মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১২, ৪ শ্রাবণ ১৪১৯
কুড়িগ্রামে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার বিস্কুট খেয়ে ২৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ
স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার অর্জুনডারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিশ্ব খাদ্য সংস্থার সরবরাহকৃত প্রোটিন বিস্কিট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বুধবার পর্যন্ত এদের মধ্যে ৪ জনকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। ফলে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, অর্জুনডারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২০২ জন। মঙ্গলবার উপস্থিত ছিল ১৫০ জন। অন্যান্য দিনের মতো প্রথম পিরিয়ডে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’র আওতায় সরবরাহকৃত এক প্যাকেট করে প্রোটিন বিস্কিট সবাইকে দেয়া হয়। এ সময় প্যাকেট খুলে বিস্কুটে দুর্গন্ধ পেয়ে ৩য় শ্রেনীর কয়েক ছাত্র ক্লাশ শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষককে দুর্গন্ধযুক্ত বিস্কুটের কথা বললেও শিক্ষকরা তাতে কর্ণপাত না করে ঐ বিস্কুটেই খেতে বলে। দুর্গন্ধযুক্ত বিস্কুট খেয়ে ৩য় শ্রেণীর ২০ জন, ৪র্থ শ্রেণীর ২ জন এবং ৫ম শ্রেণীর ৩ জন অসুস্থ হয়। অসুস্থ শিশুরা বাড়ি যাবার পথে রাস্তায় বমি করে পড়ে যায়। পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে। পরে অভিভাবকরা খবর পেয়ে তাদের উলিপুর ও কুড়িগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর মধ্যে গুরুতর অসুস্থ ৪ জন হলো ৩য় শ্রেণীর সোহেল রানা, ৪র্থ শ্রেণীর মানিক ও রোকন এবং ৫ম শ্রেণীর মাসুদ রানা। বিকেল ৩টার দিকে ৩য় শ্রেণীর ছাত্র সৌমিক প্রথমে বমি করতে শুরু করে। এরপর ৪র্থ শেণীর ছাত্র মানিক, ৩য় শ্রেনীর ছাত্র সোহেল, ৫ম শ্রেণীর ছাত্র মাসুদ রানা এবং ৪র্থ ছাত্র রোকন একই ধরনের লক্ষণ নিয়ে একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে মানিক, সোহেল, মাসুদ রানা এবং রোকন-এই ৪ জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ওসমান গনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. নজরুল ইসলাম জানান, ফুড পয়জনিংয়ের কারণে এরা অসুস্থ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার এরা অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছে। তারপরও ক্লোজ অবজার্ভেশনে রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, এই বিদ্যালয়ে সরবরাহকৃত বিস্কিট পরীক্ষার জন্য মনিটরিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত এনজিও আরডিআরএসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ছাত্রদের অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়া এ ঘটনায় উলিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।