মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
১১০২১০
বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৮ অগ্রহায়ন ১৪১৬
যানজট নিরসনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে পুলিশ
অটো সিগন্যাল মানা বাধ্যতামূলক, তাৎ ণিক জরিমানা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল, নির্দিষ্ট লেনে গাড়ি চালাতে হবে, ২০ বছরের পুরনো গাড়ি তুলে দেয়া হবে
স্টাফ রিপোর্টার যানজট নিরসনে আরও কঠোর হচ্ছে পুলিশ। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের আর্থিক জরিমানা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন প্রকার ওয়ারেন্টের প্রয়োজন হবে না। আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে এ নির্দেশ কার্যকর করা হবে। রাস্তায় অটো সিগন্যাল মেনে চলা বাধ্যতামূলক। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের কমপক্ষে হাজার টাকা জরিমানা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ৩ মাসের জন্য বাতিল করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এ ধরনের নির্দেশনা পেয়েছে পুলিশ। নির্দিষ্ট লেনে গাড়ি চলাচল করবে। বেআইনীভাবে লেন পরিবর্তন করামাত্র আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। ঢাকার রাস্তা থেকে ২০ বছরের পুরনো গাড়ি তুলে দেয়া হচ্ছে। এজন্য পুরনো গাড়ি জব্দ করতে ঝটিকা অভিযানে নেমেছে পুলিশ। এক্ষেত্রে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দফতরে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা ও পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তিনি এক জরুরী বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে ডিএমপি কমিশনার একেএম শহীদুল হক যানজট নিরসনে একটি কর্মপরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের জানান। পরিকল্পনা মোতাবেক ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে জনগণসহ যানবাহন মালিক ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা ধরনের প্রচার অভিযান শুরু করা হয়েছে। এটা চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পুলিশের ১২ উপকমিশনার বিভিন্ন প্রচারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এঁদের নেতৃত্বেই ১২ টিম গঠিত হয়েছে। টিম গুলো রাজধানীর ১২ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনকে শনাক্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে। প্রতিটি ভিআইপি রোডের মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বিশেষ জায়গায় মাইকিং চলবে। মাইকিং ব্যবস্থা দীর্ঘদিন চালু থাকার কথা রয়েছে। মাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রচার করা হবে। এ ছাড়া চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচী চালু করা হবে। ৩ লেনের রাস্তায় প্রথম লেন অর্থাৎ রাস্তার ডান পাশের লেনে প্রাইভেটকার, মাইক্রো, জীপ, ভিআইপিদের বহনকারী গাড়ি, দ্বিতীয় লেন অর্থাৎ রাস্তার মাঝখানের লেনে মিনিবাস, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও তৃতীয় লেন অর্থাৎ রাস্তার বাম পাশের লেনে বেবি ট্যাঙ্,ি টেম্পো, হিউম্যান হলার, মিশুক জাতীয় গাড়ি চলাচল করবে। প্রতিটি লেনে একটি গাড়ির পিছনে আরেকটি গাড়ি থাকবে। ট্রাফিক আইন অমান্য করে ওভারটেক করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সামনের ক্রসিংয়ে বামে মোড় নিতে হলে আগেই লেন পরিবর্তন করে ঠিক লেনে গাড়ি রাখতে হবে। কোন লেন বন্ধ করে রাখা যাবে না। লেন পরিবর্তনের সময় অবশ্যই যানবাহনের দিকনির্দেশক বাতি জ্বালাতে হবে। যাতে সহজেই পিছনের যানবাহন ধারণা করতে পারে গাড়িটির গন্তব্য কোন্ দিকে। ইচ্ছামতো পার্কিং করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট জায়গায় পার্কিং করতে হবে। বাসস্ট্যান্ড ব্যতীত কোথাও যানবাহন থামানো নিষেধ করা হয়েছে। বাসস্ট্যান্ড ব্যতীত কোথাও গাড়ি থামানো যাবে না। অনুমোদিত জায়গায় পার্কিং করে যাত্রী ওঠা-নামা করতে হবে।
বৈঠকে যানজট নিরসনে রাজধানী থেকে ২০ বছরের অধিক পুরনো যানবাহন তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য পুলিশ রাজধানীতে ঝটিকা অভিযান শুরু করেছে। ইতোপূর্বেও পুলিশ ২০ বছরের অধিক পুরনো যানবাহন জব্দ করতে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছিল। চলতি বছর ৯ আগস্ট থেকে ২৫ নবেম্বর পর্যন্ত ২০ বছরের অধিক ৯ হাজার ৪শ' ৭টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছিল। এ ছাড়া ৫ হাজার ৩শ' ৪০টি অবৈধ রিঙ্া জব্দ করা হয়েছিল। জব্দকৃত মোটরযানের মধ্যে 'আর কোন দিন এসব গাড়ি ঢাকায় চালাব না' মর্মে মুচলেকা দিয়ে ৪শ' ৪৫টি গাড়ি ছেড়ে দেয়া হয়। বাকি ৭শ' ৩০টি মোটরযান বিভিন্ন ধরনের জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। ট্রাফিক বিভাগের হিসাব অনুযায়ী ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত রাজধানীতেই ৪ লাখ ৭০ হাজার ৫শ' ৭টি গাড়ির লাইসেন্স দেয়া হয়। এর মধ্যে প্রাইভেটকারের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৬শ' ২৯টি। বাকিগুলো অন্য মোটরযান।
এরপর ফুটপাথ থেকে পর্যায়ক্রমে সব ধরনের দোকানপাট তুলে দেয়া হবে। যানজট নিরসনে প্রাইভেটকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও জব্দকৃত ২০ বছরের অধিক পুরনো গাড়ি ডাম্পিং করার জায়গা চেয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বরাবর পুলিশ একটি দরখাস্ত দাখিল করেছে। ট্রাফিক বিভাগ জানায়, রাজধানীর নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারণে রাজধানীতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি ও ট্রাফিক পুলিশের হিসাব অনুযায়ী রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত প্রায় ৬৬ হাজার প্রাইভেটকার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অবস্থান করে। বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পার্কিং প্লেস নেই। যার ফলে এসব প্রাইভেটকারের প্রায় অধিকাংশই বিভিন্ন রাস্তার ওপর পার্কিং করা থাকে। যানজটের এটিও একটি অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০ বছরের অধিক পুরনো গাড়ি জব্দ করার পর জব্দকৃত গাড়ি রাখার কোন জায়গা নেই। এসব গাড়ি ড্যাম্পিং করতে যে জায়গার দরকার তা পুলিশের নেই। ডিএমপি কমিশনার জানান, শুধু রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর এই ট্রাফিক আইনের বাইরে থাকবে। বৈঠকে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা ও পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।