজ সঙ্কটে থাকা বিমানের ফ্লাইটসূচীতে সৃষ্টি হয় বড় ধরনের বিপর্যয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বিমানের বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের আগে পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব নয়। ২৭১ আসনের একটি বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজ আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিমানবহরে যুক্ত হবে। এটি এলে আর কোন সমস্যা হবে না।
শাহনেওয়াজ জানান, সঙ্কট কাটাতে আপাতত বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজের যাত্রীদের পরবর্তীতে ছোট উড়োজাহাজে করে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিমানের উড়োজাহাজে পরিবহন সম্ভব না হলে অন্য বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর উড়োজাহাজে করে তাদের পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।
|