মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১২, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯
গুডসহিলে টর্চার সেলে হত্যার পর কর্ণফুলীতে ফেলে দেয়া হতো
যুদ্ধাপরাধী বিচার
দ্বিতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদান শুরু
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্রগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী নেতৃত্বে ও তার ছেলে গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে আল শামস বাহিনী পরিচালিত হতো। সাকার বিরুদ্ধে সরাসরি নির্যাতনের শিকার দ্বিতীয় সাক্ষী বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী এম সলিমুল্লাহ (৬৮) জেরায় এ কথা বলেছেন। অন্যদিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। ২৪ মে আসামি পক্ষের শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। বিএনপির আরেক নেতা আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর আসামিপক্ষের আইনজীবীর যুক্তি খ-ন করেছেন। ২৩ মে পর্যন্ত বিচারের কার্যক্রম মুলতবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাকে ১১তম দিনের মতো জেরা ্করেছে আসামিপক্ষের আইনজীবী। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ এই ৪টি মামলার শুনানি ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষী মোঃ সলিমুল্লাহ জবানবন্দী ও জেরা প্রদান করেছেন। জবানবন্দীতে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চট্টগ্রামে ফজলুল কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে ও তার ছেলে সালাউদ্দিন কাদের) চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে আল শামস বাহিনী পরিচালিত হতো। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আল শামস বাহিনী দিয়ে চট্রগ্রামের শহরে এবং রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, সাতকানিয়া, বোয়ালখালী যত রকমের স্বাধীনতাকামী লোকজন ছিল হিন্দু-মুসলমান ধরে এনে সাকার নির্দেশে গুডস হিলের টর্চার সেলে রাখা হতো। যারা টর্চারিংয়ে মারা যেত অথবা মেরে ফেলার নির্দেশ থাকত তাদের মেরে কর্ণফুলী নদীতে ফেলা দেয়া হতো।
সোমবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নাসিমুল হক নাসিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি এই জেরা প্রদান করেছেন। সরকার পক্ষের প্রসিকিউর সুলতান মাহমুদ সিমন সাক্ষীকে প্রশ্ন করেন। এর পর সাক্ষী মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ঘটনা ঘটেছে তা বর্ণনা করেন। সাক্ষীর জবানবন্দী শেষ হলে আসামী পক্ষের আইনজীবী আহসানুল হক হেনা সাক্ষীকে একটি মাত্র প্রশ্নের জেরা করেন। আজ আসামী পক্ষের আইনজীবী তাঁর জেরা করবেন। দুপুর ২টার কিছু পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন মোঃ সলিমুল্লাহ।
প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন দ্বিতীয় সাক্ষী মোঃ সলিমুল্লাহকে বলেন, আপনার নাম কি। তার উত্তরে সাক্ষী বলেন, আমার নাম মোঃ সলিমুল্লাহ। বয়স ৬৮ বছর। প্রসিকিউটর বলেন, লেখা পড়া শেষ করে কি করতেন। তার উত্তরে তিনি বলেন, পারিবারিক প্রিন্টিং প্রেস চালাতাম। প্রেসের নাম ছিল মুসলিম প্রেস। অভয়মিত্র ঘাট রোড, ফিরিঙ্গি বাজার, চট্রগ্রামে অবস্থিত। সেখানে সাধারণত মাইনরিটি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক কাজ করতো।
প্রসিকিউটর : ১৯৭১ সালে আপনার প্রেসে কারা কাজ করত।
সাক্ষী : ৪/৫ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক কাজ করতো। তাদের বাড়ি বোয়ালখালী থানায়।
