মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২৪ জুন ২০১২, ১০ আষাঢ় ১৪১৯
অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে আওয়ামী লীগে যোগ দিন
নতুন প্রজন্মকে সৈয়দ আশরাফ
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ উৎসবমুখর পরিবেশ, বর্ণিল নানা আয়োজন ও যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজধানীসহ সারাদেশেই শনিবার পালিত হয়েছে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগের ৬৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দেশের জন্য কাজ করতে আগ্রহী ‘নতুন প্রজন্মের’ প্রতিনিধিদের আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভনেত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সকাল ৭টায় ধানম-ির ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পরিবেশন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী ‘নতুন প্রজন্মের’ প্রতিনিধিদের আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে চাইলে আওয়ামী লীগে আসতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগ হলো একটি ‘উদারনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক’ রাজনৈতিক সংগঠন। নতুন প্রজন্ম যদি দেশের উন্নয়ন করতে চান, দেশের জন্য কিছু করতে চান, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চান- তাহলে তাদের আওয়ামী লীগ যোগদান বড়ই প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে এবং দুর্নীতিমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছি। তবে সব সময় সব কাজ সঠিক বা নির্দিষ্টভাবে করা সম্ভব হয় না। চলার পথে কিছু অসুবিধা হবেই। কিন্তু এরপরও আমাদের লক্ষ্য ঠিক আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন, সেই লক্ষ্য আমরা পূরণ করব।
আর নতুন প্রজন্ম সবসময় আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন দেবে বলে আশা প্রকাশ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানসহ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত অনেক লড়াই সংগ্রাম করেছে, মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। আগামীতেও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, আজ অত্যন্ত গৌরবময় একটি দিন। এ গৌরব গোটা দেশ ও জাতির।
আওয়ামী লীগের ৬৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভোরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভনেত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় ধানম-ির ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে সরকারপ্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেন। এরপর আওয়ামীলীগ প্রধান হিসেবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।
এরপর সকাল সোয়া সাতটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মতিয়া চৌধুরী, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাহারা খাতুন, সতীশ চন্দ্র রায়, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবন ত্যাগ করার পর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ সারিবদ্ধভাবে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে ধানম-ির ৩২ নম্বর সড়ক ও এর আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে উপস্থিত হাজার হাজার নারী-পুরুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হতে থাকে অভিন্ন সেøাগান ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘জামায়াত শিবির রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই, দিতে হবে’, ‘মুজিবের বাংলায় খুনিদের ঠাঁই নাই’।