মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১২, ৫ আষাঢ় ১৪১৯ 
বিল কপালিয়ায় টিআরএম বাতিল দাবিতে ৩ জনের ‘বিষপান’
কয়েক শ’ নারী-পুরুষের গণঅনশন
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরের মণিরামপুরে জোয়ারাধার (টিআরএম) বিরোধীরা গণআত্মাহুতির কর্মসূচী স্থগিত করলেও তাঁদের তিনজন আকস্মিকভাবে সোমবার দুপুরে ‘বিষপান’ করেছেন। পরে স্থানীয় চিকিৎসক সেবা প্রদানের মাধ্যমে তাদের আশঙ্কামুক্ত করেছেন। উদ্ভূত ঘটনায় সোমবার বিকেলে যশোরের জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান এলাকা পরিদর্শন করে সকলকে ধৈর্য ধারণের পরামর্শ দেন। জেলা প্রশাসক তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বলেন, এলাকাবাসীর দাবির কথা তিনি সরকারের ওপরের মহলকে জানাবেন। ফলে ৭ দিনের জন্য তাঁরা কর্মসূচী স্থগিত করেন।
টিআরএম বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে রবিবার নতুন করে আন্দোলন শুরু করেন টিআরএম বিরোধীরা।
এই দাবির মধ্যে রয়েছে, ভবদহ এলাকার কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪টি মামলা প্রত্যাহার করতে হবে; ওই মামলায় আটক সকল আসামিকে মুক্তি দিতে হবে এবং টিআরএম বাতিল করে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন গ্রামের কয়েক শ’ নারী-পুরুষ ভবদহ পারের পাঁচাকড়ি বালেখালি বটতলা মসজিদ প্রাঙ্গণে বিষের বোতল নিয়ে জড়ো হয়ে গণঅনশন শুরু করেন। এ সময় সেখানে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জমির মালিক বালিধা গ্রামের সিদ্দিক ফকির, শাম্মি আক্তার, আব্দুল কাদের সরদার, ফারুক হোসেন, ধুনকি গ্রামের আব্দুল সালাম, পাঁচাকড়ি গ্রামের হেনা বেগম, মর্জিনা বেগম, মোহাম্মদ লিকু, সুফিয়া খাতুন, নমিতা রাণী, তাসলিমা প্রমুখ। সমাবেশ শেষে দুপুর ১টার দিকে আকস্মিকভাবে বালিধা গ্রামের সন্তান যশোর সরকারী এমএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র জিয়াউল রহমান (২৪), আমির আলী সরদার (৭৮) ও মোকসেদ সরদার (৮০) ‘বিষপান’ করেন। প্রত্যক্ষদর্শী মণিরামপুরের সাংবাদিক মোতাহার হোসেন জানান, আগে থেকেই সেখানে গ্রাম্য ডাক্তার হোমিও চিকিৎসক ডা. আব্দুল আজিজ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। বিষপান করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাদের চিকিৎসা সেবা দেন। এ প্রসঙ্গে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, এটি তাদের প্রতীকী বিষপান। কারণ তারা চিকিৎসক সঙ্গে নিয়েই বিষপান করেছেন। এদিকে সোমবার বিকেলে যশোরের জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বিল কপালিয়া এলাকায় গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তিনি আন্দোলনকারীদের কথা শোনেন এবং অনশন প্রত্যাহারের দাবি জানান। জেলা প্রশাসক তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, এলাকাবাসীর সমস্যার কথা তিনি দ্রুত সরকারের ওপর মহলে জানাবেন।
প্রসঙ্গত, যশোরে মণিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলার বিল কপালিয়ায় জোয়ারাধার প্রকল্প (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট-টিআরএম) বাতিলের দাবিতে গ্রামবাসীদের একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এর সূত্র ধরেই গত ২ জুন ভবদহের বিল কপালিয়ায় জোয়ারাধার (টিআরএম) প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ করতে এসে এলাকাবাসীর হামলার শিকার হন জাতীয় সংসদের হুইপ ও সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপি শেখ আব্দুল ওহাব, অভয়নগর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকসহ অন্তত ৫০ জন। এ সময় হামলাকারীরা পাউবোর তিনটি জিপ, তিনটি মোটরসাইকেল ও তিনটি নসিমনে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
|