প্রসিকিউটর : আপনার প্রেসে ১৯৭১ সালে আসা যওয়ার পথে কোন সমস্যা হতো।
সাক্ষী : তারা কালুরঘাট ব্রিজের ওপারে থাকত। এপারে আসার সময় পাঞ্জাবী আর্মিরা হিন্দু না মুসলমান তা পরখ করার জন্য কাপড় তুলে দেখত।
প্রসিকিউটর : আপনার প্রেসের কর্মচারীদের থাকতে তাদের জন্য কি নিরাপত্তা করেছেন।
সাক্ষী : আমার বাসার কাছে ৪২ নম্বর আব্দুর সাত্তার রোডে দুই বন্ধু থাকত। রুনু বাবু আরেকজন নিহার বাবু। জুলাই মাসের দিকে আর্মীরা অত্যাচার করেছে। তখন থাকতে পারল না। বললো, আমরা সাতকানিয়া চলে যাচ্ছি। কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য রুনু বাবুর কাঁচাঘর ভাড়া নিয়েছি ৭৫ টাকায়।
প্রসিকিউটর : তারা কি অবস্থায় ছিল।
সাক্ষী : এটা সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ। সন্ধ্যা ৬টা থেকে চট্টগ্রামের শহরে কার্ফু ছিল। প্রেসের এক কর্মচারী ৫টার দিকে এসে আমাকে বললো যে, তাদের থেকে ২ জনকে ধরে মারপিট করেছে। মারপিটের কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বললো, তারা নাকি বিহারীদের ঘরে আগুন দিয়েছে। খোকা আসল নাম হামিদুল কবির চৌধুরী সে আল শামস বাহিনীর কমান্ডার ছিল। তার সহচর ছিল সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম সাবেক এমপি, জাফর, সাইফুদ্দিন এরা নিহার বাবুর একটি বাড়ির পাশে রুনু বাবুর একটি বাড়ি দখল করে ক্যাম্প করেছিল। এরা আল শামস বাহিনী পরিচালনা করত।
সরাসরি ফজলুল কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে আল শামস বাহিনী পরিচালনা হতো। চৌধুরীর দেয়া একটি লাল জীপ নিয়ে এরা চলে যেত সাতকানিয়া, বোয়ালখালি, পটিয়া, রাউজান এবং রাঙ্গুনিয়া ইত্যাদি জায়গায় গিয়ে রাতদিন তাদের সোর্সের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বাধীনতাকামীদের ধরে আনত, সাধারণ হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দিত। সোনাদানা লুটপাট করত। সেখানে কোন সুন্দরী রমণী দেখত জীপে তাদের জীপে করে তাদের নিয়ে আসত।
প্রসিকিউটর : যাদের আনা হতো তাদের প্রতি কি আচরণ করা হতো।
সাক্ষী : সারারাত তাদের অত্যাচার করত, যাদের পছন্দ হতো তাদের আর্মীরা নিয়ে যেত। তাদের হত্যা করত। কালুরঘাট ব্রিজ থেকে কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দিত। সোর্সের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেসব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ধরে আনতা, তাদের সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং ফজলুল কাদের চৌধুরী গুডস হিলে নিয়ে নির্যাতন সেলে বন্দী করে রাখত।
প্রসিকিউটর : আপনার কর্মচারীদের উদ্ধারের জন্য কি করেছেন।
সাক্ষী : আমি আমার কর্মচারীদের উদ্ধারের জন্য শার্ট গায় দিয়ে নিহার বাবুর বাসায় যাই। সেখানে গিয়ে দেখি ২ জন কর্মচারীকে প্রহার করছে খোকা, জাফর, ওয়াহিদুল আলম। তখন আমি তাদের বলি, কেন মারছো। তারা বললো, বিহারীদের ঘরে আগুন দিয়েছে তারা। আমি বলালাম, এটা বিশ্বাসযোগ্য। দিনের বেলায় নিজেরাই নিরাপত্তা পাচ্ছে না, এরা বিহারীদের ঘরে আগুন দিবে। এরপর তারা বললো, না তারাই আগুন দিয়েছে। আমরা তাদের শাস্তি দেব।
আমি বললাম কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাও। অন্যায় করলে থানা শাস্তি দেবে। তখন তারা বললো কোতয়ালি থানায় নিব না। আমরাই তাদের শাস্তি দিব। আমি বললাম, এটা বাড়াবাড়ি হচ্ছে। তার চেয়ে ওদের ছেড়ে দাও, আমাকেই মারো।
