শুক্রবার, ২৯ জুন ২০১২, ১৫ আষাঢ় ১৪১৯ 
রাজধানীতে বন্যার আশঙ্কা, ব্যবস্থা গ্রহণ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবার রাজধানীতে বন্যার আশঙ্কা করছে সরকার। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় ঢাকার জন্যও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত থাকারও নির্দেশ দেয়া হয়। ঢাকা মহানগরীতে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা এড়াতে জরুরীভিত্তিতে পানি অপসারণের জন্য ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সব পাম্প চালককে ঢাকায় অবস্থানের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এক জরুরীসভায় এ নির্দেশ দেন। সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আর আজ শুক্রবারও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ও সিলেট এলাকার বন্যা পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে জরুরীসভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার জন্য আগাম সতর্কতার ইঙ্গিত দিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এ অবস্থায় ঢাকাকেও ঝুঁকিমুক্ত মনে করা যাচ্ছে না। তাই ঢাকার জন্যও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানসহ বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে কর্মরত ওয়াসার কর্মীসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের পাম্পেই থাকতে বলা হয়েছে। সভায় আরও জানানো হয়, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্গঠন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠাসহ নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। সভায় ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা বিদ্যুত বিতরণ কর্তৃপক্ষ (ডিপিডিসি) তাদের আগাম প্রস্তুতির কথা অবহিত করে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার দুর্গতদের জন্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও সিলেট এলাকায় অতিবর্ষণ, পাহাড়ী ঢল, পাহাড় ধস ও বজ্রপাতের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১১০ জনে পৌঁছেছে। খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৩১ জন, কক্সবাজারে ৪১ জন, বান্দরবানে ৩৬ জন এবং সিলেটে দু’জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আরিফুজ্জামান ভূইয়া জনকণ্ঠকে জানান, ১০টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দেশের ৭৩টি নদীর মধ্যে বৃহস্পতিবার ৩৭টি নদীর পানি বৃদ্ধি পায়, কমেছে ৩২টির পানি। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা ও মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘাগট নদীর পানি গাইবান্ধায় ৬ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫ সেমি, যমুনার পানি বাহাদুরবাদে ৪৩ সেমি, সুরমার পানি কানাইঘাটে ১৫৩ সেমি, সিলেটে ৪৮ সেমি ও সুনামগঞ্জে ৬৬ সেমি, কুশিয়ার পানি আমলশীদে ১৯৯ সেমি, শেওলায় ৯৭ সেমি ও শেরপুরে ১৪ সেমি ও কংশ নদীর জারিয়াজাঞ্জাইলে বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, আজ শুক্রবার রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং বরিশাল, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে। বৃহস্পতিবার দেশের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ যশোরে ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ফেনীতে ২৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
|