বিদ্যুত উৎপাদন ও ব্যয়ের হিসাব
বিদ্যুত সমস্যা এখন জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। অতিরিক্ত বা অসহ্য গরমে সমস্যা প্রকট হচ্ছে। বিদ্যুত আছে এবং বিদ্যুত নেই। দেশে বিদ্যুত উৎপাদন ও ব্যয়ের হিসেবে আকাশ-পাতাল তফাত সন্দেহ নেই। বিদ্যুত আছে এবং নতুনভাবে উৎপাদন হচ্ছে। মজার বিষয় হচ্ছে-বিদ্যুতের জন্য অধিদফতর, দফতর, পরিদফতর, বিদ্যুত ভবন, ডেসা, পল্লী বিদ্যুতসহ নানা নামে-সংস্থায় ভরপুর। মোট তহবিলের বিশ টাকা দশটি সংস্থা দশ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে খেয়ে ফেললে বাকি থাকে দশ টাকা। বিদ্যুতের ভাগ্য মন্দ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ কোন অভিভাবক কখনও পায়নি।
বৃহত্তর ঢাকা জেলার মধ্যে শ্যামপুর, ফতুল্লা, পাগলা, নারায়ণগঞ্জ, ডেমরা, সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, জয়দেবপুর, শ্রীপুর, গাজীপুর প্রভৃতি এলাকায় স্থাপিত কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুত, গ্যাস, পানি চোরাই পথে স্থাপন করা লাইনের মাধ্যমে চালাচ্ছে। ভ্যাট ও টেক্স ফাঁকি দিচ্ছে। এসব করা সম্ভব হচ্ছে সরকারী যথাযথ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাহায্য-সহযোগিতা ও যোগসাজশে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি এ্যালুমিনিয়াম কারখানায় প্রতিমাসে ৬০-৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুত ব্যবহৃত হলেও মিটারে দেখানো হয় ২০ হাজার ইউনিট।
কলকারখানা পরিদর্শন পরিদফতর আপোস রফার মাধ্যমে মালিক পক্ষের নিকট হতে মাসোহারা গ্রহণ করে থাকে। পরিবেশ দূষণ, শিশুশ্রম, বুড়িগঙ্গায় দূষিত বর্জ নিক্ষেপ সব কিছু হজম করে নেয় অর্থের বিনিময়ে। বিদ্যুত, ওয়াসা, মালিকদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে অপকর্মে লিপ্ত থেকে বিদ্যুতের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে। বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করতে শেষ ঘণ্টায় ৬ ঘণ্টা বিদ্যুত চালু না থাকলেও মিটার বন্ধ থাকছে না। তদুপরি বিলে নানা আইটেম যোগ করে কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মিটার গ্রাহক নিজেরা ক্রয় করলেও আজীবন মিটার ভাড়া দিতে হয়। ডিম্যান্ড পূরণ হলেও জীবনব্যাপী ডিমান্ড চার্জ দিতে হয়। পল্লী বিদ্যুত হাজার হাজার অবৈধ সংযোগ সুযোগ করে দিচ্ছে। এদের সহযোগিতায় দেশে লাখ লাখ মিটার ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ পন্থায়। ডাকাতি করা হচ্ছে কলকারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠানে। জনগণের জানার অধিকার রয়েছে দেশে প্রতিদিন মূল গ্রিড থেকে কি পরিমাণ বিদ্যুত সাপ্লাই করা হচ্ছে এবং কাগজপত্রে তার বিপরীতে কি পরিমাণ বিদ্যুত ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কি পরিমাণ বিদ্যুতের বিল করা হচ্ছে। তা হলে আসল চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে। সরকার প্রতি বছর বাজেট তৈরি করে তাতে আয় ও ব্যয়ের হিসেব তাকে কিন্তু বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তার বালাই নেই কেন। যারা ঘুষ দিয়ে বিদ্যুত ব্যবহার করছে কলকারখানায় সেসব মালিককে শনাক্ত করতে হবে। তাদের এবং বিদ্যুত বিভাগের সকল সংস্থায় কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়-সম্পদ, ব্যাংক হিসেব অনুসন্ধান করে দেখা প্রয়োজন। এরা দেশের সাধারণ জনগণের শত্রু। এরা অন্যের সুখ কেড়ে নিয়ে নিজেরা সুখী হতে দেশকে শত্রুর হাতে তুলে দিতে তৎপর। সময় এসেছে এদের শনাক্ত করে পাকড়াও করার। কিন্তু করবে কে! সরকারের ভেতরে এই খাত দেখভাল করতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকের খুবই অভাব। যাঁরা রয়েছেন তাঁরা অতিরিক্ত অভিজ্ঞতার ভারে চলাফেরা করতে পারেন না এবং বুুদ্ধির চাপে জ্ঞান আটকা পড়ে যাচ্ছে অর্থের বিশাল ওজনে। পরীক্ষা হোক সকলের। এতে বাধা কোথায়?
