বৃহস্পতিবার, ৯ আগষ্ট ২০১২, ২৫ শ্রাবণ ১৪১৯ 
পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রীকেও আদালতের সমন
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ আবারও গভীর সঙ্কটে পাকিস্তানের নতুন সরকার। মুখোমুখি পাকিস্তান সরকার ও সে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই বিরোধের ফলে দু’মাস আগে ইউসুফ রাজা জিলানীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই পুরনো ইসু্যুতে প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফকে আগামী ২৭ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বুধবার সমন জারি করেছে পাকিস্তানের সুপ্রীমকোর্ট। প্রসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির দুর্নীতির মামলা পুনরায় চালু করতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছিল আশরাফের পূর্বসূরি ইফসুফ রাজা জিলানীকে। ঐ একই কারণে আশরাফও এখন সম্ভাব্য আদালত অবমাননার অভিযোগের মুখে দাঁড়িয়ে। জিলানীর বিদায়ের দু’মাসের মাথায় একই ইস্যুতে আবার প্রধানমন্ত্রীকে তলব করল আদালত।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতের অভিযোগ হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা পুনরায় চালু করতে সুইস কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানোর বিষয়টি তিনি অবজ্ঞা করছেন। পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য হচ্ছে, সংবিধান অনুয়ায়ী প্রেসিডেন্ট দায়মুক্তি ভোগ করছেন। ফলে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে জারদারির বিরুদ্ধে কোন মামলা করা যায় না। তবে এ নিয়ে সুপ্রীমকোর্ট ও সরকারের মধ্যে গত প্রায় আড়াই বছর ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছে। বুধবারের ঘটনা হচ্ছে তারই সর্বশেষ ঘটনা। খবর এএফপি ও বিবিসি অনআইনের।
আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। তবে আদালতের সঙ্গে সরকারের বিরোধের কারণে মেয়াদ পূরণ হওয়ার আগেই সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হতে পারে। আদালত সুইস কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানোর জন্য নতুন প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল। তবে এরই মধ্যে গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হয়। তাতে সরকারকে আদালত অবমাননা অভিযোগ থেকে রেহাই দেয়া হয়। পিপিপি নেতৃবৃন্দ ও সমালোচকরা বলছেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারির বিরুদ্ধে আদালতের ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এসব হচ্ছে। তবে এ্যাটর্নি জেনারেল আদালত অবমাননা মামলার শুনানি আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি চেয়েছিলেন। এ্যটর্নি জেনারেল ইরফান কাদির বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে বড় ব্যবধান কমিয়ে আনা এবং একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছার জন্য সময় প্রয়োজন। কিছুদিন ধরে পাকিস্তান সরকার ও দেশটির সর্বোচ্চ আদালত পরস্পর মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে আছে। এতে পাকিস্তানে আবার রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
|