মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল ২০১২, ২০ চৈত্র ১৪১৮
ময়মনসিংহে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব
অর্ধশত বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ ॥ সোমবার সকালে ময়মনসিংহ সদরের চরঈশ্বরদিয়া গ্রামের উত্তরপাড়ায় একদল সশস্র সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে। সন্ত্রাসী হামলায় এ সময় অর্ধশত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহিলা ও শিশুসহ আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। এলাকাবাসী এ সময় গণধোলাইয়ের পর চার সন্ত্রাসীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। এরা হচ্ছে চরঈশ্বরদিয়া মেম্বার পাড়ার ওয়াদুদ মেম্বারের পুত্র আশরাফুল আলম (২২), আমজাদ আলীর পুত্র আতিকুল ইসলাম (২৫), আব্দুস সালামের পুত্র আল আমিন (১৮) ও বাবুল মিয়ার পুত্র হুমায়ুন (১৭)। ক্রিকেট খেলা ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ চরঈশ্বরদিয়া গ্রামের উত্তরপাড়ার আসাদুজ্জামান জামাল, আবু বকর সিদ্দিক, নাজমুল ও নাহিদের নেতৃত্বে শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী উত্তরপাড়ায় এই হামলা ও লুটপাট চালায়। হামলায় অর্ধশত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোর্শেদুল আলম জাহাঙ্গীরসহ অনেকের বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করে সোমবার সকাল ১০টার দিকে সন্ত্রাসীরা প্রথমে অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী শামছুদ্দিন ওরফে সামের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর শুরু করে ও এক পর্যায়ে বাড়ির সামনে একটি খড়ের পালায় আগুন ধরিয়ে দেয়। একইভাবে পরে সন্ত্রাসীরা উত্তরপাড়ার মৃত রোকন উদ্দিন ব্যাপারীর বাড়ি, রফিকুল ইসলাম সরকারের বাড়ি, অধ্যাপক আজিজুর রহমানের পৈত্রিক বাড়ি, এ্যাডভোকেট মুকসিদুল ও রাজ্জাকসহ অন্তত অর্ধশত বাড়িঘরে এসময় হামলা, ভাংচুর ও লুটতরাজসহ অগ্নিসংযোগ করে। সন্ত্রাসীরা রামদা, ছুরি কিরিচ ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ঘরবাড়ি ও ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। আলমিরা ও শোকেসের তালা ভেঙ্গে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, দলিলপত্রসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। রফিকুল ইসলাম সরকারের ভাতিজা ১৪ বছরের জুয়েল এ সময় অচেতন হয়ে পড়ে। নগদ টাকা ও মেয়ের বিয়ের গহনা লুট হয়ে যাওয়ায় মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি দেয় গৃহবধূ নার্গিস। কিছুতেই কান্না থামছে না কলেজ ছাত্রী লাকী আক্তারের। লাকীর দু ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী। ক’দিন আগে পাকাবাড়ি করার জন্য নগদ টাকা পাঠিয়েছিল তার দু’ভাই। সন্ত্রাসীর হামলার সময় নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণহানীর আশঙ্কায় ও ঘটনার ভয়াবহতায় পুরুষরা নিরাপদে সরে যাওয়ায় সন্ত্রাসীদের এ লুটপাট ছিল নজীরবিহীন। বাধা দিতে গিয়ে এ সময় নাজেহাল ও লাঞ্ছিত হয়েছেন অনেক স্কুল-কলেজের ছাত্রীসহ গৃহবধূ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই সন্ত্রাসীরা নিরাপদে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অভিযোগ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদে সরে যেতে সাহায্য করেছে। এ সময় এলাকাবাসী চার সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশে দেয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি গোলাম সরওয়ার জানান, সন্ত্রাসীদের এই হামলা একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।

তানোরে দুই গ্রামবাসীর সংষর্ঘ
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহীর তানোরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। জমিতে পুকুরের পানি সেচ দেয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে পৌরসভা সদরের গুবিরপাড়া ও সিন্দুকাই গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় তিনঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলাকালে বাড়িঘরে হামলা, দোকানপাট ভাংচুর, ও সিন্দুকাই গ্রামের অর্ধশতাধিক খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগ, বাড়ির মালামাল, গরু-ছাগল লুট করে নেয়া হয়েছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।