মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৯ জুন ২০১২, ১৫ আষাঢ় ১৪১৯
ক্ষতি অপূরণীয়
বৃহত্তর চট্টগ্রামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৭
০ উদ্ধার অভিযান শেষ
০ বিমান ওঠানামা শুরু
০ বন্দর স্বাভাবিক
০ বেতার কেন্দ্র ফের চালু
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ প্রবল বর্ষণে মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি অপূরণীয় বাণিজ্যিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ করছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। বাণিজ্যপাড়া চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ, কোরবানীগঞ্জ, মাঝিরঘাট, পূর্ব নাসিরাবাদ, কালুরঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে পণ্যভর্তি দোকান ও গুদাম জলমগ্ন হওয়ায় বিপুল অঙ্কের ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জনকণ্ঠকে জানান, ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ণয় না হলেও তা অকল্পনীয়। এদিকে গত ছয় দিনের ভারি বর্ষণে সৃষ্ট বিপর্যয়ের পর বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রামের আকবর শাহ মাজার সংলগ্ন পাহাড়ে এক মহিলার লাশ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে উদ্ধার তৎপরতা। এ নিয়ে পাহাড় ধস, বজ্রপাত ও বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে চট্টগ্রামে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫ জনে। এদিকে ভোর সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে বিকেলে রেল চলাচল শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে অনুষ্ঠান সম্প্রচারও শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙ্গরে পণ্য লাইটারিং পুরোদমে শুরু হয়েছে। জেটিতে জাহাজ চলাচল এখন স্বাভাবিক। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সঙ্কেত প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর থেকে।
চট্টগ্রামে ভারি বর্ষণে পাহাড় ধস হওয়ায় গত মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে তিনটি পাহাড়ে শুরু হয় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও পুলিশের উদ্ধার অভিযান। একটানা ৩৪ ঘণ্টা অভিযানের পর বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ আকবর শাহ মাজার সংলগ্ন পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয় বানু বেগম (৩০) নামের এক মহিলার লাশ। তিনি সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের আয়া হিসেবে কাজ করতেন। স্কুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় এ মহিলার নামটি সবার মুখে মুখে। তার মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার শোক দিবস হিসেবে স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়। বানু বেগমের লাশ উদ্ধারের পর স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা তাঁকে এক নজর দেখতে ছুটে যান। আকবর শাহ পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া ৮ জনের মধ্যে যে ৭জনের নাম জানা গেছে তারা হলেন- বানু বেগম (৩০), শানু আক্তার (২০), হোসনা বানু (৩০), সাবিনা (২২), সজিব (৪), আশা মনি (১) ও দেড় বছরের শিশু উর্মি।
সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী চট্টগ্রামে মৃতের সংখ্যা ৩৫। এর মধ্যে আকবর শাহ মাজার সংলগ্ন পাহাড়ে ৮ জন, খুলশী বিশ্ব কলোনি পাহাড়ে ৫ জন, আঁধারমানিক পাহাড়ে ৬ জন, সীতাকু- জঙ্গল ছলিমপুর পাহাড়ে ২ জন এবং বাঁশখালিতে ৮ জন। এছাড়া নগরীতে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে ৩ জন, হাটহাজারীত দেয়াল ধসে ২ জন এবং বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় ড্রেনে পড়ে ১ শিশুর মৃত্যু হয়।
গত বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও আবহাওয়া ভাল থাকায় জনজীবন ফের স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, সমুদ্রবন্দরগুলোকে সতর্ক সঙ্কেত প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। বর্তমান সময়ে উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ু প্রবাহ মাঝারি ধরনের সক্রিয়। বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আপাতত কমে এসেছে। তবে দু-একদিনের মধ্যে আবারও বর্ষণ শুরু হতে পারে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় বিমান চলাচল বন্ধ হবার প্রায় ৩৮ ঘণ্টা পর বিমান উড়েছে আকাশে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ম্যানেজার স্কোয়াড্রন লিডার রবিউল ইসলাম জানান, রানওয়েতে পানি ওঠায় এবং বৃষ্টির কারণে আলো পর্যাপ্ত না থাকায় বিমান চলাচল বন্ধ করতে হয়েছিল। রানওয়ে এখন উপযোগী হওয়ায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরেও কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। বহির্নোঙ্গরে পণ্য লাইটারিং চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ জানান, আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় জাহাজ জেটিতে ভিড়ছে এবং জেটি ছেড়ে যাচ্ছে। বন্দর লাইটারেজ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি হাজী সফিক আহমেদ জানান, লাইটার জাহাজগুলো এখন বহির্নোঙ্গরের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। তবে মাঝে কদিন বন্ধ থাকায় কাজের চাপ এখন অপেক্ষাকৃত বেশি।
এদিকে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে অবস্থার উন্নতি হলেও প্রবল বর্ষণে ক্ষতির রেশ রয়ে গেছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, আসাদগঞ্জ, পূর্ব নাসিরাবাদ, পতেঙ্গাসহ নিচু এলাকার বাণিজ্য কেন্দ্রগুলোতে। চট্টগ্রামের এসব স্থান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোগ্যপণ্য সরবরাহ হয়ে থাকে। প্রবল বর্ষণে এসব প্রতিষ্ঠানের নিচতলা ও অনেক গুদাম জলমগ্ন হয়। ফলে চাল, গম, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, ছোলা, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষতি হয়। চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম জনকণ্ঠকে বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা তাঁদের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে চেম্বারকে অবহিত করছেন। এখনও মোট ক্ষতির পরিমাণ নিরূপিত না হলেও ক্ষতি ব্যাপক। এতে অনেক খাদ্যশস্য নষ্ট হয়। বৃষ্টির কারণে খাতুনগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ ছিল। তবে বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। খাদ্যভর্তি ট্রাক খাতুনগঞ্জে ঢুকছে এবং ছেড়ে যাচ্ছে।
