ডা. মতিউরের মৃত্যুতে সংসদ মুলতবি
সংসদ রিপোর্টার ॥ সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. মতিউর রহমানের মৃত্যুতে রবিবার জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডা. মতিউর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা শুধু দলের নেতা ও সংসদ সদস্যকেই হারাইনি, আমরা একজন সমাজসেবক, মানবতাবাদী ও উন্নত মানের চিকিৎসককে হারিয়েছি। তাঁর মৃত্যুতে আমাদের দল, দেশ ও জনগণের যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।
চলতি সংসদের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ডা. মতিউর রহমানের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। ডা. মতিউর রহমানকে শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। পরে জাতীয় সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। তবে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপিত হয়।
এর আগে বিকেল ৩টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডা. মতিউরের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং সমাজের গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টায় ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃথিবী ছেড়ে চলে যান ডা. মতিউর রহমান। আজ টাঙ্গাইলে নিজের গ্রামের বাড়িতে তাঁর দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।
ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অব) শওকত আলীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, সৌদি আরবে হজ পালন করতে গিয়ে ডা. মতিউর রহমানের সঙ্গে আমার পরিচয়। তিনি চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত রাজনৈতিক সচেতন ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে আমাদের দল ও দেশবাসীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। উনি বেঁচে থাকলে দেশ ও জাতির জন্য আরও অনেক কাজ করতে পারতেন। উনাকে হারিয়ে আমরা কেবল সংসদ সদস্য হারাইনি, একজন সমাজসেবক ও উন্নত মানের একজন চিকিৎসককে হারিয়েছি।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ডা. মতিউরের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে বাদশা ফাহাদ হাসপাতালে উচ্চ বেতনে চাকরি করলেও সেটা বাদ দিয়ে দেশের মানুষের সেবা করতে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। সৌদি আরবে আওয়ামী লীগ নামে কোন সংগঠন করা সম্ভব নয়। এ জন্য আমরা সেখানে ‘ফেন্ড্রস অব বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলি। ডা. মতিউর রহমানকে তার সভাপতি করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু পরিষদ, আওয়ামী ফাউন্ডেশনসহ আমরা আরও ৩টি সংগঠন সৌদি আরবে গড়ে তুলি, সকল সংগঠনেই কা-ারির ভূমিকা পালন করেন মতিউর রহমান। নির্বাচনের আগে প্রতি সপ্তাহে নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে তিনি বিনা পয়সায় মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন, হার্ট ক্যাম্প করে মানুষের সেবা দিয়ে ওই এলাকার মানুষের হৃদয় অর্জন করেছেন। এ কারণে তিনি নির্বাচন করে জয়ী হয়ে এসেছেন।
সংসদ নেতা আরও বলেন, মানুষের সেবা করাই ছিল মরহুম মতিউর রহমানের একমাত্র ব্রত। তিনি এত যে অসুস্থ ছিলেন তা কাউকে বুঝতে দেননি, অসুস্থ শরীর নিয়েও মানুষের সেবা করে গেছেন। তাঁর স্ত্রীও মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মতিউর রহমানের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর মায়েরও যদি কিছু হয় তাহলে ছেয়ে-মেয়ে দু’টোর যে কী হবে, আমার চেয়ে আর কে বেশি উপলব্ধি করবে। তাই মরহুম ডা. মতিউর রহমানের অসুস্থ স্ত্রী যাতে সুস্থ হয়ে ফিরে আসতে পারেন, সেজন্য সংসদ নেতা দেশবাসীর দোয়া কামনা করেন।
শোক প্রস্তাবের ওপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও বক্তব্য রাখেন দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রফেসর ডা. মোঃ সিরাজুল আকবর, প্রফেসর ডা. আমান উল্যাহ ও কামাল আহমেদ মজুমদার।
আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সভাও মুলতবি
সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ ভবনের নবমতলায় অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের বৈঠক। বৈঠকের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের সহকর্মী ডা. মতিউর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি জানি বৈঠকে অনেকের অনেক কিছু বলার ছিল। কিন্তু আজ এই শোকের মুহূর্তে অন্য কোন কিছু বিষয়ে আলোচনা না করে ডা. মতিউর রহমানকে স্মরণ করে বক্তব্য রাখব। আগামী সংসদীয় দলের বৈঠকে সবকিছু নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ডা. মতিউর রহমানের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। প্রখ্যাত এই চিকিৎসকের মৃত্যুতে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও দলের সিনিয়র নেতা আবদুল মান্নান, হুইপ সাগুফতা ইয়াসমীন এমিলিসহ অন্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।