তখন তারা বললো, প্রয়োজনে তোমাকেও শাস্তি দিব। এরপরে আমার ২ কর্মচারীকে গাড়িতে উঠিয়ে নিকটস্থ গুডস হিলে চলে যায়। আমি উপায়ান্তর না দেখে হাঁটা দিলাম। এরপরে আমি হাঁটা দিয়ে নিহার বাবুর বাড়ির পাশ দিয়ে গুডস হিলে যাবার জন্য সামান্য অগ্রসর হলাম। তখন দেখলাম গুডস হিল থেকে গাড়িটি হেডলাইট দিয়ে ফিরে আসছে। পিছনে আরও একটি গাড়ি আছে। গাড়ি দুটি এসে আমার সামনে জোরে ব্রেক করে দাঁড়িয়ে গেল। অন্য যে গাড়িটি ছিল, সেটাতে সিন্ধি প্যারা মিলিটারী ১৫/১৬ জন ছিল।
তারপরে সামনের গাড়ি থেকে খোকা বেরিয়ে আমাকে দেখিয়ে দিল। ২ জন সেপাই আমাকে বগলদাবা করে ভ্যানে তুলে নিল। সে সময় রুনু বাবুর বাড়িতে বৃদ্ধ খলিফা (৭৫) থাকতেন। তাকে যদিও উঠায়নি। তিনি সহানুভূতিশীল হিসেবে স্বপ্রণোদিতভাবেই আমার পাশে উঠে বসেন। এই সময় গাড়ি দুটি ব্যাক করে ফেরানোর সময় অর্থাৎ গুডস হিলে ফিরে যাবার পথে জিএম সেন হলের দিকে আরেকটি গাড়ি আসার সময়, সে গাড়িতে আমার আম্মার মামাত ভাই মোকলেছুর রহমান চৌধুরী ছিলেন। তিনি তার গাড়ির হেডলাইটে আমার উঠানোর দৃশ্যটি দেখে ফেলেন।
গাড়ি দুটি নিয়ে সোজা ফজলুল কাদের চৌধুরী ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর গুডস হিলের বাসায় নিয়ে যায়। এই সময় খোকা আর ওয়াহিদুল আলম উর্দুতে বলে “শালা মালাউন কা, উসকো শির নিচু কর, পা উঁচু কর”। তখন ২ জন সিন্ধি পুলিশ গছের গুঁড়িতে আড়াআড়িভাবে বেঁধে পা উপর করে মাথা নিচু করে বেঁধে ফেলে।
প্রসিকিউর : তারপর কি করে।
সাক্ষী : সিন্ধি পুলিশরা আমাদের বেদম প্রহার করে। তারপর আমাকে ওখান থেকে নামিয়ে খোকা ওয়াহিদুল আলম, সাইফুদ্দিন বললো, শালাকে গ্যারেজমে লকআপ কর। এরপরে খলিফা আমার সঙ্গে যে গেছিল, তাকে রাইফেল বাঁট দিয়ে ২/১টা বাড়ি দিয়ে আমাদের ২ জনকেই টর্চার করতে শুরু করলো। ঐ সময় আমি পাশের ২/৩টি গ্যারেজ থেকে লোকদের গোঙানি শুনতে পাই। পানির অসম্ভব পিপাসায় পানি পানি করতে থাকি। এই সময় খলিফা হাতের উপর ক্রলিং করে করে লকআপ করার টিনের গ্যারেজে এর কাছে এসে গ্যারেজ খোলা রাখার জন্য যে ইট রাখা ছিল। সেখান থেকে একটি ইট নিয়ে আসে। ইটের উপর আমার মাথাটা রাখে।
এরপর আমার হুঁশ চলে যায়। রাত আনুমানিক ১২/১টার দিকে কুকুরের আওয়াজ তন্দ্রা ভেঙ্গে যায়। দেখি গাড়ির হেডলাইটের আলো, তারপরে ও আর কিছু হয়নি। আমার হুঁশ চলে যায়। এরপর সুবে সাদিকের দিকে রাইফেল পিস্তলের গুলির আওয়াজ শুনতে পাই। এটা নাকি চৌধুরী ছেলেরা সকাল বেলায় রাইফেল পিস্তল দিয়ে প্রশিক্ষণ নিত। গ্যারেজ যারা থাকত তাদের মেরে ফেলত। প্রয়োজনে যাদের মেরে ফেলা দরকার তাদের মেরে ফেলা হতো।
আমি তখন মনে করলাম, আমাকেও ঐভাবেই মেরে ফেলা হবে। আর কিছু চিন্তা না করে, আর কারো কথা মনে না করে ৪ মাসের শিশুকন্যার কথা স্মরণে এনে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করি। আমার মেয়েকে হেফাজত কর। এ সময় সাক্ষী আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
এ সময় তার কান্নার শব্দে ট্রাইব্যুনাল-১ এর এজলাস কক্ষের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। এদিকে সলিমুল্লাহর সাক্ষ্য প্রদানের মাঝে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রধান আইনজীবী আহসানুল হকের সঙ্গে তার এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বেশ কয়েকবার বাদানুবাদ হয়। এ সময় ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আপনার এমন কোন কথা বলবেন না, যাতে সাক্ষীর কথা বলতে অসুবিধা হয়।’
