মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
১১২৩৮৫
বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০০৯, ৫ অগ্রহায়ন ১৪১৬
আজ চূড়ান্ত রায়
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা সকাল ১১টায় রায় ঘোষণা প্রধান বিচারপতির কক্ষেই এ রায় ঘোষণা করা হবে
বিকাশ দত্ত বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার ঐতিহাসিক মামলার রায় আজ ঘোষণা করবে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ সকাল ১১টায় সুপ্রীমকোর্টের ১ নম্বর বিচারকক্ষে আপীল বিভাগের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চের নেতৃত্বদানকারী বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জাল ইসলাম রায় ঘোষণা করবেন। প্রধান বিচারপতি ছুটিতে থাকায় বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকছেন বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জাল ইসলাম।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় উপলক্ষে দেশব্যাপী টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। রায় শোনার জন্য দেশের সর্বস্তরের জনগণ অধীর আগ্রহে চেয়ে আছেন। রায় ঘোষণার পর যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য আইনশৃক্মখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সবের্াচ্চ সর্তকাবস্থায় রাখা হয়েছে। সুপ্রীমকোর্ট এলাকা নিরাপত্তা চাদরে মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
এ্যাটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, এ রায়ের জন্য জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। রায় ঘিরে নাশকতা হতে পারে এ আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এজন্য সুপ্রীমকোর্টের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান কেঁঁৗসুলি এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, আমরা রায়ের জন্য অপেক্ষা করছি। আশা করছি রায় আমাদের পক্ষেই আসবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা সকল যুক্তিতর্ক আদালতে তুলে ধরেছি। আমরা আশা করছি রায়ে আসামিরা নিদের্াষ প্রমাণিত হবে।
কারাগারে আটক মৃতু্যদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আইনজীবী ও সরকারপক্ষের আইনজীবীদের ২৯ দিন শুনানি শেষে বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে আপীল বিভাগের ৫ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আজ (১৯ নভেম্বর) রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে। শুনানি শেষে দীর্ঘ ১৩ বছরের বিচার প্রক্রিয়া পাড়ি দিয়ে মামলার চূড়ান্ত দিন ধার্য করা হয়। ১২ নবেম্বর সকল উদ্বেগ ও নীরবতার অবসান ঘটিয়ে আপীল বিভাগ রায়ের দিন নির্ধারণ করে। আজ সেই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ঘোষণার মধ্যদিয়ে অবসান হবে বাঙালী জাতির এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার। বাঙালী পেঁৗছালো ইতিহাসের একটি স্বর্ণযুগের দ্বারপ্রান্তে। বঙ্গবন্ধু হত্যার দীর্ঘ ৩৪ বছর পর বাঙালী পেল একটি বিচারের রায়। অনেক দেরিতে হলেও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় হচ্ছে। আইন করে যে বিচার বন্ধ করা যায় না, সেটা আজ প্রমাণিত হলো।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দীর্ঘ ২১ বছর পর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর মামলাটি নি্#৬৩৭৪৩;ত্তি করতে ১৩ বছর সময় লাগে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর হরমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড থেকে বঙ্গবন্ধুর আত্মীয়স্বজনও বাদ যাননি। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ঘটনার সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঐ বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর রেসিডেন্স পিএ আ ফ ম মহিতুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে ধানমণ্ডি থানায় এজাহার দায়ের করেন। ১২ নবেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল হবার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের পথ উন্মোচন হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নবেম্বর বিচারিক আদালত ১৫ জন আসামিকে ফায়ারিং স্কোয়াডে অথবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃতু্যদণ্ড প্রদান করে। এর পর আপীল ও মৃতু্যদণ্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি হয় হাইকোর্টে। মামলাটি হাইকোর্টে আসার পর বিচারপতিগণ একের পর এক বিব্রতবোধ করেন। অবশেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে একটি বেঞ্চ দ্বিধাবিভক্ত রায় প্রদান করে। এই বেঞ্চের প্রথম বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিন নিম্নআদালতের মৃতু্যদণ্ড দেয়া ১৫ জনের মধ্যে ১০ জনের সাজা বহাল রাখেন এবং ৫ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। দ্বিতীয় বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক নিম্নআদালতের দেয়া ১৫ জনের মৃতু্যদণ্ডই বহাল রাখেন। পরে তৃতীয় বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল তৃতীয় বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম ১২ জনের মৃতু্যদণ্ড বহাল রাখেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপীল বিভাগে আপীল করে। আসামিদের আপীল দীর্ঘ ৮ বছর সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে ঝুলে ছিল। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার মামলার শুনানিতে কোন উদ্যোগই নেয়নি। তৎকালীন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারক সঙ্কট দেখিয়ে সময় অতিবাহিত করেন।
২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মৃতু্যদণ্ড পাওয়া পাঁচ আসামির আপীল অনুমতির আবেদন মঞ্জুর হয়। মৃতু্যদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, লে. কর্নেল (অব) মুহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), মেজর (অব) বজলুল হুদা, ও লে. কর্নেল (অব) একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (ল্যান্সার)। আসামিদের লিভ টু আপীল মঞ্জুর হবার পর ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর আপীল বিভাগের বেঞ্চ গঠন করা হয়। বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে বিচারপতি মোঃ আব্দুল আজিজ, বিচারপতি বিজন কুমার দাস (বিকে দাস), বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন এবং বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা)-এর সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ৫ অক্টোবর থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার শুনানি শুরু করে। দীর্ঘ ২৯ দিন শুনানির পর ১২ নবেম্বর এই রায়ের দিন ঘোষণা হয়। আজ বঙ্গবন্ধু হত্যার ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। বিচারিক আদালত ১৫১ দিন, হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ৬৬ দিন, তৃতীয় বিচারপতির বেঞ্চ ২৫ দিন, লিভ টু আপীলের শুনানি ২৬ দিন হয়েছে। সবশেষে আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে ২৯ দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় সরকারপক্ষের প্রধান কেঁৗসুলি ছিলেন এ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তাঁকে সহায়তা করেন ১৮ আইনজীবী। এ্যাটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলমকে সহায়তা করেন ১০ আইনজীবী। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে ছিলেন খান সাইফুর রহমান, আব্দুর রেজ্জাক খান ও ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে আজ। সুপ্রীমকোর্টের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, বঙ্গবন্ধু মামলার শুনানির জন্য গঠিত বেঞ্চ ১১টায় বসবে সুপ্রীমকোর্টের ১ নম্বর বিচারকক্ষে। ১ নম্বর বিচারকক্ষ অর্থাৎ প্রধান বিচারপতির বিচারকক্ষ। প্রধান বিচারপতি এমএম রুহুল আমিন ছুটিতে থাকায় বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকছেন বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জাল ইসলাম।