কক্সবাজারে আরও
৮ জনের মৃত্যু
এইচএম এরশাদ কক্সবাজার থেকে জানান, কক্সবাজরের বন্যা পরিস্থিতি সামান্য উন্নতি হলেও পাহাড় ধস, বজ্রপাত, পানিতে ভেসে গিয়ে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩৮ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। বৃহস্পতিবার আরও ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চকরিয়া, রামু, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফে এখনও আড়াই লাখ লোক পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে রামুতে ২জন, চকরিয়ায় ৩জন ও কক্সবাজার সদরে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে বলা হয়েছে, এই আটজনের মৃত্যু হয়েছে বন্যার পানিতে ডুবে। জেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় সাম্প্রতিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে আড়াই লাখ লোক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ জয়নুল বারী।
এদিকে কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতি সামান্য উন্নতি হলেও রামুতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। এখনও লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে খাদ্যাভাব, বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট ও চিকিৎসা সেবা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আশ্রয় কেন্দ্রে গবাদি পশু ও মানুষ এক সঙ্গে অমানবিক জীবনযাপন করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছেনি। পানি নেমে যেতে শুরু করলেও দুর্গত এলাকায় চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিরা চরমভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে বৃহস্পতিবার সারাদিন সোনালী ব্যাংকের পরিচালক ও কক্সবাজার-৩ আসনে মহাজোট প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমলের পক্ষ থেকে রামু, সদরের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণসামগ্রী ও খাবার বিতরণ করা হয়েছে। রামু উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়ন বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও রাজারকুলে পানিতে ডুবে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ কয়েক দিনে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছে ১ হাজার ৫শ’ ৪৫জন। ৪৫ কি.মিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত বাড়ির সংখ্যা ২৫ হাজার এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৫ হাজার পরিবার। গবাদিপশু মারা গেছে ৪৯টি। ফসল বিনষ্ট হয়েছে ১০ হাজার হেক্টর। চিংড়ি ঘেরের ক্ষতি হয়েছে ১৫ হাজার একরে। স্কুল মাদ্রাসা বিধ্বস্ত হয়েছে ২৮টি। পাকা সড়ক বিধ্বস্ত হয়েছে ৪৫ কিলোমিটার। কাঁচা সড়কের ক্ষতি হয়েছে ১৭২ কি.মিটার। বেড়িবাঁধ ধ্বংস হয়েছে ১৪ কিলোমিটার। বেড়িবাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৯ কিলোমিটার। গভীর নলকূপ নষ্ট হয়েছে ২ হাজার ৭শ’ ১৪টি। অগভীর নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হাজার ৭শ’ ১৫টি। ১০টি ফিশিং ট্রলার সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। পানের বরজের ক্ষতি হয়েছে ১৮০ একরে ।
বান্দরবানের সড়ক
যোগাযোগ চালু
এস বাসু দাশ বান্দরবান থেকে জানান, ছয় দিনের প্রবল বর্ষণে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সঙ্গে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে।
বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া এলাকায় ২টি (আমতলী ও রাইফেলস ট্রেনিং সেন্টার এলাকায়) স্থানে সড়ক পানিতে প্লাবিত হবার কারনে জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এতদিন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি কমে এলে যান চলাচল শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবার কারণে স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে পড়ে। এদিকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখন বিপদসীমার অনেক নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা সদরসহ লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্লাবিত নিম্ন অঞ্চল থেকে পানি নেমে যাবার কারণে বান্দরবান জেলা এখন সম্পূর্ণ বন্যামুক্ত।
বাঁশখালীতে দুই লাখ লোকের
মানবেতর জীবন
জোবাইর চৌধুরী বাঁশখালী থেকে জানান, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার শিকার দুই লক্ষাধিক লোক মানবেতর জীবনযাপন করছে। অন্যদিকে নিহত ৮ পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখনও পর্যন্ত উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে উপকূলীয় ৮টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা পানিবন্দী অবস্থায় থাকায় তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কট ও পানিবাহিত রোগের প্রাদর্ভাব। উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যা দুর্গতদের জন্য সামান্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হলেও এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এগিয়ে আসছেন না তাদের পাশে। তাই এখন অনাহারে অর্ধাহারে তাদের দিনযাপন করতে হচ্ছে। ফলে বন্যাদুর্গতদের মাঝে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। দ্রুত বন্যাদুর্গতদের মাঝে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা না চালালে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছে স্থানীয় লোকজন। এদিকে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হলেও তা যথাযথ ভাবে পাচ্ছেন না বন্যাকবলিত জনগণ। তাই উপজেলা প্রশাসনসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাওয়ার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বন্যা দুর্গতরা।
সংবাদদাতা টেকনাফ থেকে জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের পানি উপচে টেকনাফের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় প্লাবনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ উপকূলীয় অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। সর্বশেষ গত পরশুর একটানা ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট প্লাবণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর নেপথ্যে টেকনাফ অঞ্চলের ১৬ অপ্রশস্ত খাল ১২ সøুইস গেটই দায়ী বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।