মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৯ জুন ২০১২, ১৫ আষাঢ় ১৪১৯
'১২-১৩ অর্থবছরের বাজেট সংসদে কণ্ঠভোটে পাস
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়েছে। এ বাজেট পাসের মধ্যদিয়ে জাতীয় সংসদ ২০১৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্য অর্থবছরে সরকারের ব্যয় নির্বাহের সংযুক্ত তহবিল থেকে দুই লাখ ৮৩ হাজার ৫৯৯ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদানের অনুমতি দিয়েছে। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারী দলের সদস্যদের কণ্ঠভোটে বাজেটটি পাস হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মহাজোটের সদস্যরা সংসদে উপস্থিত ছিলেন।
আগামী পহেলা জুলাই থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছর চালু হচ্ছে। ওই দিন থেকেই এই নতুন বাজেট কার্যকর হবে। বাজেট পাস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পাঁচ মিনিটে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। এ সময় সভাপতির আসনে ছিলেন ডেপুটি স্পীকার শওকত আলী। দিনের কার্যসূচীতে থাকা প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করে স্পীকার সরাসরি বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় চলে যান। বিরোধী দল অনুপস্থিত থাকলেও একমাত্র স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজীম সংসদে উপস্থিত থেকে বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। তিনি সবগুলো বাজেট বরাদ্দের দাবিতে ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন এবং নয়টি দাবির ওপর আলোচনায় অংশ নেন।
২০১২-১৩ অর্থবছরে সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দের জন্য সংসদে মোট ৫৬টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন। এ সকল দাবির বিপরীতে বিরোধীদলীয় সদস্যরা মোট ৮১৭টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন। এই ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো ছিল মূলত নীতি অননুমোদন, মিতব্যয় ও প্রতীক ছাঁটাই সংক্রান্ত। বিরোধী দলের সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে এ সকল ছাঁটাই প্রস্তাব সংসদে উত্থাপিত হয়নি। একমাত্র স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো সংসদে উত্থাপিত হয়। স্পীকারের সঙ্গে আলোচনাক্রমে তিনি নয়টি মঞ্জুরি দাবির ওপর আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। দাবিগুলো ছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (দাবি-৩), নির্বাচন কমিশন (দাবি-৪), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (দাবি-৫), সরকারী কর্মকমিশন (দাবি-৬), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (দাবি-১৫), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (দাবি-২৩), স্থানীয় সরকার বিভাগ (দাবি-৩৪), পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় (দাবি-৪১) এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় (দাবি-৪৯)। স্পীকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর তাকে আলোচনার আহ্বান জানালেও তিনি এ বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী হননি। অবশ্য ফজলুল আজীমের ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো সরকারী দলের সদস্যদের কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
গত ৭ জুন অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে এক লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার বাজেট পেশ করলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা ৫৬টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে মোট দুই লাখ ৮৩ হাজার ৫৯৯ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন। এরমধ্যে এক লাখ চার হাজার ৭২৯ কোটি ৫১ লাখ ২৪ হাজার টাকা হচ্ছে সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায়। যা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে খরচ করা হয়। এ কারণে এই অর্থের জন্য কোন ভোটাভুটির প্রয়োজন হয় না। ফলে এ অর্থ বরাদ্দের জন্য সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়নি। বাকি এক লাখ ৭৮ হাজার ৮৭০ কোটি ১৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা বরাদ্দের দাবি সদস্যদের কণ্ঠভোটে সংসদে গৃহীত হয়েছে।
বেলা দুটার পর স্পীকার আব্দুল হামিদ সভাপতির আসনে আসীন হন। এ সময় কোন প্রকার গিলুটিন অর্থাৎ স্পীকারের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ ছাড়াই তিনি দ্রুত বাজেট পাসের কাজ এগিয়ে নেন। এমনকি বিকেলের আগেই বাজেট পাস সম্পন্ন করতে দুপুরের খাবারের জন্যও কোন মধ্যাহ্ন বিরতি দেয়া হয়নি। মঞ্জুরি দাবিগুলোর ওপর আনীত সবগুলো ছাঁটাই প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর স্পীকার অপরাহ্ন ৩টা নাগাদ বাজেট পাসের জন্য নির্দিষ্টকরণ বিল ২০১২ জাতীয় সংসদে উত্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় সংসদের অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নির্দিষ্টকরণ বিল ২০১২ সংসদে উত্থাপন করেন। স্পীকার বিলের দফাগুলো নিষ্পত্তির পর অর্থমন্ত্রী নির্দিষ্টকরণ বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। স্পীকার বেলা ৩টা পাঁচ মিনিটে ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেটের নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের জন্য ভোটে দেন। বেলা ৩টা সাত মিনিটে সরকারী দলের সদস্যদের কণ্ঠভোটে হ্যাঁ সূচক ধ্বনিত বিলটি পাস হয়। এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
এর আগে গত বুধবার বাজেটের রাজস্ব কার্যক্রমগুলোকে আইনে পরিণত করার জন্য অর্থবিল ২০১২ জাতীয় সংসদের পাস হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে কিছু কর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন। এর আগে নতুন বাজেটের ওপর সংসদে প্রায় ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হয়।
গত ৭ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জাতীয় সংসদে এক লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। এটি হচ্ছে নিট বাজেট। যা পহেলা জুলাই ২০১২ থেকে ৩০ জুন ২০১৩ এরমধ্যে ব্যয় হবে। প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে পাসকৃত বাজেটের ব্যবধান হচ্ছে ৯১ হাজার ৮৬১ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মূল বাজেটের সঙ্গে পাসকৃত বাজেটের অংকের বিস্তর ব্যবধানের কারণ হচ্ছে- নির্দিষ্টকরণ বিলের মাধ্যমে পাসকৃত বাজেটটি হচ্ছে গ্রস বাজেট। যা পুরোপুরি ব্যয় হয় না। বিভিন্ন দাতা সংস্থার বাধ্যবাধকতার কারণে এবং সরকারের আপদকালীন ব্যয় মিটানোর জন্য বাজেটে কিছু খাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেখাতে হয়। যা কখনও ব্যয় হয় না। নিট বাজেটই ব্যয় হয়। অর্থমন্ত্রী গত ৭ জুন যে বাজেট পেশ করেছেন তা হচ্ছে নিট বাজেট। এটিই মূলত ২০১২-১৩ অর্থবছরে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করতে পারবে।
নয়টি মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ফজলুল আজীম সর্বপ্রথম মন্ত্রিপরিষদের বরাদ্দ নিয়ে কথা বলেন। এর পর তিনি একে একে নির্বাচন কমিশন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সরকারী কর্মকমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের বাজেট বরাদ্দের ওপর আলোচনায় তিনি বলেন, দেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে জোরদার করতে হবে। উপজেলা চেয়ারম্যানদের কোন কাজ নেই। তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এমপিদের ১৫ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু অর্থ সঙ্কটে ওই টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তিনি দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাজ ঠিকাদারদের দেয়ার অভিযোগ তোলেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তার উদ্দেশে বলেন, আপনি যে প্রস্তাব করেছেন তা পাস হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ কোন অর্থ পাবে না। বরং স্থানীয় সরকার শক্তিশালী দেখতে চাইলে অর্থ আরও বাড়িয়ে দেয়ার প্রস্তাব করা তার উচিত ছিল। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে আপনার আন্তরিকতা নেই।
তিনি বলেন, আমার মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির সন্ধান পেলে জানাবেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দুর্নীতি প্রশ্রয় দেয় না।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বাজেট নিয়ে আলোচনায় ফজলুল আজিম বলেন, সরকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় শত কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। সেই থেকে বাংলাদেশ কিছু পেয়েছে। কিন্তু ওই অর্থ সব এলাকায় সমানভাবে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, একদিকে বৃক্ষ রোপণ হচ্ছে, অন্যদিকে উজাড় হচ্ছে। নিঝুম দ্বীপে হরিণ মরে যাচ্ছে।
জবাবে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ফজলুল আজিম একজন শিক্ষিত লোক। কিন্তু ওনার কাছে সঠিক তথ্য নেই। এতে আমি মর্মাহত হয়েছি। উন্নয়ন সহযোগীরা অনুদান দিয়ে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রিজিলিয়েন্স ফান্ড গঠন করেছে। ইতোমধ্যে তারা ওই তহবিলে ১৭ কোটি ডলার দিয়েছে। আরও দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে এসেছিলেন। সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেছিল ক্লাইমেট চেঞ্জ রিজিলিয়েন্স ফান্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে। তার জবাবে বিশ্বব্যাংক কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেছেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয় এ তহবিল ব্যবস্থাপনায় যে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা দেখিয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম কুড়িয়েছে। অনেক যাচাই বাছাইয়ের পর এই তহবিলের অর্থ খরচ হয়। এই তহবিলের প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সিনিয়র মন্ত্রীদের নিয়ে একটি কমিটি আছে। তারা অনেক যাচাই-বাছাই করে প্রকল্প অনুমোদন করে। এটা উনার জানা উচিত ছিল। ওয়েবসাইটে সব তথ্য আছে। তথ্য না জেনে অজ্ঞতাপ্রসূত প্রশ্ন করা ঠিক নয়।
তিনি বলেন, অতীতে কোন সরকার বছরে চার কোটির বেশি গাছের চারা উৎপাদন করতে পারেনি। আমরা এবছর ১২ কোটি গাছের চারা উৎপাদন করছি। গত বছর উনাকেও ৪০ হাজার গাছের চারা দিয়েছি। আগে যারা গাছ কাটত তাদের আমরা বন সংরক্ষণে নিয়োজিত করেছি। আগে যেখানে লাখ লাখ গাছ কাটা হতো। এখন সেখানে ২০টিও গাছ কাটা হয় না। তবে গাছ নিধন বন্ধ করা সহজ নয়। আমরা এটা আগের চেয়ে অনেক কমিয়ে এনেছি।
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দের ওপর আলোচনায় ফজলুল আজিম বলেন, বিমানের সেবা খুব খারাপ অবস্থায় নেমে এসেছে। যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এয়ারপোর্টে গিয়ে বসে থাকে। বিমানের বোর্ডে শক্তিশালী চেয়ারম্যান আছেন। তিনিই এই বেহাল অবস্থার জন্য দায়ী। চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দেন বিমানের অবস্থা ভাল হবে।
এ সময় বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিমান সমস্যায় পড়েছে। আমাদের ১২টি উড়োজাহাজ আছে। এরমধ্যে ১০টিই পুরনো। ফলে সংরক্ষণ ব্যয় বেশি। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে পরিস্থিতি উন্নতি হবে।
মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা রাখার বিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন স্বতন্ত্র সাংসদ ফজলুল আজিম। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি বলেন, মন্ত্রীর ওপর সুপার মন্ত্রী হিসেবে উপদেষ্টারা থাকবেন এর কোন বিধান নেই। মন্ত্রিপরিষদে ৪২ জন মন্ত্রী আছেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ঝগড়া আছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৪২ জন মন্ত্রীর দরকার নেই। একজন কালো বেড়াল খুঁজলেন। আবার লেজ গুটিয়ে চলে গেলেন। কিন্তু তাকে আবার পোর্টফোলিও ছাড়া মন্ত্রী করা হলো। এগুলোর দরকার নেই।
তার বক্ত্যবের জবাবে সংসদ কাজে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, তিনি (ফজলুল আজিম) অতীত ভুলে গেছেন। জিয়াউর রহমান একগাদা টেকনোক্রেট মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। রাজাকারদের কীভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তা সারাদেশ ও বিশ্ব জানে। তখন তিনি কোন ত্রুটি দেখতে পাননি। ‘মজনুর দৃষ্টিতে দেখবেন না, অন্য দৃষ্টিতে দেখবেন- এটাই হলো আসল কথা।’
জনপ্রশাসনের ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় ফজলুল আজিম বলেন, আশরাফুল সাহেব ব্যস্ত মানুষ। যোগ্য প্রতিমন্ত্রী থাকায় উনাকে মন্ত্রণালয়ে যেতে হয় না। উনি অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকা- নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নোয়াখালীর এই সংসদ সদস্য বলেন, বেডরুম কেন? অন্যান্য ছোট কামরাও রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, সিনিয়র সচিবদের রাখা হয়েছে ‘অযোগ্য’ সচিবদের ‘সাপোর্ট’ দেয়ার জন্য।
ফজলুল আজিম মঞ্জুরি দাবির ওপর কথা না বলে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ কথা বলছেন মন্তব্য করেন সংসদ কাজে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিএনপির আমলে খাতায় না লিখেই বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া যেত। হাওয়া ভবন থেকে লিস্ট আসত। পিএসসির সদস্যদের বলা হতো- আপনারা প্রশ্ন করেছেন আপনারাই উত্তর লিখে দেন।
এর আগে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর ফজলুল আজিম ‘অপ্রাসঙ্গিক’ কথা বলায় ডেপুটি স্পীকার তার মাইক বন্ধ করে দেয়ার কথা বললে আজিম ওয়াক আউট করার হুমকি দেন।