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতা গ্রহণ করে হত্যাকারীদের যাতে বিচার না হয় সেজন্য ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ১২ নবেম্বর ১৯৯৬, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ৩০ জুলাই খুনীদের অন্যতম লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান ও লে. কর্নেল (অব) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খানকে গ্রেফতার করা হয়। তার পরে লে. কর্নেল (অব) মুহিউদ্দিন আহমেদকে (আর্টিলারি) গ্রেফতার করা হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নবেম্বর মেজর (অব) বজলুল হুদাকে গ্রেফতার করা হয। ২০০৭ সালের ১৩ মার্চ লে. কর্নেল (অব) এবিএম মহিউদ্দিন আহমেদকে (ল্যান্সার) যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার করা হয়। ১৮ জুন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের আগে ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর পিএ আ ফ ম মহিতুল ইসলাম ধানমণ্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশের বিশেষ সহকারী সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি আদালতে ২০ জনকে দাবি করে চার্জশীট দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১২০ খ (রাষ্ট্রদ্রোহ), ৩০২ (হত্যা), ১৪৯ (বেআইনী সমাবেশ), ৩৪ (সাধারণ অপরাধমূলক লক্ষ্য অর্জনে সামষ্টিক তৎপরতা) ২০৯ (আদালতে মিথ্যা দাবি করা), ৩৮০ (বাসগৃহে চুরি), এবং ১০৯ (অপরাধে সহযোগিতা)। অভিযোগপত্র থেকে নায়েম মোঃ ইউনুস আলী, ক্যাপ্টেন নূরুল হুদা ও মোঃ আবু মুসা, মজমুদারকে অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। মারা যাবার কারণে খন্দকার মোশতাক আহমেদ, মাহবুব আলম চাষী, রিসালদার সৈয়দ সারোয়ার হোসেনকে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণেও বিচারে সোপর্দ করা যায়নি।
অভিযোগ মতে, যে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়, তাদের মধ্যে ছিল লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব) খোন্দকার আব্দুর রশিদ, মেজর (অব) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল (অব) এনএইচএমবি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব) মোঃ আজিজ পাশা, লে. কর্নেল (অব) এএম রাশেদ চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার), রিসালদার মোসলেহউদ্দিন, ক্যাপ্টেন (অব) কিসমত হাসেম, মেজর (অব) আহম্মদ শরফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন (অব) নাজমুল হোসেন আনসার, ক্যাপ্টেন (অব) আব্দুল মাজেদ, দফাদার মারফত আলী শাহ, মোঃ আবুল কাশেম, লে. কর্নেল (অব) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, লে. কর্নেল (অব) মুহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), অনারারি ক্যাপ্টেন ওয়াহার জোয়ার্দার, জোবায়দা রশিদ, তাহের উদ্দিন ঠাকুর।
১৯৯৭ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। মৃতদের বাদ দিয়ে ২০ জনের নামে চার্জ গঠন করে আদালত। বিচারক কাজী গোলাম রসুল ৬১ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। ১৫১ কার্যদিবস শুনানি শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নবেম্বর কাজী গোলাম রসুল রায় ঘোষণা করেন। ১৫ জনকে ফায়ারিং স্কোয়াডে অথবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃতু্যদণ্ড প্রদান করেন। ৪ জনকে বেকসুর খালাস দেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলো তাহের উদ্দিন ঠাকুর, অনারারি ক্যাপ্টেন আব্দুল ওয়াহাব জোয়ার্দার, দফাদার মারফত আলী, এলডি আবুল হাসেম মৃধা। এর আগে সুপ্রীমকোর্ট থেকে জোবায়দা রশিদকে খালাস প্রদান করা হয়।
বিচারক গোলাম রসুল ৬১ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এই সাক্ষীরা হলেন, এএফএম মহিতুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, শেখ (রমা), মোঃ সেলিম, হাবিলদার (অব) মোঃ কুদ্দুস শিকদার, নায়েক সুবেদার আব্দুল গনি, হাবিলদার সোরহাব আলী, লে. কর্নেল (অব) আঃ বাশার, মেজর (অব) সাহাদত হোসেন খান, লে. কর্নেল (অব) আব্দুল হামিদ, মেজর জেনারেল (অব) আব্দুর রব, এলডি বশির আহম্মেদ, এএলডি সিরাজুল হক, দফাদার শফিউদ্দিন সর্দার, দফাদার আব্দুর জব্বার মৃধা, কমোডর (অব) গোলাম রাব্বানী, মেজর (অব) শহীদুল্লাহ, হাবিলদার শামছুল ইসলাম, হাবিলদার আবু তাহের, দফাদার শহিদুর রহমান, আইনুদ্দিন মোল্লা, ল্যান্স নায়েক আব্দুল খালেক, হাবিলদার আব্দুল আজিজ, রিসালদার আব্দুল আলীম, হাবিদার আমিনুর রহমান, নায়েক মোঃ ইয়াসিন, নায়েক জাফরুল ইসলাম, হাবিলদার হারুন অর রশীদ, আব্দুল হাই শেখ, নায়েক শিহাব উদ্দিন, এএসপি