সাক্ষ্যের এক পর্যায়ে সলিমুল্লাহ বলেন, ‘আমি সত্য বলছি।’ এ সময় আহসানুল হক তাকে বলেন, ‘জেরা করলেই সব সত্য মিথ্যা বের হবে। আপনাকে বার বার সত্য বলছি বলার দরকার নেই।’ তখন সলিমুল্লাহ বলেন, ‘আমিতো বলবই, কারণ এর সঙ্গে আমার ইমোশন (আবেগ) জড়িত।’ তখন আহসানুল হক তাকে বলেন, ‘এখানে ইমোশনের কোন জায়গা নেই। এরপর জেরা হবে।’ তখন রাষ্ট্রপক্ষ্যের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমার সাক্ষীকে কোন ভয় দেখাবেন না।’ এ সময় আহসানুল হককে উদ্দেশ করে সাক্ষীর আসনে বসে থাকা সলিমুল্লাহ বলেন, ‘আমি যা বলছি, সত্য বলছি, আপনি তো সবই জানেন। আপনি বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে ওয়ার ক্রিমিনালদের (যুদ্ধাপরাধী) মামলা লড়ছেন।’
এ সময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান সবাইকে থামিয়ে দিয়ে আহসানুল হকের উদ্দেশে বলেন, ‘উনিতো আসলে সাক্ষী দেয়ার বিষয়ে অভ্যস্ত না, এগুলো বুঝে নিতে হবে।’ এ সময় আহসানুল হক বলেন, ‘উনি এক্সপার্ট, আমিতো উনাকে চিনি।’ এ সময় আবার নিরবেই কেঁদে চোখ মুছে সলিমুল্লাহ বলেন, ‘আমি যে বেঁচে আছি, এটা আল্লাহর দান।’ তিনি বলেন এরপরে আর কিছু ঘটেনি। কিছুক্ষণ পর একজন সিন্ধি পুলিশ খুব করুন সুরে কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করছিলেন। এরপরে আমি পানির তৃষ্ণায় পানি পানি বলে চিৎকার করছিলাম। ঠিক সেই সময় সিন্ধি পুলিশ সম্ভবত বাথরুমে যাবার জন্য মগে পানি নিয়েছিল। সেই পানিটুকু দরজার ফাক দিয়ে দেয়। ঐ পানিটুকু খেয়ে আমি জীবন ফিরে পাই। না হলে হয়তো আমি ওখানে মরে যেতাম।
জবানবন্দীতে তিনি আরও বলেন, সকাল ৮টা সাড়ে ৮টার দিকে খোকা এসে গ্যারেজের দরজা খুলে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে আমাকে ক্ষমা করে দাও। এবং তার সঙ্গে দেখি আমার আপন ভাগ্নে মোঃ ইসহাক ও আমার বন্ধু শফিকুর রহমান রয়েছে। আমাকে বলে চলেন। আমি বলি যাব না। আমার সঙ্গে যে খলিফা আছে তাকেও ছেড়ে দিতে হবে। বলে না, তাকে এখন ছাড়ব না, তাকে পরে ছাড়ব।
আমাকে বগলদাবা করে নিয়ে আসছিল। তখন ফজলুল কাদের চৌধুরীর পুরাতন বাড়ির সামনে দেখতে পাই সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে রাগতস্বরে আমার বন্ধু শফিকুর রহমান বললো, তোমরা আল শামস বািহনী করে এসব কান্ডকারখানা করে নিরীহ লোকদের অত্যাচার করলে, তার ফল শুভ হবে না। এগুলো রাউজানে কর, শহরে নয়।
প্রসিকিউটর : ছাড়া পাবার পর।
সাক্ষী : ছাড়া পাবার পর খলিফা ও ২ জন কর্মচারীকে আজ পর্যন্ত খবর পাইনি। আমার ধারণা তাদের হত্যা করে গুম করা হয়েছে। আমার দুই কর্মচারীর নাম দুলাল ও দয়াল।
প্রসিকিউটর : সলিমুল্লাহ সাহেব চট্টগ্রামে বসবাস করেন। চট্টগ্রাম শান্তি বাহিনী কমিটি গঠন কিভাবে হয়েছে।
সাক্ষী : ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে শহরে আলবদর, আলশামস ও রাজাকারের ২টি পৃথক শান্তি কমিটি গঠন করে। সেই শান্তি কমিটির একটাতে ফজুলুল কাদের চৌধুরী ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী অন্যটিতে মাহমুদুন নবী ছিলেন। মাহমুদুন নবীর নেতৃত্বে অত্যাচারের তেমন কাহিনী শোনা যায়নি।
কিন্তু সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আল শামস বাহিনী দিয়ে চট্রগ্রামের শহরে এবং রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, সাতকানিয়া, বোয়ালখালী যত রকমের স্বাধীনতাকামী লোকজন ছিল হিন্দু মুসলমান ধরে এনে সাকার নির্দেশে গুডস হিলের টর্চার সেলে রাখা হতো। যারা টর্চারিংয়ে মারা যেত অথবা মেরে ফেলার নির্দেশ থাকত তাদের মেরে কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেয়া হতো।