মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
১১০১৬৫
বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০০৯, ৫ অগ্রহায়ন ১৪১৬
বাড্ডায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ছাত্রলীগ নেতা খুন
হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে মামুন গ্রুপের কিলাররা
স্টাফ রিপোর্টার রাজধানীর বাড্ডায় প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ছাত্রলীগের এক নেতা খুন হয়েছে। এ সময় তার মামাত ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পুলিশ জানায়, ভাইয়ের হত্যা মামলার সাক্ষী, গরুর হাটের ইজারা, ডিশ ও ঠিকাদার ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন গ্রুপের কিলাররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে মিরপুরে এক কিশোরী গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃতু্য হয়েছে। বুধবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার দুপুর সোয়া ১২টায় মধ্যবাড্ডার জিপি-প-৮৮ নম্বর নিজ বাড়ির পেছনের চায়ের দোকানে বসা ছিলেন স্থানীয় ৯৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগসহ সভাপতি নাজিম (৩০) ও তার মামাত ভাই উজ্জ্বল (২৮)। এ সময় ৫/৬ যুবক মুখে কালো কাপড় বেঁধে হেঁটে ছাত্রলীগ সহসভাপতি নাজিমকে ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগে ওই যুবকরা নাজিমের মাথায়, কানে, পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা নাজিম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ওই অবস্থায় সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা নাজিমের পাশে বসা উজ্জ্বল জাপটে ধরে অস্ত্রধারী এক যুবককে। তারা উজ্জ্বলকে পায়ুপথে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালায়। পরে সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে হেঁটে এলাকা ত্যাগ করে। গুলির আতঙ্কে আশপাশের দোকানপাট ও বিভিন্ন বাসার জানালা বন্ধ করে দেয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজন গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত গুরুতর আহত ছাত্রলীগ নেতা নাজিম ও তার মামাত ভাই উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনে। এ সময় কর্তব্যরত ডাক্তার ছাত্রলীগ সহসভাপতি নাজিমকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় ভাই আজিম অভিযোগ করেন, ছোট ভাই নাজিম স্থানীয় ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রলীগ সহসভাপতি। সে তিতাস গ্যাসের ঠিকাদারী ব্যবসা করে। বুধবার সকাল সোয়া ১১টায় কে বা কারা ছোট নাজিমকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে যায়। বাসার পেছনের অদূরে চায়ের দোকানে সন্ত্রাসীরা ছোট ভাই নাজিমকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০০৬ সালে বাড্ডায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত উজ্জ্বলের বড় ভাই রুবেল খুন হয়। ডিশ ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন ও তার সহযোগীরা রুবেলকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনের ফাঁসির রায়।
এরপর থেকে আইনশৃক্মখলা বাহিনীর ভয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনের ক্যাডাররা আধিপত্য টিকিয়ে রাখা দায়। এতে বর্তমানে মামলাটি আপীলের শুনানী হচ্ছে। আর রেেবল হত্যার মামলার অন্যতম সঙ্গী তার ছোটভাই উজ্জ্বল। এ ছাড়া সম্প্রতি ছাত্রলীগ নেতা নাজিমের কাছে চাঁদা দাবি করে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন গ্রুপের কাডার কাবিল, হিরা। এতে নাজিম বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এমনকি বাড্ডার আফতাবনগরে হাটের ইজারা পায় স্থানীয় শাসকদলীয় এক ক্রেতা। মামুন গ্রুপের ক্যাডাররা হাটের একাংশ দাবি করে। এতেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় ছাত্রলীগ নেতা নাজিম। এরই জের ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন গ্রুপের অন্যতম সহযোগী কিলার কাবিল, হিরাসহ তার ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে ওয়ার্ডে ছাত্রলীগ সহসভাপতি নাজিমকে হত্যা করে। কোনরকম প্রাণে বেঁচে গেলেও উজ্জ্বলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। নিহত ছাত্রলীগ নেতা নাজিমের পিতার নাম মোঃ তোতা মিয়া। ৪ ভাই-২ বোনের মধ্যে সে চতুর্থ ছিল।

মিরপুরে কাজের মেয়ের রহস্যজনক মৃতু্য
অন্যদিকে বুধবার দুপুর আড়াইটায় পুলিশ মিরপুর থানাধীন শাহ্ আলীবাগ এলাকার ৮৯ নম্বর বাড়ির ৫ তলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটের বাথরুম থেকে সোনা (১৩) নামে এক কিশোরী গৃহপরিচারিকার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, কিশোরী সোনা ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ঝিয়ের কাজ করত। বাথরুমের দরজা খোলা অবস্থায় কিশোরী বাথরুমে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে সোনার গলায় নাইলনের দড়ি ঝোলানো ছিল। তার দু'পা ফ্লোরে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল। এমনকি তার কোমরে নাইলনের দড়ি পেঁৗানো ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কিশোরী সোনার মৃতু্যর ঘটনা রহস্যজনক। ময়নাতদন্তের পর আসল ঘটনা জানা যাবে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই অশোক চৌহান জনকণ্ঠকে জানান, মৃতু্যর আগে কিশোরী সোনা ধর্ষিত বা গর্ভবতী হয়েছে কিনা, ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই রিপোর্ট হাতে পেলেই সোনার মৃতু্যর রহস্য উদ্ঘাটন হবে। নিহতের পিতার নাম শ্রী অম্ল বাগচী। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানার পদ্মডুবি গ্রামে।