শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৩০ ভাদ্র ১৪১৯ 
যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। এ ব্যবস্থা ১৯৯৬ সালের ২৮ মার্চ রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায়। এর আগে ষষ্ঠ সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গৃহীত হয়। এরপর সপ্তম, অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ ব্যবস্থার অধীনে হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অগণতান্ত্রিক ও সংবিধানবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে এ্যাডভোকেট এম সলিমউল্যাহ, রুহুল কুদ্দুস ও মোঃ আবদুল মান্নান খান হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। হাইকোর্টে তিন বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চে রিটের শুনানি হয়। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বৈধ বলে রায় দেয়।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংশোধনী সংবিধানসম্মত ও বৈধ। এ সংশোধনী সংবিধানের কোন মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি। পরে রিট আবেদনকারীরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে যান। আপীল বিভাগ এ মামলায় এমিকাস কিউরি (আদালতকে সহায়তাকারী) হিসেবে দেশের বিশিষ্ট আট সংবিধান বিশেষজ্ঞের বক্তব্য শোনেন। তাদের কাছে আদালতের প্রশ্ন ছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বিচার বিভাগ পৃথককরণের পরিপন্থী কিনা? আট এমিকাস কিউরির মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখার পক্ষে আদালতে মত দেন।
|