স্টাফ রিপোর্টার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের মাসব্যাপী বিজয় উৎসবের কর্মসূচী। বিজয় মাসের সূচনা দিনে দলটির হাজার হাজার নেতাকমর্ী ঐতিহাসিক সোহ্রাওয়াদর্ী উদ্যানের শিখা চিরন্তরে সামনে মুষ্টিবদ্ধ দু'হাত তুলে জাতির জনকের হত্যা মামলায় চূড়ান্ত রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত এবং মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত ঘৃণ্য শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শপথবাক্য পাঠ করেন।
সকালে ঐতিহাসিক ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পু্#৬৩৭৪৩;মাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের মাসব্যাপী কর্মসূচীর সূচনা হয়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জাতীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এরপর সোহ্রাওয়াদর্ী উদ্যানে শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে দলের নেতাকমর্ী ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে শপথবাক্য পাঠ করান তিনি। দলের আগে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শিখা চিরন্তনে পু্#৬৩৭৪৩;ার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে আওয়ামী লীগের নেতাকমর্ীরা মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধেও পু্#৬৩৭৪৩;ার্ঘ্য অর্পণ করেন।
শপথ পাঠের আগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বক্তব্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, দু'লাখ মা-বোন যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এবং সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি প্রারম্ভিক বক্তব্যে আরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতাসহ ১৫ আগস্ট সকল শহীদকে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সহায়তাকারী ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী এবং যেসব ভারতীয় সেনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তাঁদেরও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন শেষে মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এরপর হাজার হাজার নেতাকমর্ী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। সবাই মুষ্টিবদ্ধ হাত ওপরে তুলে শপথ নেন। শপথ্যবাক্যে বলা হয়- "বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণা, শেখ হাসিনার উদ্যম ও দিক-নির্দেশনাকে আন্তরিকতার সঙ্গে চেতনা-মননে ধারণ করে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দুনর্ীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত ও বাঙালীর হাজার বছরের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে জীবনবোধে ধারণ করব। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-দলমত নির্বিশেষে সকল বিভেদ ভুলে দেশের অগ্রগতির স্বার্থে আত্মনিয়োগ করব।"
বিজয়ের মাসে শপথে আরও বলা হয়, "যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। রাষ্ট্রপিতা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী আদর্শ ও প্রেরণা বুকে ধারণ ও চেতনায় লালন করে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সকল বাধা উল্লঙ্ঘন করব। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত ঘৃণ্য শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবই। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের আইনের উপযুক্ত বিচারে শাস্তি প্রদান করে জাতির দূরপনেয় কলঙ্ক নিরসনে সদা তৎপর থাকব।" শত সহস্র মানুষ মুষ্টিবদ্ধ দু'হাত তুলে এ শপথ নেন।
শপথগ্রহণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদনকালে এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আক্তারুজ্জামান, এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) এবি তাজুল ইসলাম, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মৃণাল কান্তি দাস, ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, সুজিত রায় নন্দী কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট সহ বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, শিখা চিরন্তন এবং মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পু্#৬৩৭৪৩;মাল্য অর্পণ করে।
দেশব্যাপী যুবলীগের গণস্বাক্ষর অভিযান
বিজয়ের মাসের সূচনা দিনে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধুর খুনীদের মৃতু্যদণ্ডের রায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে যুবলীগের উদ্যোগে গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু হয়েছে। বিকেলে ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে এই গণস্বাক্ষর অভিযানের উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান কেঁৗসুলি এ্যাডভোকেট আনিসুল হক। কর্মসূচীর দ্বিতীয় দিন আজ বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই স্বাক্ষর কর্মসূচী পালিত হবে।
কর্মসূচীর উদ্বোধন করে এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার পর জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। পাপ মোচন হয়েছে বাংলাদেশের। জাতি পেয়েছে ন্যায়বিচার। কেননা এ হত্যার দায় আমাদের সকলের। বঙ্গবন্ধুর খুনী ও তাদের দোসররা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার অপচেষ্টা করেছিল। এই খুনীদের কারণে ২১ বছর গণতন্ত্রহীন, অধিকারহীন থাকে বাংলাদেশের মানুষ। আইনের শাসন হয়েছে ভূলুণ্ঠিত। প্রত্যাশিত এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর জাতি কলঙ্কের অভিশাপ থেকে মুক্ত হলো।
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জাতি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ চায়নি, চেয়েছে ন্যায়বিচার। বিশেষ ট্রাইবু্যনালে নয়, প্রচলিত আইনে স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ায় জাতি ৩৪ বছর পর ন্যায়বিচার পেয়েছে।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলহাজ ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে গণস্বাক্ষরপূর্ব সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিচারপতি এ এফ এম মেজবাহ উদ্দিন, সাবেক আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হুইপ মির্জা আজম, এ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, মোশাররফ হোসেন কাজল, এম আমিন উদ্দিন, হারুন-অর রশীদ ও মোতাহার হোসেন সাজু।