স্টাফ রিপোর্টার ॥ গত কয়েক দিনের অতিবর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সাহায্য হিসেবে সরকার এ পর্যন্ত এক কোটি ২০ লাখ টাকা ও এক হাজার ৭৫০ মে.টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেলাগুলোর ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় ও স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অসিত কুমার মুকুট মণি চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের তিন জন পরিচালক ও দু’জন উপ-পরিচালককে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি জেলার ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করা ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ জেলাগুলো হলো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট ও সুনামগঞ্জ।
খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক করেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে. এ মুহূর্তে দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্র অবস্থানকারীদের খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে যারা নিজ বাড়িতে ফিরে যাবেন তাদের বাড়িঘর মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে গৃহনির্মাণ বাবদ প্রায় ১১ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। প্রয়োজনে এ খাতে আরও বরাদ্দ দেয়া হবে।
বৈঠকে সারা দেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদকে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (এনডিআরসিসি) সার্বিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার মন্ত্রণালয় ও এনডিআরসিসি সার্বক্ষণিকভাবে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সেন্টারের টেলিফোন নং ৭১৬০৪৫৪, ৭১৬২১১৬, ৭১৬৪১১৫, ০১৭১৫০৮২৬২০। প্রয়োজনে সহজে দুর্যোগ সংক্রান্ত তথ্য পেতে এ বিভাগের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তথ্য দেয়ার জন্য বৈঠক থেকে নির্দেশ দেয়া হয়। এ ওয়েভসাইটের ঠিকানা- িি.িফসৎফ.মড়া.নফ
এ দিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, পাহাড় ধস, পানিতে ডুবে এবং বজ্রপাতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও সিলেটে মৃত ১১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামে ৩১ জন, কক্সবাজারে ৪১ জন, বান্দরবানে ৩৬ জন এবং সিলেটে দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের লাশের সৎকারের জন্য প্রতি পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সাহায্য দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত বরাদ্দকৃত এক কোটি ২০ লাখ টাকা ও এক হাজার ৭৫০ মে.টন চালের মধ্যে চট্টগ্রামে ৪০ লাখ টাকা ও ৬০০ মে.টন চাল, কক্সবাজারে ৩০ লাখ টাকা ও ৫০০ মে.টন চাল, বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা, সিলেটে ১০ লাখ টাকা ও ২৫০ মে.টন চাল, ফেনীতে পাঁচ লাখ টাকা ও ৫০ মে.টন চাল, নেত্রকোনায় দুই লাখ টাকা, ভোলায় দুই লাখ টাকা, পিরোজপুরে দুই লাখ টাকা ও ৫০ মে.টন চাল, হবিগঞ্জে পাঁচ লাখ টাকা, মৌলভীবাজারে পাঁচ লাখ টাকা ২০০ মে.টন চাল ও গৃহনির্মাণ বাবদ পাঁচ লাখ টাকা এবং মানিকগঞ্জে চার লাখ টাকা ও ১০০ মে.টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।