মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ৬ আগষ্ট ২০১২, ২২ শ্রাবণ ১৪১৯
ক্ষুদ্র ঋণের লাইসেন্সের জন্য আবেদনের হিড়িক
মিজান চৌধুরী ॥ ক্ষুদ্রঋণের লাইসেন্স নেয়ার জন্য এনজিওগুলোর হিড়িক পড়েছে। নতুনভাবে লাইসেন্সের জন্য ১২শ’ আবেদন জমা পড়েছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) কাছে। অবশ্য সরকার দারিদ্র্যপীড়িত ৩৭ এলাকায় ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছে। এমআরএ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, তুলনামূলক দারিদ্র্যের হার বেশি অথচ ক্ষুদ্রঋণের কার্যক্রম কম এমন সব এলাকায় সরকার এই কর্মসূচী চালু করতে যাচ্ছে। এ জন্য ৩৭টি জেলাকে শনাক্ত করা হয়েছে। মূলত দারিদ্র্য বিমোচন করতে দারিদ্রপীড়িত এলাকায় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির মাধ্যমে লাইসেন্স দিয়ে এই কর্মসূচী চালু করা হচ্ছে।
দরিদ্রের তুলনায় ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচী কম জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে বরিশাল, জামালপুর, খাগড়াছড়ি, ভোলা, ময়মনসিংহ, বরগুনা, খুলনা, শেরপুর, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, হবিগঞ্জ, বান্দরবান, সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, রাঙ্গামাটি, লালমনিরহাট, যশোর, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রংপুর, চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী, নাটোর, কক্সবাজার, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ, রাজবাড়ী, বগুড়া, নোয়াখালী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাদারীপুর ও ঠাকুরগাঁও।
এসব জেলায় ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আবেদন চাওয়া হয়। এমআরএ সূত্র মতে, এসব অঞ্চলে ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনার জন্য লাইসেন্স পেতে ১২শ’ আবেদন জমা পড়েছে। জেলার তুলনায় আবেদনের সংখ্যা অনেক বেশি। এ প্রসঙ্গে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির পরিচালক আবু ফারাহ মোহাম্মদ নাসির জনকণ্ঠকে বলেন, এলাকার অবস্থান ও দারিদ্রের হার এবং ওই অঞ্চলে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম কতটুকু চলছে তা বিবেচনা করেই লাইসেন্স দেয়া হবে। ইতোমধ্যে ৩৭টি জেলাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেখানে দরিদ্রের তুলনায় এই কর্মসূচী কম।
দেশের ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকা- তদারকি ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে জবাবদিহিতা ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি এনজিওগুলোকে লাইসেন্স দিচ্ছে ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনার জন্য। এ পর্যন্ত ৬৪৭টি এনজিও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি থেকে অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জানা গেছে, ক্ষুদ্রঋণ খাতে এ পর্যন্ত ২১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের আমানত রয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। টার্নওভার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান ক্ষুদ্রঋণের উপকারভোগীর সংখ্যা হচ্ছে ২ কোটি ৬৫ লাখ। যা গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ গ্রাহকের তুলনায় দেড়গুণ বেশি।