মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
৫২২৪৫
শুক্রবার, ৯ এপ্রিল ২০১০, ২৬ চৈত্র ১৪১৬
ছাত্রলীগ যুবলীগ সংঘর্ষ ॥ টেন্ডারবাজিতে হত ১
০ পঞ্চগড়ে দরপত্র দাখিল নিয়ে ছুরিকাঘাতে মারা গেল ছাত্রলীগ কর্মী
০ বাউফলে যুবলীগ ক্যাডারদের পে-অর্ডার ছিনতাই
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ সরকারী পুকুর ইজারার দরপত্র দাখিল নিয়ে বৃহস্পতিবার পঞ্চগড়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের সশস্ত্র সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পৰে অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভা কার্যালয় থেকে পে-অর্ডারসহ দরপত্র ছিনতাই করেছে যুবলীগ সমর্থক কয়েক ক্যাডার। এ সময় সন্ত্রাসীরা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলে। খবর নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো।
পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ে নিহত ছাত্রলীগ কর্মীর নাম ফারম্নক হোসেন (২৪)। তার বাড়ি শহরের মিঠাপুকুর মহল্লায়। সে ১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে ঠাকুরগাঁও এবং রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার পরই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ একটি অংশ আওয়ামী লীগ নেতা আবু তোয়াবুর রহমানের মিঠাপুকুরের বাড়িতে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা দুপুর দেড়টা থেকে এলজিইডি ভবনের সামনে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি । নিহত ফারুকের পরিবারের অভিযোগ, টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী কতিপয় নেতার জন্য ফারুককে অকালে জীবন দিতে হলো। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১০টি খাস পুকুর ৩ বছরের জন্য ইজারার দরপত্র দাখিলের তারিখ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। দরপত্র দাখিলের জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ২টি টেন্ডার বাক্স সকাল থেকে কতিপয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মী পাহারা দিয়ে দরপত্র ফেলতে বাধা সৃষ্টি করে। ছাত্রলীগ কর্মী ফিরোজ, ফারম্নক, সুজনের নেতৃত্বে যুবলীগ-ছাত্রলীগের অপর একটি গ্রুপ দুপুরে জেলা প্রশাসক অফিসে দরপত্র জমা দিতে গেলে দু'গ্রুপের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। সেখানে দরপত্র জমা দিতে না পেরে ফিরোজ গ্রুপ সদর উপজেলা পরিষদে গিয়ে টেন্ডার বক্সে দরপত্র জমা দিয়ে চলে যায়।
এ খবর জানার পর দুপুর ১২টার দিকে জুলফিকার নামের এক যুবলীগ নেতা মোবাইল ফোনে ছাত্রলীগ কর্মী জুয়েলকে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ডেকে আনে। এ সময় দরপত্র জমা নিয়ে বাকবিতন্ডা শুরুর এক পর্যায়ে জুলফিকার, আমিনুর ও স্বাধীনসহ কতিপয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা জুয়েলকে বেধরক মারপিট করে। খবর পেয়ে ১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ফিরোজ কামালের নেতৃত্বে যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরা জুয়েলকে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমিনুর রহমান নামের এক যুবলীগ কর্মীকে মারপিট করে। এতে উভয় পরে মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। উভয় পই ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ফারুক, সুজন, লিটনসহ উভয়পরে ১৫ জন ছুরিকাঘাতে আহত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক মারা যায়।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল হক বলেন, দরপত্র দাখিল নিয়ে তাঁর অফিসে কোন বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠুভাবেই ১২টি দরপত্র জমা পড়েছে। অফিস চত্বরের বাইরে কোন ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি জানান।
বাউফল : পৌরসভার অধীনে ১৪১৭ বাংলা বছরের জন্য হাট-বাজার ইজারা সংশোধনী দরপত্র বিজ্ঞপ্তি (৪র্থ আহ্বান) করা হয়। এর মধ্যে বাউফল বাজারের এক বছরের ইজারা দরপত্র গ্রহণের ধার্য দিন ছিল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং দরপত্র বাক্স খোলার সময় ছিল একই দিন বিকাল ৪টায়। এ বাজারের অনুকূলে ২টি ইজারা ফরম বিক্রি হয়। একটি ক্রয় করেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া পান্নু এবং অপর ফরমটি ক্রয় করেন গত বছরের ইজারাদার মোঃ মিজানুর রহমান। মিজান ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫শ' টাকা দর দিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৫শ' টাকা মূল্যের পে-অর্ডারসহ দরপত্রটি ওই দিন দুপুরে দাখিল করেন।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতা পান্নু ২ লাখ ৫১ হাজার দর দেখিয়ে দরপত্র দাখিল করেন । নিয়মানুযায়ী বিকালে পৌর কার্যালয়ে দরপত্র বাক্স খোলা হলে দরপত্র বাছাইয়ের সময় যুবলীগ সমর্থক ৫/৬ জন ক্যাডার পৌরসভা কার্যালয়ে ঢুকে মিজানুর রহমানের দরপত্রসহ পে-অর্ডারটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ সময় অফিসের লোকজন বাঁধা দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাগজপত্র বিনষ্ট করে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া পান্নু বলেন, 'দরপত্র ছিনতাইকারীরা আমার লোক নয়, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।' এ ব্যাপারে পৌরসভার মেয়র কাজী ফরিদুজ্জামান টিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আইনানুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।