মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ১২ আগষ্ট ২০১২, ২৮ শ্রাবণ ১৪১৯
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই নির্বাচন, কোন হুঙ্কারে কাজ হবে না ॥ হানিফ
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলে কোন লাভ নেই বিএনপিকে সাফ জানিয়ে দিলেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগ বদ্ধপরিকর। যত হুঙ্কার দেয়া হোক না কেন বাতিল হয়ে যাওয়া তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় আর ফিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় থাকতে চায় না। সংবিধান মেনে যথাসময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন থাকলে সরকারে কে থাকল সেটা কোন বিষয় নয়। অথচ বিরোধী দল অসাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়কের ধোঁয়া তুলে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর শিশু একাডেমী মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
‘আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সকল নেতার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে’ মর্মে বিএনপি নেতাদের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আপনারা কি এমন কাজ করলেন যে সকল ভোট আপনাদের বাক্সে যাবে? জনগণ কি আপনাদের আমলের সন্ত্রাস, দুর্নীতির কথা ভুলে গেছে? এত জনপ্রিয়তা থাকলে কাপাসিয়া উপ-নির্বাচনে অংশ নিন। একটি টেস্ট হয়ে যাক। জামানত আমাদের থাকে, না আপনাদের থাকে- সেখানেই তা প্রমাণ হবে।
দেশে ও জাতির স্বার্থে ষড়যন্ত্র ছেড়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্র বিশ্বাস করেন বলে আগ বাড়িয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে কথা বলেছেন। বিরোধী দলকে নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী যে রূপরেখা দিয়েছেন, তাতে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি থাকবেন। কিন্তু বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে আপত্তি তুলেছে। কোন যুক্তিতে তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন তা আমার বোধগম্য নয়। আমি আশা করি বাস্তবতার নিরিখে বিএনপি এ প্রস্তাব মেনে নেবে এবং সংসদে গিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরবে।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল হয়েছে। যত হুঙ্কার দেয়া হোক না কেন এ ব্যবস্থায় আর ফিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সংবিধান সংশোধন করার সময়ে সকল রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বিএনপি সাড়া দেয়নি। বিএনপি গণতন্ত্র ও সংবিধানে বিশ্বাস করে না বলেই তারা সংবিধান সংশোধনের জন্য সে সময়ে সংসদে যোগদান করেনি।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তানের এজেন্ট বলেই বর্তমান সরকারের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। বিএনপি-জামায়াত পাকিস্তানের এজেন্ট হয়ে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চায়। তারা ক্ষমতায় থাকাকালে দেশকে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিল। নির্বিচারে আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যা, ৬৪ জেলায় সিরিজ বোমা হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে জঙ্গীবাদের রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করেছিল। অস্ত্র পাচারের করিডোর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু গত নির্বাচনে জনগণ তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
‘নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে’ মর্মে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের দেয়া বক্তব্যের জবাবে হানিফ বলেন, কার জন্য এসব রূপরেখা তৈরি করছেন? এটা তো আপনার নেত্রীই বলেছিল, নিরপেক্ষ বলতে শিশু আর পাগল বুঝায়। তাহলে কি পাগল পেয়ে গেছেন? আর যাই হোক শিশু আর পাগলের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া হবে না। তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করুন। অন্তর্ঘাতমূলক পথ পরিহার করে নির্বাচনের জন্য প্রস্ততি নিন। সকল সংশয় কেটে যাবে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য অধ্যাপক ড. দুর্গাদাস ভট্টাচার্য, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নূহ-উল-আলম লেনিন ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ।