মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
১১১৫৪৭
বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০০৯, ৫ অগ্রহায়ন ১৪১৬
কারাগারে খুনীরা যেমন আছে_
শংকর কুমার দে কারাবন্দী বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনীর এখন দিনকাল কেমন কাটছে। খুনের জন্য তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা কিংবা অনুতাপের কোন লেশমাত্র পরিলক্ষিত হয় না কারারুদ্ধ জীবনে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের রজনীগন্ধার পৃথক ৫টি সেলে রাখা হয়েছে পাঁচ খুনীকে। চার দেয়ালের ভেতরে অন্ধপ্রকোষ্ঠে তাদের প্রায়শ উদ্বিগ্ন পায়চারি করতে দেখা যায়। খুনীরা যাতে সেলের ভেতরে কোন প্রকার অঘটন ঘটাতে না পারে এজন্য কারা কর্তৃপক্ষের সর্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। কারা কর্তৃপক্ষ পাঁচ খুনীর সঙ্গে অতীতে কখন কারা দেখা করেছে সেই সাক্ষাতকারীদের তালিকাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। খুনীদের এখন একটিই প্রত্যাশা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তাদের দেখা হবে কবে?
কারাগারের কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে সিসি টিভি বসিয়ে পাঁচ খুনী কখন কি করছে, দিনকাল কেমন কাটাচ্ছে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি করা হচ্ছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের রজনীগন্ধার যেই ৫টি পৃথক সেলে রাখা হয়েছে সেই সেলগুলোর সামনে বসানো হয়েছে ৭টি সিসি টিভি। রজনীগন্ধার মোট ৭টি সেলের মধ্যে ৫টি সেলে খুনীদের রেখে অপর ৩টি সেলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শূন্য রাখা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল। কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে বসানো হয়েছে সিসি টিভি। কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের সিটি টিভির মাধ্যমে খুনীদের সেলের সামনে বসানো সিসি টিভি দিয়ে খুনীরা কখন কি করছে তা পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে। খুনীরা কখন খাচ্ছে, ঘুমাচ্ছে, পায়চারি করছে সবকিছুই দেখা যাচ্ছে।
নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা করা হচ্ছে পাঁচ খুনীর। ডাক্তারি পরীক্ষা করে খাবার দেয়া হচ্ছে তাদের। দিনে-রাতে চবি্বশ ঘণ্টায় তাদের সেলের সামনে কারারক্ষীরা প্রহরা দিচ্ছে। প্রহরারত কারারক্ষীদের খুনীদের সঙ্গে কথা বলা নিষিদ্ধ। কারারক্ষীদের নজরদারি করার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে কারা গোয়েন্দা সদস্যদের। পাঁচ খুনীকে অন্য কয়েদিরা যেই ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে তা দেয়া হচ্ছে। তাদের কোন আকাঙ্ক্ষা আছে কিনা কারা কর্তৃপক্ষ জানতে চাইলে খুনীরা জানায়, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তাদের দেখা হবে কবে?
ব্যারিস্টার তাপস হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে বোমা হামলার পর থেকে পাঁচ খুনীর সঙ্গে আত্মীয়স্বজনসহ সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত ও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ের আপীলের শুনানি শুরু হওয়ার পর কারাগারে আটক পাঁচ খুনীকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা ছাড়াও জঙ্গী, সন্ত্রাসী কঠোর নজরদারিতে রেখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীরা দীর্ঘদিন ধরে কারারুদ্ধ থাকলেও তাদের আচার-আচরণে এখন যেই ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে তা অতীতে পরিলক্ষিত হয়নি।
বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনীর মধ্যে লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে '৯৬ সালের ১৩ আগস্টে। '৯৬ সালের ১৬ আগস্টে কারাগারে আনা হয়েছে লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সুলতান শাহরিয়ার খানকে। লে. কর্নেল (বরখাস্ত) মহিউদ্দিনকে '৯৬ সালের ২৭ নবেম্বরে আনা হয়েছে কারাগারে। মেজর (বরখাস্ত) বজলুল হুদাকে কারাগারে আনা হয়েছে '৯৮ সালের ৮ নবেম্বরে। সর্বশেষ '০৭ সালের ২১ জুন কারাগারে আনা হয়েছে লে. কর্নেল (বরখাস্ত) মহিউদ্দিন আহমেদকে।
বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনীকে কখন কারাগারে আনা হয়েছে এবং কারাগারে আনার পর তাদের সঙ্গে কখন কারা দেখা করেছে তাদের তালিকাটি পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপীলের রায় ঘোষণার আগে থেকে কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনীকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।