মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ৩১ মার্চ ২০১২, ১৭ চৈত্র ১৪১৮
বার্ড ফ্লু ও পোল্ট্রি শিল্প
বাজারে হঠাৎ করেই ডিমের দাম উর্ধমুখী। মুরগির দামও বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে বার্ড-ফ্লু। এ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস বা বার্ড-ফ্লুর কারণে হাজার হাজার মুরগি মারা যাচ্ছে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বন্ধ হয়ে গেছে বহু খামার।
বাজারে ফ্লু আক্রান্ত মুরগি বিক্রি হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে লোকজন। রাজধানীর প্রধান প্রধান মুরগি বাজারে সমীক্ষা চালিয়ে প্রায় অর্ধেকেই এ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার জীবাণুধারী মুরগি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিসিডিআর’বি)-এর গবেষণায় মার্চে এবং গত ফেব্রুয়ারিতে ৩ জনের দেহে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে দেশে মোট এ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ জন। এটা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক ঘটনা।
উল্লেখ্য, এ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সংক্রামিত হয় এবং এই ভাইরাসে আক্রান্ত মুরগির সংস্পর্শে গেলে মানুষের দেহেও এই ভাইরাস সংক্রামিত হয়। এ কারণে এ ব্যাপারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। রোগাক্রান্ত মুরগি যাতে কিছুতেই বাজারে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।
বাংলাদেশে পোল্ট্রি একটি বিকাশমান শিল্প। এই শিল্পে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সরাসরি জড়িত। জানা গেছে, ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগও রয়েছে এ শিল্পে। কিন্তু বার্ড-ফ্লু এই শিল্প বিকাশের প্রধান অন্তরায়। এই রোগের কারণে বিভিন্ন দেশে অসংখ্য হাঁস-মুরগি মারা গেছে। আতঙ্কে অনেক হাঁস-মুরগি মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
বাংলাদেশে ২০০৭ সালে প্রথম বার্ড-ফ্লু শনাক্ত হয়। এর পরের বছর সারাদেশে ব্যাপকহারে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে লাখ লাখ হাঁস-মুরগি মারা যায়, কিছু কিছু আবার মেরে ফেলা হয়। এতে পোল্ট্রি শিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
মাঝে বার্ড-ফ্লুর আতঙ্ক কমে এলেও ইদানীং আবার তা দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বার্ড-ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আমাদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পোল্ট্রি শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ শিল্পটি অবহেলার শিকার।
২০০৮-এ ব্যাপক আকারে বার্ড-ফ্লুর আক্রমণের পর উচিত ছিল এ ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের। দেশের আনাচে-কানাচে পোল্ট্রি শিল্প গড়ে উঠেছে। এ কারণে পোল্ট্রি শিল্পে বায়ো-সিকিউরিটি বা জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। হাসপাতালগুলোতে যাতে বার্ড-ফ্লু প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ওষুধ পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ট্রি শিল্প মালিকদের পাশেও দাঁড়াতে হবে। আমাদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এর কোন বিকল্প নেই।