রবিবার, ২৫ মার্চ ২০১২, ১১ চৈত্র ১৪১৮ 
অসি-ক্যারিবীয় সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডে আজ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় আর অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ বাঁচানোর লড়াই, চতুর্থ ম্যাচে পোলার্ডের দুরন্ত সেঞ্চুরিতে এগিয়ে স্বাগতিকরা
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিক ক্যারিবীয়দের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়েছে পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়া। ১৬ মার্চ কিংস্টনের পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ৬৪ রানের বড় জয় দিয়ে শুরু করলেও, পরের তিন ম্যাচেই জয়হীন রয়েছে তারা। ফলে ২-১ এ সিরিজে পিছিয়ে থেকে আজ জর্জ ইস্টল্যান্ডে নামতে হচ্ছে শেন ওয়াটসনের দলকে। দ্বিতীয় ও পরশুর চতুর্থ ওয়ানডেতে যথাক্রমে ৫ উইকেট ও ৪২ রানে সফরকারীদের হারায় ড্যারেন সামির উইন্ডিজ। আর কিংস্টাউনের তৃতীয় ওয়ানডেটি রুদ্ধশ্বাস টাইয়ে অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। সুতরাং আজকের ম্যাচটি তাই সফরকারীদের জন্য মান ও সিরিজ দুটোই বাঁচানোর লড়াই। সিরিজ বাঁচানোর হিসেবটা সহজ। প্রথম ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারলে অন্তত সিরিজ হারের জ্বালায় পুড়তে হবে না স্টিভওয়াহর উত্তরসূরিদের। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে যা সফরকারীদের জন্য হবে অনুপ্রেরণার। অন্যদিকে সামি বাহিনী জিতলে ৩-১ এ সিরিজ নিশ্চিত করবে সেটি হবে ক্যারিবীয়দের জন্য অনেক বড় কৃতিত্বের। কারণ ১৮ মার্চ কিংস্টনের দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অর্ধযুগ পর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সাফল্যের দেখা পেয়েছিল ব্রায়ান লারার উত্তরসূরিরা! অভাবনীয় সেই কৃতিত্বটাকেই আরও ওপরে তুলে ধরার সুযোগ স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে। সামির নেতৃত্বাধীন তরুণ ক্যারিবীয়রা তাই আজ মোটেই ছেড়ে কথা বলবে না। চতুর্থ ম্যাচে রান খরা কাটিয়ে সে উদ্যোগে আরও স্বপ্নাতুর করে তুলেছে স্থানীয় ব্যাটসম্যানরা।
প্রথম তিন ম্যাচই যেখানে ছিল কেবল লো-স্কোরিং আর বোলারদের দৌরাত্ম্যপূর্ণ। পরশু তৃতীয় ম্যাচে উল্টোটা দেখল জর্জআইলেস্টবাসী। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৯৪ রান করে উইন্ডিজ। জবাবে ৪৬.৩ ওভারে ২৫২ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। বলা ভাল দেখালেন পাওয়ার হিটার কাইরন পোলার্ড। অসি বোলারদের নাস্তানাবুদ করে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন ত্রিনিদাদিয়ান হিরো। ৬ নম্বরে নেমে ৫ চার ও ৮টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে মাত্র ৭০ বলে ১০২ রান করেন ২৪ বছর বয়সী নতুন ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং দৈত্য! স্ট্রাইক রেট ১৪৫.৭১। এ সেঞ্চুরির মধ্য দিয়ে ৫৫ ওয়ানডেতে ১২ শতাধিক রান পূর্ণ করেন তিনি। ১৪৬ রানে পঞ্চম উইকেট পড়ে যাওয়ার পর উইকেটে আসেন তিনি এবং অসি বোলারদের পাত্তা না দিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান। ঝড়ো সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্রেটলির বলে মাইক হাসির হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ম্যাচের নায়ক পোলার্ড। শেষ দিকে ভাল ব্যাট চালান এন্ড্রু রাসেল ও অধিনায়ক ড্যারেন সামি। রাসেল ৩২ বলে ৩৪ রান করে আউট হলেও সামি মাত্র ১৩ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কার সাহায্যে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া ওপেনার আদ্রিয়ান বারাথের ৪১ ও জনসন চার্লেসের ৩৭ রান ছিল উল্লেখযোগ্য। অসিদের হয়ে ব্রেটলি, শেন ওয়ানটসন ও জাভিয়ের ডোহার্টি প্রত্যেকে নেন ২টি করে উইকেট। জবাবে দুটি হাফসেঞ্চুরি এলেও, ক্যারিবীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে নিয়মিত উইকেট হারায় অসিরা। দলের পক্ষে ম্যাথু ওয়েডে ৫৭, সর্বোচ্চ ব্রেটলি ৫৯, ওয়াটসন ২৮ ও পিটার ফরেস্ট ২৪ রান করে আউট হন। স্বাগতিকদের হয়ে কেমার রোচ, ডোয়াইন ব্রাভো, ড্যারেন সামি ও এন্ড্রু রাসেল প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন।
স্কোর ॥ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৯৪/৭ (৫০ ওভার; বারাথ ৪১, ড্যারেন ব্রাভো ২৫, কাইরন পোলার্ড ১০২ ও ড্যারেন সামি অপ : ৩৪; ওয়াটসন ২/৫৫, ডোহার্টি ২/৬৪)। অস্ট্রেলিয়া ২৫২/১০ (৪৬.৩ ওভার; ওয়াটসন ২৮, ডেভিড হাসি ৫৭, ব্রেটলি ৫৯; রাসেল ২/৩৪, সামি ২/৪২)।
|