বৃহস্পতিবার, ৯ আগষ্ট ২০১২, ২৫ শ্রাবণ ১৪১৯ 
শোকের মাস
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ শোকাহত ও অভিশপ্ত মাস আগস্টের আজ নবম দিন। “মৃত্যুহীন তুমি পিতা, বাঙালীর দৃপ্ত চেতনায় জন্মনিত্য আমাদের স্বপ্ন-প্রত্যাশা।” “বাংলার মাটি আজ শুদ্ধ হোক তাদের বিনাশে, তোমার মৃত্যু দিনে যারা মেতেছিল হিংস্র উল্লাসে।”- বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে এরকম নানা সেøাগান লেখা শোকের পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানারে ছেয়ে গেছে রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। প্রতিদিনই শোকের নানা অনুষ্ঠানে কৃতজ্ঞ বাঙালী জাতি ঘৃণা-ধিক্কার জানাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর খুনী ও তাদের মদদদাতাদের।
আগস্ট এলেই তাই কাঁদে বাঙালী। বাঙালীর মন খারাপের মাস এটি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিটি বাঙালীর হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীব। এ-প্রান্ত থেকে সে-প্রান্ত, এ ঘর থেকে সে-ঘর, সবখানে, সর্বত্র, সমানভাবে জুড়ে রয়েছেন তিনি আজও। শাহাদাতের ৩৭ বছর পরও, আজও, আলোয়-উদ্ভাসনে, সঙ্কটে ও সম্ভাবনায়, বাঙালীর চিরমানসপটে চির সমুজ্জ্বল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু। কারণ তিনিই তো বাঙালীর শত-সহস্র বছরের অবিস্মরণীয় এক রাজনৈতিক নেতা, বাঙালীর জাতির পিতা।
তাই আগস্ট এলেই বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। গোমড়া মুখ নিয়ে থমকে দাঁড়ায়। মন খারাপ হয় বিকেলের। বেদনায় হাঁটে মানুষ। ভাসে শোকে। গুমরে কেঁদে ওঠে ধানমন্ডির বাড়িটা। সে কান্না বাতাসে ছড়ায় আগুন। জ্বলে শহর। যূথবদ্ধ হয় মানুষ। ভালবাসার নৈবেদ্য দেন পিতাকে। সম্মিলিত কন্ঠে শপথ নেন এক অসাম্প্রদায়িক বাংলা গড়তে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের শোষণ-বঞ্চনাহীন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মাণে।
এই আগস্টেই ক্ষমতালোভী নরপিশাচরা সপরিবারে হত্যা করে জাতির জনককে। বাঙালীর মন থেকে চিরতরে মুছে দিতে শেষবারের জন্যও দেশকে দেয়নি মুখগুলো। দাফন করা হয়েছে কড়া প্রহরায়, অবহেলায়, অশ্রদ্ধায়। তারপর চলেছে কত ষড়যন্ত্র, ঘৃণ্য রাজনীতি। বিকৃত করা হয়েছে স্বাধীনতার ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম অবদান। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। কৃতজ্ঞ বাঙালী ভোলেনি সে মুখ, কন্ঠ, আদল। সঙ্কটে ও বিপন্নতায়, বিশৃঙ্খলা ও অনাহারে, রাজনীতি ও সমাজের ভাঙ্গনে- এখনও তাই বাঙালী ফিরে যায় তাঁরই কাছে। হাঁটে বঙ্গবন্ধুরই দেখানো পথে।
্আর এ কারণেই তো স্বাধীনতার চার যুগ পরেও দেশের নানা স্থানেই যখন বেজে ওঠে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা সংবলিত সেই বজ্রনির্ঘোষ ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, তখনই নতুন করে শিহরিত হয়ে ওঠে বাঙালী। রক্তে জ্বলে ওঠে বঙ্গবন্ধুর দেয়া স্বাধীনতা রক্ষায় যে কোন ত্যাগ স্বীকারের মন্ত্র। স্বাধীনতা বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করার প্রেরণা যোগায়।
|