শেখ আঃ রহমান, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, হাবিলদার একেএম শাহেদুল হক, হাবিলদার সেলিম উদ্দিন, সুবেদার জয়নাল আবেদীন, নিয়াজ আহমেদ, শেখ রেজাউল হক, প্রণয় চন্দ্র রায়, রিসালদার মঞ্জুর আহমেদ, লেফটেন্যান্ট সৈয়দ আহম্মেদ, ব্রিগেডিয়ার একেএম শাহজাহান, মেজর (অব) জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ, প্রফেসর খোরশেদ আলম, কর্নেল (অব) সাফায়াত জামিল, মেজর জেনারেল (অব) কেএম শফিউল্লাহ, মোখলেসুর রহমান ভুইয়া, মেজর জেনারেল (অব) খলিলুর রহমান, এয়ারভাইস মার্শাল (অব) একে খন্দকার, রিয়াল এডমিরাল এমএইচ খান, নুরুল ইসলাম খান, মেজর আফজালুর রহমান এমএম, হাবিবুর রহমান এসিএমএম, সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, মোঃ ইলিয়াস হোসেন, লে. কর্নেল (অব) সৈয়দ আলী আনসার, ইন্সপেক্টর মোঃ শফিউল্লাহ, মোঃ দাউদ আলী, মোঃ আজিজুল হক, মোঃ বখতিয়ার রহমান, আব্দুল্লাহ আল হাসান ও আব্দুল কাহার আখন্দ।
বিচারিক আদালত ৬১ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণ দেখে ১৫ জনকে মৃতু্যদণ্ড প্রদান করেন। এরা হলো লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব) সুলতান শাহরিয়ার শরীফ খান, লে. কর্নেল (অব) মুহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), লে. কর্নেল (অব) খোন্দকার আব্দুর রশিদ, মেজর (অব) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল (অব) শরিফুল হক ডালিম, মেজর (অব) শরফুল হোসেন ওরফে শরিফুল ইসলাম, লে. কর্নেল (অব) এএম রাশেদ চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার), লে. কর্নেল (অব) এনএইচএমবি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব) আব্দুল আজিজ পাশা, ক্যাপ্টেন (অব) কিসমত হাসেম, ক্যাপ্টেন (অব) নাজমুল হক আনসার, ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ, রিসালদার মোসলেহউদ্দিন। এদের সবাইকে ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযুক্ত করে সাজা দেয়া হয়।
২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগে তৃতীয় বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। তিনি রায়ে ১২ জনের মৃতু্যদণ্ড বহাল রাখেন। ৩ জনকে অব্যাহতিদেন। অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলো মেজর (অব) আহমেদ শরফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন কিসমত হাসেম ও ক্যাপ্টেন (অব) নাজমুল হোসেন আনসার। এর আগে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর একটি বেঞ্চ দ্বিধা বিভক্ত রায় প্রদান করে। দ্বৈত বেঞ্চের প্রথম বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিন নিম্নআদালতের ১৫ জনের মধ্যে ১০ জনকে মৃতু্যদণ্ড প্রদান করেন। ৫ জনকে খালাস দেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলো লে. কর্নেল (অব) মুহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), মেজর (অব) আহম্মেদ শরফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন কিসমত হাসেম, ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন আনসার ও রিসালদার মোসলেহউদ্দিন। দ্বিতীয় বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক নিম্নআদালতের দেয়া ১৫ জনের মৃতু্যদণ্ড বহাল রাখেন। এর ফলে জেলা ও দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল কর্তৃক ১৫ জনের মৃতু্যদণ্ডের মধ্যে হাইকোর্ট ডিভিশন ৩ জন ছাড়া ১২ জনের প্রচলিত আইনে মৃতু্যদণ্ডে দণ্ডিত বলে গণ্য। এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সবাই ইতিহাসে ঠাঁই করে নিলেন।
হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চের ১২ জন মৃতু্যদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে পাঁচজন কারাগারে আটক রয়েছে। ৬ জন পলাতক রয়েছে। পলাতকরা হচ্ছে লে. কর্নেল (অব) খোন্দকার আব্দুর রশিদ, লে. কর্নেল (অব) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব) এএম রাশেদ চৌধুরী, লে. কর্নেল এনএইচএমবি নূর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব) আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহউদ্দিন, লে. কর্নেল (অব) আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুইয়েতে মারা যায়।