মোঃ মেছের আলী
কয়কীর্তন, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ
বাংলাদেশের অর্থনীতি...
উপরোক্ত বিষয়ে আপনার পত্রিকায় ৯ মার্চ ড. আরএম দেবনাথ ‘অর্থনীতি কি ঘুরে দাঁড়ানো লক্ষণ দেখাচ্ছে’? নামক প্রবন্ধে অর্থনীতির সূচক সম্বন্ধে সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ। এটি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য শুভ সূচনা। তবে এ ব্যাপারে আমাদের আরও জোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
লেখক বলেছেন যে, সর্বশেষ দেখলাম আয়কর আদায়ও ভাল। তবে জনকণ্ঠের ৮ জুন তারিখের একটা সংবাদ ‘অর্থসঙ্কটে আটকে গেছে রাজস্ব বিভাগের আধুনিকীকরণ’। এটি আমাদের পেছনে নেবে। কারণ, বলা হয়েছে যে দাতাদের আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি। তাই আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধি ছাড়া উপায় নেই।
গত ১২ মার্চের জনকণ্ঠে দেখলাম, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেনÑসরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। তাই এখনই লাগাম টেনে ধরতে হবে। পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী মূল্যবৃদ্ধি ও বাজেট ঘাটতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আমাদের নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা দ্রুত যাচাই করে পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, রিপোর্টে দেখা যায় যে, প্রায় ৮০ হাজার গাড়ি রাস্তায় ফিটনেস ও ট্যাক্স ছাড়া চলছে।
এম আলী
ধানমন্ডি, ঢাকা
হারবাল চিকিৎসার নামে ...
দেশে হারবাল চিকিৎসার নামে একশ্রেণীর কবিরাজ ও হেকিম সাধারণ মানুষের দুর্বলতা ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব চিকিৎসা কেন্দ্রের নামের বাহারী ও চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জানা গেছে, নারী- পুরুষের যৌন দুর্বলতার তথাকথিত চিকিৎসার পাশাপাশি আরও কিছু বিষয়ে মানসিক দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে থাকে তথাকথিত এই চিকিৎসকরা। এর একটি হলো ত্বক ফর্সা করা, পেট ব্যথা, বুক ব্যথা, কাশি, বাতের চিকিৎসা তো আছেই। কোন কোন হারবাল চিকিৎসকের দাবিÑতাদের প্রস্তুতকৃত ওষুধ স্বপ্নপ্রদত্ত এবং ভেষজ উপাদানে তৈরি, যা সর্বরোগের কাজ করে। নিরীহ সাধারণ মানুষ খুব সহজেই এসব লিফলেট ও বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয় এবং ঝাঁপিয়ে পড়ে হারবাল চিকিৎসার প্রতি। তথাকথিত হারবাল চিকিৎসকরা দাবি করছেÑতারা মাদ্রাজ, দিল্লী, কলকাতা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। কুরিয়ারের মাধ্যমেও অবাধে চলে এসব অপচিকিৎসা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, হারবাল ওষুধের নামে যা বেচাকেনা হচ্ছে তা আদৌ ওষুধ নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণের কোন বালাই নেই। উপরন্তু ভেষজ ওষুধের নামে চলে উত্তেজক দ্রব্য তথা মাদক ব্যবসা। হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো ইয়াবাসহ নানা মাদক তথা সাময়িক যৌন উত্তেজক বড়ি ও ক্যাপসুল বিক্রির ক্ষেত্রে। দীর্ঘ ব্যবহারে এসব ওষুধের মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় মানব শরীরে। দেশে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষানির্ভর তথা ওষুধের বাজার দুর্মূল্য হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বভাবতই ছুটছে হারবাল কবিরাজির দিকে।
সঠিকভাবে জনস্বাস্থের উন্নতি করতে হলে অবিলম্বে এসব অপচিকিৎসা ও চিকিৎসালয় বন্ধ করে দিতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাই এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সমীপে অনুরোধ জনস্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অনুরোধ করছি।
অমিত বণিক
কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ
ভোক্তা অধিকার
বাংলাদেশের মতো অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার দেশে সাধারণ ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। নিম্ন এবং নির্দিষ্ট আয়ের জনগণ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের হঠাৎ মূল্য বৃদ্ধির কশাঘাতে জর্জরিত। ভোগ্যপণ্যের মূল্য একবার বাড়লে কোনক্রমেই তা আর কমে না।
এই ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ কম, মুদ্রাস্ফীতি, চাঁদাবাজি, উৎপাদন কম, সিন্ডিকেট এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ইত্যাদির অজুহাত দেখিয়ে প্রতিদিনের আবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়ে চলেছে। অসহায় ক্রেতা সাধারণ বাধ্য হয়ে উচ্চ মূল্যে পণ্য ক্রয় বাধ্য হয়। তাছাড়া সাধারণ নিত্যপণ্যের বাজারে শতকরা ৯৫ ক্রেতাকে কোন না কোনভাবে ঠকতে হয় বিক্রেতার কাছে। বেশি ঠকতে হয় মূল্য বেশি দেয়া এবং ওজন কম দেয়ার ক্ষেত্রে।
তাছাড়া ভেজাল পণ্য তো আছেই। দেখার কেউ নেই। বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্যমিশ্রিত ভেজাল খাদ্যপণ্যে বাজার সয়লাব। দিন দিন ভেজাল খাদ্যের পরিমাণ বাড়ছেই। বাজারে বিক্রেতা সঠিক ওজন দিচ্ছে কিনা এবং অহেতুক মূল্যবৃদ্ধি করে পণ্য বিক্রি করছে কিনা তা দেখার জন্য সরকারী প্রশাসন আছে। প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঝে মধ্যে বাজারে গিয়ে মনিটরিং এবং তদারকি করে থাকেন। তাঁদের এই কর্মকা-ের জন্য উল্লেখযোগ্য কোন উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
জানা যায়, বাজারে ক্রেতা সাধারণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাকে সচেতন করে তোলার জন্য দেশে একটি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর আছে। এ ছাড়া ভোক্তা সাধারণের সংশ্লিষ্ট দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য আছে কনজুমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানদ্বয় তাঁদের কর্মকা- পরিচালনার জন্য পত্রপত্রিকায় সংবাদ হয়। অদ্যাবধি ভোক্তা সাধারণের অধিকার আদায় এবং সংরক্ষিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় না। বাজার অর্থনীতিতে ভোক্তা সাধারণ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।
গত ১৫ মার্চ সারাদেশে নামমাত্র পালিত হলো ভোক্তা অধিকার দিবস। এই দিবস পালনের পর বছরের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী প্রশাসন খুব একটা তৎপরতা থাকতে দেখা যায় না।
অতএব প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট অধিফতর এবং এ্যাসোসিয়েশন যেন ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা, ন্যায্যমূল্যে ও সঠিক ওজনে পণ্য ক্রয় করতে পারে তার জন্য রাজধানী, বিভাগীয় শহর, জেলা-উপজেলা এবং ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাজারে প্রয়োজনীয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে তার ব্যবস্থা করা উচিত।
মাহতাব আলী
মিরপুর, ঢাকা।
মশার দাপট
ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণাঞ্চলের ফরিদাবাদ, গে-ারিয়া, পোস্তগোলা, জুরাইন প্রভৃতি এলাকার ও এর আশপাশের এলাকাবাসী ইদানীং মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। কিছুদিন ধরে ঢাকা মহানগরীর সর্বত্রই মশককুলের দাপট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অবস্থা এমন অসহনীয় হয়ে উঠেছে যে, রাতের বেলায় কোন কাজই সুষ্ঠুভাবে করা যাচ্ছে না। এ বিড়ম্বনা শুধু কি ঢাকা নগরীতে না, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। শুধু কি তাই, মশার কামড় থেকে হাসপাতালের রোগীরাও পর্যন্ত নিস্তার পাচ্ছে না। এমন অসহনীয় অবস্থা আর যাই হোক, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে দীর্ঘদিন চলতে দেয়া ঠিক নয়। পুরান ঢাকার নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিধায় এ এলাকায় মশার উৎপাত বেশি। সে জন্য মশার উপদ্রব রোধ করার জন্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কর্মসূচী জোরদার করা উচিত। এমতাবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে পুরান ঢাকাসহ সর্বত্র মশার অত্যাচার রোধ করার জন্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ করছি।
এম. ইউ. চৌধুরী
গে-ারিয়া, ঢাকা।
কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করুন
রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলা মূলত কৃষিপ্রধান অব্জল। এখানে ছোট-বড় কোন রকম শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। ব্যবসা-বাণিজ্য সব কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এ এলাকার জনসাধারণ যেহেতু কৃষির ওপর নির্ভরশীল সেজন্য বাগমারা উপজেলার সাধারণ কৃষক যাতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে এবং আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে ভাল বীজ, সার, কীটনাশক, সেচের পানি ও কৃষি উপকরণের সাহায্যে আবাদ করে স্বল্প ব্যয়ে অধিক ফসল উৎপাদন করে লাভবান হতে পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে। কেবল ব্যাংক ঋণ বা আর্থিক অনুদানের মধ্যেই এই ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সহায়তা দিতে হবে। উন্নতমানের বীজ, সার ও সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষাবাদ করতে বাগমারা উপজেলার জনসাধারণ যাতে সরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি সহায়তা পায় সেজন্য সরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উপকেন্দ্র বাগমারা উপজেলায় স্থাপনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
জাহেদুর রহমান ইকবাল
বাগমারা, রাজশাহী।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমীপে
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখা-১ থেকে গত ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি পত্রের মাধ্যমে জানতে পারলাম এক নিয়োগ বিধিমালার আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অন্য নিয়োগ বিধিমালার ফিডার পদধারী হিসেবে গণ্য হয়ে পদোন্নতির যোগ্য বলে বিবেচিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। সুতরাং ঞযব ঈড়সঢ়ঁঃবৎ চবৎংড়হহবষ (এড়াবৎহসবহঃ ধহফ খড়পধষ অঁঃযড়ৎরঃরবং) জবপৎঁরঃসবহঃ জঁষবং, ১৯৮৫ এর আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর/কম্পিউটার অপারেটররা বাংলাদেশ সচিবালয় (ক্যাডার বহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন গেজেটেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা ২০০৬-এর আওতায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদের ফিডার পদধারী হিসেবে গণ্য হয়ে পদোন্নতির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না (কপি সংযুক্ত)। গত ১৪.০৩.২০১২ তারিখে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ে হিসাব শাখার কয়েকজন অফিস সহকারী এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে জ্যেষ্ঠতা তালিকা তৈরি করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির জন্য বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশন সচিবালয়, ঢাকায় পাঠানো হয়েছে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদোন্নতি সিনিয়র ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এবং হিসাব শাখার অফিস সহকারী পদোন্নতি পেয়ে অতিঃ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখা-১ এর পত্র অনুযায়ী কোনক্রমেই তারা প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদোন্নতির যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। এভাবে এক নিয়োগ বিধিমালার কর্মচারী অন্য নিয়োগ বিধিমালার সঙ্গে জ্যেষ্ঠতা করলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মচারী দীর্ঘদিন চাকরি করেও সঠিক সময়ে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হবে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করা হবে। ইচঝঈ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নথি পুনরায় ফেরত এবং নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা তালিকা করার ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো।
উপর্যুক্ত বিষয়াবলী সুবিবেচনা করে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা করে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
মোঃ ইলিয়াস হোসেন
বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।
নিরাপত্তা চাই
১০১২ সালের বিশ্ব সাংবাদিকতা দিবসের প্রধান বিষয় হওয়া উচিত ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করা। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। এ পর্যন্ত দেশে যত সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে এর কোন সুষ্ঠু বিচার হয়নি। সম্প্রতি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনীকে নৃশংসভাবে হত্যার তদন্তে কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। দুঃখজনক হলেও সত্য, সাংবাদিক নয় গোটা জাতি শঙ্কিত সাংবাদিক দম্পতি খুন হবার আদৌ কোন বিচার পাওয়া যাবে কি? আইনশৃঙ্খলার উন্নতি-অবনতি কোন কথা নয়, সাংবাদিকদের হত্যাকারীদের গোয়েন্দা বা পুলিশ ধরছে না। এটাই বিস্ময়কর। আসুন সাংবাদিক সমাজকে নিয়ে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকারীসহ সকল সাংবাদিকদের হত্যার বিচারের দাবিতে আরও সোচ্চার হই এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে চাপ সৃষ্টি করি।
মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী
ফরিদাবাদ, ঢাকা
বিলুপ্তির পথে মধুপুর শালবন
হাজার বছরের প্রাচীন মধুপুর বিলীন হয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও নৃ-জনগোষ্ঠী বিশেষ করে গারোদের সরকারী জমিতে জমিদারের মতো মনোভাবের ফলে এ বনের পাঁচ ভাগের মধ্যে ইতোমধ্যে চার ভাগই উজার হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভাগ এগুলো দেখেও দেখে না। রহস্যজনক কারণে তারা নীরব হয়ে থাকে। ম্যানগ্রোভ, সুন্দরবন ও চট্টগ্রামের পাহাড়ী বনাঞ্চলের পর দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বন এই মধুপুর শালবন। এটি দেশের মধ্যাঞ্চলীয় বনভূমি হিসেবেও পরিচিত। এর বিস্তৃতি গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার অংশজুড়ে। এমনকি এক সময় এ বনের সীমানা রাজধানী ঢাকার কাঁটাবন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, যা এখন শুধুই বইয়ে লেখা ইতিহাস। প্রায় ৪৫ হাজার ৫৬৫.৩৮ একর নিয়ে মধুপুর শালবন বা গজারি বন। এই বিশাল বনভূমির প্রায় ৩৫ হাজার একর এখন জবরদখলকারীদের হাতে চলে গেছে। বন উজার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা ছল-ছুঁতোয় বনাঞ্চলের ভূমিও বেদখল হয়ে গেছে। বন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতন হতে হবে। আমাদের যেটুকু বনাঞ্চল রয়েছে তা রক্ষা করতে এখনই উদ্বুদ্ধ হই, অন্যদের উদ্বুদ্ধ করি।
মো. ছালামত প্রধান
মহাখালী, ঢাকা।