মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
৭০৯০
বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০০৯, ৫ অগ্রহায়ন ১৪১৬
২১ আগস্ট পালানোর পরিকল্পনা ছিল ৫ খুনীর!
গাফফার খান চৌধুরী ২১ আগস্ট শেখ হাসিনা মারা গেলে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বঙ্গবন্ধুর ৫ খুনীর। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে খুনীদের কাছে গ্রেনেড সরবরাহ করা হয়েছিল। গ্রেনেড হামলা মামলার পুনর্তদন্তে এমন তথ্যই ওঠে আসছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া অকার্যকর করতে এখনও মরিয়া যুদ্ধাপরাধীরা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতর থেকে পাকিস্তানের তৈরি আর্জেস-৮৪ মডেলের গ্রেনেড উদ্ধার করে কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ। পরবতর্ীতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো জায়গায় আর্জেস গ্রেনেড উদ্ধারের খবরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কারা কতর্ৃপক্ষ ও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে। কিন্তু বিগত জোট সরকারের আমলে তদন্ত হালে পানি পায়নি। পরবর্তীতে নামকাওয়াস্তে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের কাছে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা, কারাগারে জাতীয় চারনেতা হত্যা, ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ও সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাংসদ ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস হত্যাচেষ্টা একসূত্রে গাথা। সর্বশেষ বাংলাদেশের ভারতীয় ও মার্কিন দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনার পিছনেও ছিল যুদ্ধাপরাধীরা। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া নস্যাত করতেই বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জঙ্গীবাদের ভয়াবহ উত্থান ঘটানো হয়।
যুদ্ধাপরাধীরা বঙ্গবন্ধু পরিবারের জীবিত সকল সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর সমাবেশে ইতিহাসের জঘন্যতম ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে ২৪ জন নিহত ও ৫ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আহত হয়। শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলার পর পরই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ থেকে উদ্ধারকৃত অবিস্ফোরিত গ্রেনেড ও কারাগার থেকে উদ্ধার করা গ্রেনেড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা জানান, আওয়ামী লীগ সমাবেশে হামলায় পাকিস্তানের তৈরি আর্জেস-৮৪ মডেলের গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছিল। আর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেও পাকিস্তানের তৈরি আর্জেস-৮৪ মডেলের গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। সিআইডি সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গ্রেনেড উদ্ধারের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, যারা শেখ হাসিনাকে হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত তারাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গ্রেনেড সরবরাহ করে থাকতে পারে। শেখ হাসিনা নিহত হলে সারাদেশের চিত্র পাল্টে যেত। এ সুযোগে কারাগারে গ্রেনেড হামলা করে বঙ্গবন্ধুর খুনীরা পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বাঁচাতেই কারাগারে পরিকল্পিতভাবে গ্রেনেড সরবরাহ করা হয়েছিল। এমনকি এসব গ্রেনেড একই চালানের গ্রেনেড বলে গোয়েন্দারা অনেকটাই নিশ্চিত। পরবতর্ীতে কারা বিদ্রোহের অজুহাত দেখানোর পরিকল্পনা ছিল। শেষ দফায় ২০০৫ সালের ৩১ মার্চ কারা বিদ্রোহের নামে কারাগারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হয়েছিল। সে পরিকল্পনা মোতাবেক ওই দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। বিস্ফোরণে এক বন্দী মারাত্মক আহত হয়। ওই সময় লালবাগ থানা পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছিল। সে তদন্তও ভেস্তে গেছে। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের নির্দেশেও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো জায়গায় বোমা বিস্ফোরণের মত ভয়াবহ ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। এটিও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পালিয়ে যাওয়ার নীলনকশা হতে পারে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা।
সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় অকার্যকর করতে বাংলাদেশের ভারতীয় ও মার্কিন দূতাবাসে জঙ্গী হামলার পরিকল্পনা করা হয়। এরও নেপথ্য কারিগর স্বাধীনতাবিরোধীরা। আত্মঘাতী হামলা করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাপক চাপের মুখে পড়লে সহজেই বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিকভাবেই ঝুলে যেত। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশে জঙ্গীবাদের ভয়াবহ উত্থান ঘটানো হয়। জামাইআদরে লালন পালন করা হয় দেশী বিদেশী আন্তর্জাতিকমানের জঙ্গীদের। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধুর ৫ খুনী জামাইআদর পেত। কারাগারে খুনীরা রীতিমতো ঈদের আমেজে বসবাস করত। নিয়মিত ভূরিভোজ করানো হতো খুনীদের। মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে খুনীরা পুলিশ পাহারায় আদালতের গারদখানায় পিকনিক করত। নানা ধরনের বাহারী খাবার হাজির হতো খুনীদের জন্য। এতে কোন পুলিশ কর্মকর্তা আপত্তি করলে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোটের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ওই পুলিশ কর্মকর্তার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করত। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমল ছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই কুখ্যাত ৫ খুনী বহু সুবিধা পেয়েছে।