মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৯ জুন ২০১২, ১৫ আষাঢ় ১৪১৯
বন্যায় নতুন এলাকা প্লাবিত
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো-

কুড়িগ্রামে আরও দু’শতাধিক
চর গ্রাম প্লাবিত
কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমা (২৪ মিটার) বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলার পানি বিপদসীমার মাত্র ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে বন্যার্তদের সহায়তার জন্য ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়েছে জেলা প্রশাসক।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের জানান, ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমরসহ সব ক’টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রে ৫২ সেন্টিমিটার, ধরলায় ৩৫ সেন্টিমিটার ও দুধকুমারের নুনখাওয়া পয়েন্টে ১২২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় পানির এ পরিমাপ রেকর্ড করা হয়। এতে দেখা যায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন জানান, কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, রৌমারী, রাজীবপুর, রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার দুই শতাধিক চর, দ্বীপচর ও নদী সংলগ্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ।
এদিকে বন্যার পানির সঙ্গে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে পশ্চিমরাজীবপুর, উত্তর কোদালকাটি এলাকায়। কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যায় তার এলাকার ৮০ ভাগ প্লাবিত হয়ে পড়েছে। সঙ্গে আছে ভাঙ্গন। সবকিছু মিলে তার এলাকায় ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে।’ মোহনগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনু জানান, তার এলাকার মানুষের মাঝে আহাজারি বিরাজ করছে।

গাইবান্ধায় পরিস্থিতির অবনতি
উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল এবং রাতভর বৃষ্টিপাতের ফলে বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা জেলার বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি ঘটে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ঘাঘট নদীর পানি এখন বিপদসীমার ৫০ সে.মি. এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি ২০ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে অব্যাহত পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের তোড়ে খোলাহাটী ইউনিয়নের পশ্চিম কোমরনই দশআনী পয়েন্টে বৃহস্পতিবার ভোরে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের কিছু অংশ ভেঙ্গে যায়। ফলে বাঁধ ভাঙ্গা পানির তোড়ে মুহূর্তেই ওই ইউনিয়নের দশআনী ও ফকিরপাড়া গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে ওই দুটি গ্রামের দেড় হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গ্রামের ভেতরের রাস্তাঘাটও তলিয়ে গেছে।
অপর দিকে ঘাঘট, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি অব্যাহত থাকায় সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী ৩১টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে ওইসব এলাকায় নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। অব্যাহত ভাঙ্গনে গত দু’সপ্তাহে ৪টি উপজেলার সাড়ে ৮শ’ মানুষ নদী ভাঙ্গন কবলিত হয়ে বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হারিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় গ্রহণ করেছে।

জামালপুরে ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী
উজানের পাহাড়ী ঢলে জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ৩৫ সে. মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৩ সে. মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যায় জেলার ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি, বেলগাছা, সাপধরি, নোয়ারপাড়া, পাথশী ও কুলকান্দি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চিনাডুলি ইউনিয়ন। চিনাডুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানায়, বন্যায় তার ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট চলছে। যমুনার পানির প্রবল স্্েরাতে চিনাডুলির বিভিন্ন স্থানে সড়ক বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। সরকারীভাবে জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ সামগ্রী প্রেরণের দাবি জানিয়েছেন পানিবন্দী পরিবারগুলো।

বগুড়ায় ১০ গ্রাম প্লাবিত
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি আকস্মিক বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।সারিয়াকান্দী উপজেলার চন্দনবাইশা মিনি গ্রোয়েনের একাংশ ধসে গেছে। ধুনট উপজেলায় ১০ গ্রাম এবং সারিয়াকান্দীর নদী সংলগ্ন নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সারিয়াকান্দী উপজেলার চন্দনবাইশা মিনি গ্রোয়েনের একাংশ(স্পার-১) ধসে যায়,পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, সেখানে প্রায় ৫ মিটার ধসে গেছে। এছাড়া কামালপুর ও তালুকদার পাড়া এলাকায় নদী ভাঙ্গন বেড়েছে। দড়ি পাড়া ও ধলিকান্দী গ্রামের নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় ধুনট উপজেলায় নদী তীর সংলগ্ন পুকুরিয়া ভুতবাড়ি, রাধানগর , শিমুলিয়া ও বৈশাখী সহ ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার ৩ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারে আবার ভাঙ্গন শুরু“ হয়েছে। নদী শাসন ও ভাঙ্গন রোধে নির্মিত এই দুটি স্পারে বেশ কিছু দিন ধরেই ভাঙ্গন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, যমুনার পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চন্দনবাইশা মিনি গ্রোয়েনের ভাঙ্গন ঠেকাতে সিসি ব্লক ও জিওটেক্সর বালু ভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে। ভাঙ্গন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পাউবো বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন।