মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
৪৫৪৭৬
বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০০৯, ৫ অগ্রহায়ন ১৪১৬
নজিরবিহীন নিরাপত্তা রাজধানীতে, কোর্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা
স্টাফ রিপোর্টার বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা উপলক্ষে দেশব্যাপী কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। সারাদেশ মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে। বিশেষ করে রাজধানীতে থাকছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা। রাজধানীতে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কলঙ্কমুক্তির দিনে আর কোন কলঙ্কের বোঝা ঘাড়ে নিতে নারাজ আইনশৃক্মখলা বাহিনী। তাই এত ব্যস্ততা। চারদিকে শৃক্মখলা বাহিনীর প্রতিটি সদস্য যারপরনাই ব্যস্ত। অপশক্তি যাতে জাতির ললাটে আর কোন কলঙ্কের চিহ্ন না অাঁকতে পারে এজন্য সারাদেশ থাকছে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রায় ঘোষণার স্থান ও তার আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী। বিশেষ করে সুপ্রীমকোর্ট ও হাইকোর্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সন্দেহজনক কারও ভেতরে প্রবেশের কায়দা নেই। অতিসাবধানেও কারও প্রবেশ সম্ভব নয়। এমনই নিরাপত্তা বূ্যহ যা কোন প্রাণীর পক্ষেও ভেদ করা অসম্ভব। আদালত এলাকায় বসানো হয়েছে গোয়েন্দা ক্যামেরা। এসব গোয়েন্দা ক্যামেরা আদালত ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে। শত শত ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরায় প্রাপ্ত তথ্য ছবি বা ভিডিও যাচাই-বাছাই চলছে ত্বরিত গতিতে। সন্দেহজনক কোন কিছু অাঁচ করা মাত্র সে সম্পর্কে তত্ত্ব তালাশ চলছে। যদিও এসব ক্যামেরাকে গোয়েন্দারা হাইড ক্যামেরা বলছেন। অর্থাৎ বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই কোথায় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা খুবই শক্তিশালী। বহুদূরের ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম। আদালত ও তার আশপাশের এলাকায় থাকছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। আদালতসহ আশপাশের এলাকার চষে বেড়াচ্ছে সুদক্ষ ডগস্কোয়াড। ডগস্কোয়াড কয়েক হাত মাটির নিচে থাকা অবৈধ মালামাল, বিস্ফোরক খুঁজে বের করতে সক্ষম। পুরো উচ্চ আদালত এখন শৃক্মখলা বাহিনীর সদস্যে ঠাসা। চারদিকে গিজ গিজ করছে আইনশৃক্মখলা বাহিনীর সদস্যরা। হাইরাইজ ভবনের ওপর বসানো হয়েছে মুভি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরা অটোমেটিক। ঘুরে ঘুরে চারদিকের ভিডিও ধারণ করবে। এসব ফুটেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাচ্ছে কন্ট্রোলরুমে। সন্দেহজনক কোন কিছু পাওয়া মাত্র এ্যালার্ম দিতে থাকবে। উচ্চ ভবন গুলোতে বসানো হয়েছে একাধিক ওয়াচ টাওয়ার। বাইনোকুলারের মাধ্যমে পুরো এলাকা নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। রাস্তায় বসানো হয়েছে শত শত চেকপোস্ট। যে কোন ধরনের যানবাহনে তল্লাশি চলছে। কোথাও কোন ফাঁক রাখা হচ্ছে না। প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ছোট ছোট গেট। আইনজীবীদের সঠিক পরিচয়পত্র নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পার্কিং প্লেসের ক্ষেত্রেও আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। তল্লাশি ব্যতীত কোন যানবাহন আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। যে কোন ধরনের জিনিসে ডান্ডা (মেটাল ডিটেক্টর) বুলিয়ে দেয়া হচ্ছে। সুপ্রীমকোর্ট ও হাইকোর্ট এলাকার আশপাশের সব সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোন প্রকার সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে হলে সঠিক পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। অন্যথা হওয়ার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া প্রবেশকারীদের রেজিস্ট্রারে নাম লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ রয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের বাকি কারাগারগুলোতে হাই রেড এ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চারদিকে পুলিশ, র্যাব, আর্মড পুলিশ ও কারারক্ষীদের যথেষ্ট ভারি অস্ত্রসহ পাহারা দিতে দেখা গেছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও তার আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে মিছিল সভা-সমাবেশ। কারাগারের চারদিকে বসানো হয়েছে প্রচুর পরিমাণ নিরাপত্তা চৌকি। কারাগারের ভেতরে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে সারাক্ষণ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের অবস্থানকারী সেলের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। কারাগারের আশপাশের উঁচু ভবনগুলোতে বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। বাইনোকুলার হাতে আইনশৃক্মখলা বাহনীর সদস্যদের চারদিকে নজর রাখতে দেখা গেছে। কারাগারে অযাচিত লোকজনকে যাতায়াত করতে দেয়া হচ্ছে না। কারা কতর্ৃপক্ষের দাবি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোন আশঙ্কাও নেই বলে দাবি করেছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম।
অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মামলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের। এছাড়া ৫ বিচারপতিকে দেয়া হচ্ছে কড়া নিরাপত্তা। কড়া নিরাপত্তার বাইরে নেই রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি, আইনজীবী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও। ঢাকার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কড়া নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। অন্তত ৫ শতাধিক ব্যক্তিকে গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির বাইরে নেই জঙ্গী সংগঠন, বিতর্কিত ব্যক্তি, রাজনৈতিক দলও। বিশেষ নজরদারির মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর খুনী পরিবারের সদস্য ও যুদ্ধাপরাধীরা। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা উপলক্ষে রাজধানীর নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক। তিনি জানান, নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু স্থাপনা নয়, ব্যক্তির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। কোন প্রকার নাশকতার আশঙ্কা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
সুপ্রীমকোর্ট, হাইকোর্ট, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ রাজধানীর অনেক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে আইন-শৃক্মখলা বাহিনী পুরো এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছে। কোন অপশক্তি নাশকতা করে পাপমুক্তির পথ যেন রোধ করতে না পারে। সেই বোধ থেকেই বুঝি, আইন-শৃক্মখলা বাহিনীর একেকজন সদস্য চারদিকে তীক্ষ্ন নজর রাখছেন।