মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল ২০১২, ২০ চৈত্র ১৪১৮
ভারতে পাচারকালে ৩২ নারী শিশু পুরুষ উদ্ধার
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাগেরহাট, ২ এপ্রিল ॥ বাগেরহাটসহ উপকূলীয় অঞ্চলে থেকে হাজার হাজার নারী-শিশু ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হচ্ছে। এলাকার কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র উচ্চ বেতনে চাকরি, অর্থবিত্তসহ লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে এদের পাচার করে দিচ্ছে। এর মধ্যে শিশু, স্কুলপড়ুয়া ছেলে-মেয়ে, নারী এবং পুরুষও রয়েছে। বিদেশে নিয়ে এদের বেশিরভাগকে বিক্রি করে দিচ্ছে। আবার নারীদের পতিতালয়ে যৌন কাজে ব্যবহার করছে। অনেকেই আর নিজের ঘরবাড়িতে ফিরতে পারছে না। সোমবার সংঘবদ্ধ একটি চক্রের খপ্পরে পড়ে বাগেরহাট ও পিরোজপুর থেকে ভারতে পাচারকালে ৩২ নারী-শিশু ও পুরুষকে উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। এ সময় দুই পাচারকারীকে আটক করা হয়। এদিন সকালে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে যশোরের বেনাপোলগামী বিআরটিসি বাসে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১১জন দুগ্ধপোষ্য শিশু, ৯জন নারী ও ১২ জন পুরুষ রয়েছে। এদের মধ্যে বাগেরহাটের শরণখোলার খুড়িয়াখালী গ্রামের এমদাদুল শেখ, তার স্ত্রী শারমিন বেগম, সৈয়দ ফারাজীর ছেলে এমদাদুল ফারাজী, মোরেলগঞ্জের পাঠামার গ্রামের বিল্লাল খাঁর স্ত্রী পলি বেগম, তার দুই বছর বয়সী ছেলে সিয়াম, নুরুল ইসলাম গাজীর ছেলে বিল্লাল গাজী, সৈয়দ ফারাজীর ছেলে আব্দুর রহিম ফারাজী ও নুরুল হকের ছেলে আলমগীর ফারাজী, শ্রেণীখালীর মনির শেখের ছেলে ফিরোজ শেখ, ফিরোজ শেখের স্ত্রী শিউলী বেগম, বদনীভাঙ্গা গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী রাশিদা বেগম, আড়াই বছরের মেয়ে সুখী, ননদ রেশমা খাতুন, দেবর মিলন, পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার শুভরাজপুর গ্রামের জজ আলীর ছেলে মানিক শেখ, মানিক শেখের স্ত্রী সাজিদা বেগম, দেড় বছরের মেয়ে নাদিয়া, ছেলে খায়রুল ইসলাম (১০), উত্তর বালিপাড়া গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন, তার স্ত্রী ফাহিমা বেগম, বালিপাড়া গ্রামের মিরাজ শেখ, তার স্ত্রী মিনারা বেগম, ছেলে শফিকুল ইসলাম, ৬ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুপুত্র রাহাত, তিন বছরের মেয়ে সালমা খাতুন ও ছেলে রফিকুল ইসলাম (৮), কলারবন গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী রিপা বেগম, দুই বছরের শিশু কন্যা জবা, আব্দুস সামাদের ছেলে রফিকুল ইসলাম, চরবলেশ্বর গ্রামের তৈয়বুর রহমানের ছেলে হালিম হাওলাদার, তৈয়ব হাওলাদারের ছেলে বারেক হাওলাদার। উদ্ধারকৃত নারী ও শিশুদের বাগেরহাট নিরাপদ আবাসনে সেফ কাস্টোডিতে রাখা হয়েছে। এদিকে, আটককৃত দুই পাচারকারী হলো-মোরেলগঞ্জের বদনীভাঙ্গার ইসমাইল খানের ছেলে হাকিম খান ও পিরোজপুর জেলার জিয়ানগরের শুভরাজকাঠি গ্রামের আব্দুর রশিদ গাজীর ছেলে অলি গাজী। আটককৃত পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
বাগেরহাট ডিবি পুলিশের ওসি মোঃ আব্দুল খালেক জানান, বাগেরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা এবং পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলা থেকে কিছু নারী-শিশু ও পুরুষকে বাসে করে ভারতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে একটি চক্র। গোপনে এমন খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের রাস্তা থেকে টেম্পু, নছিমন ও রিকশা আটক করে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় পাচারকারী দুজনকেও আটক করা হয়।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার বহু মানুষ এভাবে দালাল ও পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করছে। পাচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশে উপকূলীয় এলাকা থেকে অনেক নারী ও শিশু ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করছে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধচক্র। পাচারকারীরা এ সব নারী,শিশু ও পুরুষদের লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দিয়ে ভারতে পাচার করছিল। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন।