বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৫ আশ্বিন ১৪১৯ 
চট্টগ্রামে সিএমএমসহ দু’বিচারককে বদলি
অতিরিক্ত সিএমএম-এর পদত্যাগপত্র পেশ
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে আইনজীবীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে দুই বিচারককে বদলি করা হয়েছে। আরেকজন বিচারককে বদলি করার বিষয়টিকে হয়রানিমূলক আখ্যা দিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
আইনজীবীদের আন্দোলনের মুখে যাদের বদলি করা হয়েছে তাঁরা হলেন চট্টগ্রামের সিএমএম এবিএম নিজামুল হক, অর্থঋণ আদালতের বিচারক (যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার) মাহবুবুল হক। বুধবার এ সংক্রান্ত আদেশে দেখা যায়, সিএমএম নিজামুল হককে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা জজ ও দায়রা জজ এবং মাহবুবুল হককে সুনামগঞ্জে যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এদিকে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আবদুর রহমান পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার ঘটনার নেপথ্যে জানা গেছে, আইনজীবীদের কোন অভিযোগ না থাকার পরও তাঁকে অভিযুক্ত দুই বিচারকের সঙ্গে ফরিদপুরে জেলা জজ হিসেবে বদলি করায় তিনি মানসিকভাবে হতাশ হয়েছেন। তিনি বদলির আদেশ মানতে না পারায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করার জন্য চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি জরুরি সভা আহবান করে সুপারিশ প্রেরণ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি বিশেষ সাধারণ সভায় সিএমএম ও অর্থঋণ আদালতের বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরপর তিনি ৩০ আগস্ট থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দেড়ঘন্টা দুই বিচারকের আদালত বর্জন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিল এবং তাদেরকে বদলি করার জন্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছিল। আইনজীবীদের আন্দোলনের মুখে অভিযুক্ত দুই বিচারক আইনী কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারছিলেন না। এর আগে আইনজীবীদের বিশেষ সাধারণ সভায় উক্ত দুই বিচারককে সরে যেতে আল্টিমেটামও প্রদান করা হয়। অবশেষে বুধবার উক্ত দুই বিচারকের বদলির আদেশ আসলে আইনজীবীদের মধ্যে উল্লাস সৃষ্টি হয়। কিন্তু ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় অভিযুক্তদের সঙ্গে অতিরিক্ত সিএমএম আবদুর রহমানকে ফরিদপুরে বদলি করার ঘটনায়। জানা গেছে, এ ঘটনায় আবদুর রহমান ক্ষুব্ধ হন। তিনি বিষয়টিকে অন্যায় ও অযৌক্তিক মনে করছেন এবং বিষয়টি অপমানজনক হিসেবে ধরে নিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি সিএমএম-এর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেও বুধবার পর্যন্ত তা গৃহীত হয়নি।
|