মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
৫২১৭১
মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ ২০১০, ২ চৈত্র ১৪১৬
পঞ্চগড়ে এনজিও সংস্থার সঙ্গে সরকারী দফতরের দ্বন্দ্ব চরমে
মুখ থুবড়ে পড়েছে মানব উন্নয়ন প্রকল্প
এ রহমান মুকুল, পঞ্চগড় ॥ মানব উন্নয়নের জন্য সারতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-২ এর সার্বিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শুধুমাত্র পঞ্চগড়ে কর্মরত উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর দুই কর্মকর্তার নিজ ব্যক্তিস্বার্থ পূরণ না হওয়ায় ৯ মাসের এ প্রকল্পের চার মাস চলে গেলেও কাজ চলছে মন্থর গতিতে। ওই দু'কর্মকর্তার সঙ্গে বাসত্মবায়নকারী এনজিও সংস্থাটির এখন আদায় কাঁচকলা সম্পর্ক । এ অবস্থা বিদ্যমান থাকলে প্রকল্পটি ভেসত্মে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমপ্রতি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন ক েউপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কতিপয় সদস্য বাসত্মবায়নকারী এনজিও সংস্থা উত্তরায়ন জনকল্যাণ মহিলা সমিতির (ইজেএমএস) বিরম্নদ্ধে প্রকল্প বাসত্মবায়নে নানা অনিয়ম ও কেন্দ্রের ঘর নির্মাণে ত্রম্নটির অভিযোগ তুলে ধরেন। সভায় উপস্থিত সংস্থার নির্বাহী পরিচালক প্রকল্প বাসত্মবায়নে যেসব অনিয়মসহ কেন্দ্রের ঘর নির্মাণে ত্রম্নটি হয়েছে গত তা শনিবার থেকে এক মাসের মধ্যে করে দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন। এরই প্রেেিত সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদত সম্রাটকে আহ্বায়ক করে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি কেন্দ্রগুলোর শতভাগ কাজ বুঝিয়ে নেবেন।
জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর থেকে প্রকল্পটি চালু হয়। গত বছরের ৮ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তবে উপানুষ্ঠানিক বু্যরোর স্থানীয় দুই কর্মকর্তার অসহযোগিতা এবং সংস্থা দু'টির মধ্যে স্বার্থ-সংশিস্নষ্ট নানা বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে পঞ্চগড় সদর ও বোদা উপজেলায় কাজ শুরম্ন হয় ওই বছরের ১৫ নবেম্বর। ২০ ডিসেম্বর দেবীগঞ্জ উপজেলায় এবং ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি আটোয়ারী ও ২৩ জানুয়ারি তেঁতুলিয়া উপজেলায় কাজ শুরম্ন হয়। প্রকল্পের অধীনে ১৭০টি কেন্দ্রেই শিা কার্যক্রম ও ট্রেড প্রশিণ চললেও কিছু অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ মতে, উপানুষ্ঠানিক শিা প্রকল্পের ওই দুই কর্মকর্তা তাদের মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে কেন্দ্রের ঘরগুলো নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাসত্মবায়নকারী এনজিও সংস্থাটি তাতে রাজি হয়নি। এরপর থেকে সরকারী ওই দফতরের সঙ্গে এনজিও সংস্থাটির দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। কেন্দ্রের সহায়ক-সহায়িকা এব কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের প্রশিণ প্রদানের জন্য মোটা অঙ্কের বরাদ্দ থাকলেও ফান্ড নয়-ছয় করে যেনতেনভাবে প্রশিণ দেয়া হয়েছে। এমনকি বাসত্মবায়নকারী এনজিও সংস্থাটির নিয়োগকৃত প্রশিককে দিয়ে কোন প্রশিণই দেয়া হয়নি। প্রশিণার্থীদের ৫ টাকার খাতা, ৩ টাকার কলমম দেয়া হলেও বরাদ্দ ছিল আরও বেশি । আর হাল্কা চা-নাসত্মাসহ দুপুরের খাওয়া বাবদ মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল এক শ' টাকা। সেখানেও নয়-ছয় করা হয়েছে। গ্রাম-ইউনিয়ন ও উপজেলায় উদ্বুদ্ধকরণ সভা করার বরাদ্দ থাকলেও এখন পর্যনত্ম কোন সভা করা হয়নি। এসব কার্যক্রম পরিচালনা করার দায়িত্ব যে দফতরের ওপর সেই উপানুষ্ঠানিক বু্যরোর সহকারী পরিচালক জালালুম বাঈদের দাবি, কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়মের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। নীতিমালা অনুসরণ করেই তারা সবকিছুই করেছেন। তবে বাসত্মবায়নকারী এনজিও সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কেও রয়েছে নানা অভিযোগ। কেন্দ্রের ঘর নির্মাণে অনিয়ম করা হয়েছে। ঘর নির্মাণে যে বরাদ্দ ছিল তা সমপূর্ণ ব্যয় করা হয়নি। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রগুলোতে সময়মতো উপকরণ সরবরাহ করা হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেন্দ্রগুলোতে ২টি জাতীয় পত্রিকা, ম্যাগাজিন দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে একটি মাত্র জাতীয় পত্রিকা। বাসত্মবায়ন নির্দেশিকাও যথাসময়ে পৌঁছানো হয়নি কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে। আর যে কারণে অনেক কেন্দ্রের শিার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এনজিও সংস্থাটির জেলা সমন্বয়কারী শরীফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, উপানুষ্ঠানিক বুু্যরোর পঞ্চগড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তারা কোন সহযোগিতা পাচ্ছেন না। ফলে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় তাদের নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা উপানুষ্ঠানিক মিটিংয়ের চিঠি সময়মতো তাদের দেয়া হয় না। এ ছাড়াও কমিউনিটি কনটিভিশন বাবদ মোট বরাদ্দের শতকরা ২০ ভাগ তাদের পাওয়ার কথা থাকলেও ওই দু'কর্মকর্তার অসহযোগিতার কারণে তা এখনও পাননি। কেন্দ্রের ঘর নির্মাণ এবং বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করার জন্য অপ্রতুল সরকারী বরাদ্দের কারণে ওই টাকা দিয়ে শতভাগ কাজ করা সম্ভব নয়। এরপরেও কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে তা করে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।